কেরানীগঞ্জে ট্রিপল মার্ডার

সাবেক স্ত্রী খুনের তথ্য গোপন করতে আরও দুই খুন

ঢাকার কেরানীগঞ্জের আগানগরে গলা কাটা লাশের কিছু অংশ ও হাসনাবাদ এলাকায় কাটা হাত-পা উদ্ধারের ঘটনায় রহস্য উদঘাটন ও হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানা পুলিশ।

আজ সোমবার বিকেলে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানায় আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান কেরানীগঞ্জ সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. জাহাঙ্গীর আলম।

সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার বলেন, গত ২৫ এপ্রিল রাতে ৯৯৯-এর মাধ্যমে জানতে পারি কালীগঞ্জ মাকসুদা গার্ডেন সিটির সামনে বস্তায় একটি মহিলার খণ্ডিত মৃতদেহ পড়ে আছে। খবর পেয়ে পুলিশ গিয়ে লাশটি উদ্ধার করে সুরতহাল রিপোর্ট তৈরি করে। এর ২ দিন পরে পোস্তগেলায় নদীতে অপর একটি লাশের কয়েকটি অংশ উদ্ধার করে পুলিশ। পরপর দুই দিন লাশের বিচ্ছিন্ন অংশ উদ্ধরে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হলে থানা পুলিশ মূল রহস্য উদঘাটনের জন্য ঘটনাস্থলের পাশে থাকা একটি সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ, গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ ও তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় ঘটনার সহিত সরাসরিভাবে জড়িত আসামি মহিউদ্দিন হাওলাদার ওরফে শিমুলকে জুরাইন রেললাইন এলাকা থেকে আটক করে।

তিনি বলেন, জিজ্ঞাসাবাদে তিনি স্বীকার করেন নিহত বিথী আক্তার তার কারখানায় চাকরি করতেন। চাকরির সুবাদে তার সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। পরে ২০১৭ সালে তারা বিয়ে করেন। বিষয়টি তার প্রথম স্ত্রী রুমা জানতে পারলে তিনি বিথী আক্তারের সঙ্গে বিবাহবিচ্ছেদ করেন। এতে বিথী রুবেল নামে অন্য একটি ছেলেকে বিয়ে করেন। ওই ঘরে তার রাফসান নামে একটি পুত্র সন্তান জন্ম নেয়। ঘাতক মহিউদ্দিন ওরফে শিমুল পুনরায় বিথীর সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপন করে এবং বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে স্বামী-স্ত্রী পরিচয় দিয়ে মীরেরবাগ এলাকায় বাসা ভাড়া নিয়ে তার সঙ্গে সংসার করতে থাকেন।

তিনি আরও বলেন, শিমুল তার প্রথম স্ত্রী রুমাসহ রাজধানীর কদমতলী থানার জুরাইনে একটি বাড়িতে ভাড়াটিয়া হিসেবে থাকতেন। এই ঘটনাটি পরে তার প্রথম স্ত্রী আবার জানতে পেরে তার সঙ্গে বিভিন্ন সময় ঝগড়া-বিবাদে জড়ান। এদিকে বিথী শিমুলকে বিয়ের জন্য চাপ প্রয়োগ করতে থাকেন। এমতাবস্থায় গত ২৫ এপ্রিল সকালে শিমুল বিথী আক্তারের বাসায় চলে আসেন।

এ সময় তাদের মধ্যে ব্যাপক ঝগড়া হয়। এক পর্যায়ে শিমুল গামছা দিয়ে বিথীকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করেন। হত্যার ঘটনাটি দেখে ফেলায় বিথীর শিশু সন্তান রাফসানকেও শ্বাসরোধ করে হত্যা করেন তিনি। এসব ঘটনা দেখে ফেলে ওই ফ্ল্যাটে সাবলেট থাকা প্রতিবেশী নূপুর। তিনি চিৎকার করলে তাকেও গামছা দিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়। পরে মৃতদেহগুলো বাথরুমে নিয়ে টুকরো টুকরো করে কেটে বিভিন্ন প্লাস্টিকের বস্তায় ভরে বিভিন্ন স্থানে ফেলে দেওয়া হয়। শিশু রাফসানের ছয় টুকরা লাশ বস্তাবন্দি করে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের বেয়ারা এলাকায় একটি ঝোপের মধ্যে ফেলা হয়। নুপুরের খণ্ড-বিখণ্ড লাশ রাতে মাকসুদা গার্ডেন সিটির সামনে ফেলে দেয় এবং বিথীর খণ্ড-বিখণ্ড বস্তাবন্দি লাশ বুড়িগঙ্গা দ্বিতীয় সেতুর ওপর থেকে নদীতে ফেলে দেন।

পরে স্বাভাবিক অবস্থায় তিনি তার জুরাইনের বাসায় চলে যান। তার স্বীকারোক্তি অনুযায়ী, রবিবার দিনগত রাতে শিশুপুত্র রাফসানের ৬ টুকরো করে লাশ বেয়ারা পূর্বপাড়া মিন্টু মিয়ার জমির ঝোপঝাড়ের মধ্য থেকে উদ্ধার করা হয়। তবে বিথী ও নূপুরের মাথা উদ্ধার করা যায়নি, বলে উল্লেখ করেন তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানা ওসি মাজহারুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন। গ্রেপ্তারকৃত আসামি মহিউদ্দিন হাওলাদার ওরফে শিমুলের বাবা মৃত রুস্তম আলী। তার গ্রামের বাড়ি বাগেরহাটের গোয়ালবাড়ীয়াতে। এ ঘটনায় মামলা প্রক্রিয়াধীন বলে জানান পুলিশ সুপার।