‘সুপ্রিম কোর্টে বিচারক নিয়োগ অধ্যাদেশ, ২০২৫’ এর ৩, ৪, ৬ ও ৯ ধারা চ্যালেঞ্জ করে সংশোধনীর নির্দেশনা চেয়ে করা রিট আবেদন পর্যবেক্ষণসহ নিষ্পত্তি করেছে উচ্চ আদালত। সোমবার বিচারপতি মো. আকরাম হোসেন চৌধুরী ও বিচারপতি দেবাশীষ রায় চৌধুরীর হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেয়।
রিট আবেদনের পক্ষে শুনানিতে ছিলেন আইনজীবী জয়নুল আবেদীন, বদরুদ্দোজা বাদল, কায়সার কামাল ও শিশির মনির। তাদের সঙ্গে ছিলেন আইনজীবী আজমল হোসেন খোকন।
অ্যাডভোকেট আজমল হোসেন খোকন দেশ রূপান্তরকে বলেন, হাইকোর্ট এ রিট আবেদনটি নিষ্পত্তি করে বলেছেন, রায়ে তারা পর্যবেক্ষণ দেবেন। এখন কি পর্যবেক্ষণ দেবেন তা রায় পেলে জানা যাবে। গত ২৬ ফেব্রুয়ারি হাইকোর্টে এ রিট আবেদনটি করা হয়। আবেদনে রুলের আরজিসহ অধ্যাদেশটি স্থগিতের আরজি জানান আইনজীবী।
সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ ও হাইকোর্ট বিভাগে বিচারক নিয়োগের উদ্দেশ্যে উপযুক্ত ব্যক্তি বাছাই করে প্রধান বিচারপতি কর্তৃক রাষ্ট্রপতিকে পরামর্শ দিতে গত ২১ জানুয়ারি এ অধ্যাদেশের এ গেজেট জারি হয়। অধ্যাদেশের ৩ ধারায় প্রধান বিচারপতিকে চেয়ারপারসন করে একটি সুপ্রিম জুডিশিয়াল অ্যাপয়েন্টমেন্ট কাউন্সিল গঠনের কথা বলা হয়েছে। ৪ ধারায় সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেলকে কাউন্সিলের সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন, ৬ ধারায় ৪৫ বছরের নিচে কাউকে বিচারক হিসেবে নিয়োগ না দেওয়া এবং ৯ ধারায় আপিল বিভাগের একজন বিচারক (কর্মে প্রবীণ ও কাউন্সিলের সদস্য) সুপ্রিম কোর্টে বিচারক নিয়োগে সুপারিশ করতে পারবেন বলে বলা হয়েছে।
রিটের যুক্তিতে বলা হয়, ৩ ধারা অনুযায়ী, সুপ্রিম কোর্টের বিচারকদের এমনভাবে রাখা হয়েছে যাতে তাদের মধ্যে স্বার্থের দ্বন্ধ হতে পারে। এ ছাড়া কাউন্সিলে সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির কোনো প্রতিনিধি রাখা হয়নি। ৪ ধারা অনুযায়ী, কাউন্সিলের সচিব হবেন সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেল। আবার তিনি (রেজিস্ট্রার জেনারেল) হাইকোর্ট বিভাগের বিচারক প্রার্থীও হতে পারবেন।
৬ ধারা অনুযায়ী, সুপ্রিম কোর্টের বিচারক হওয়ার জন্য ন্যুনতম বয়স ৪৫ ধরা হয়েছে, যা সংবিধানের পরিপন্থী এবং এর ফলে অনেক যোগ্য প্রার্থী বঞ্চিত হবেন। এ ছাড়া অধ্যাদেশের ৯ ধারায় আপিল বিভাগের একজন বিচারক সুপারিশ করবেন বলা হয়েছে। অথচ আপিল বিভাগের বিচারকও কাউন্সিলের মাধ্যমে নিয়োগ পাবেন বিধায় এটি আইনের সঙ্গে সাংঘর্ষিক হবে।