১৪ বছর আগে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজের (চমেক) শিক্ষার্থী আবিদুর রহমান আবিদকে পিটিয়ে হত্যার মামলায় বিচারিক আদালতের রায়ে খালাসপ্রাপ্ত ১২ জনকে আত্মসমর্পণ করতে নির্দেশ দিয়েছেন উচ্চ আদালত। আদেশের ৩০ দিনের মধ্যে তাদের বিচারিক আদালতে আত্মসমর্পণ করতে হবে।
মঙ্গলবার (২৯ এপ্রিল) খালাসের রায়ের বিরুদ্ধে করা আবেদনের ওপর শুনানি নিয়ে বিচারপতি মো. জাকির হোসেন ও বিচারপতি সৈয়দ জাহেদ মনসুরের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের দ্বৈত বেঞ্চ এ আদেশ দেন।
হাইকোর্টে এ আবেদনটি করেন আবিদের মামা নেয়ামত উল্লাহ। তিনি এ মামলার বাদী ছিলেন। ঘটনার সময় আবিদ চমেকের ৫১তম ব্যাচের বিডিএস তৃতীয় বর্ষের ছাত্র ছিলেন। তার বাড়ি কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার উত্তর বড়ইতলী গ্রামে। আসামিরা চমেক ছাত্রলীগ (বর্তমানে নিষিদ্ধ) শাখার নেতাকর্মী ছিলেন।
যাদের আত্মসমর্পণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে তারা হলেন, ছাত্রলীগ নিয়ন্ত্রিত ছাত্র সংসদের তখনকার সহসভাপতি (ভিপি) মফিজুর রহমান জুম্মা, চমেক ছাত্রলীগ শাখার সাবেক সভাপতি সোহেল পারভেজ, সাধারণ সম্পাদক বিজয় সরকার, সহসাধারণ সম্পাদক হিমেল চাকমা, ফেরদৌস রাসেল, শান্ত দেবনাথ, মাহফুজুর রহমান, ধীমান নাসির উদ্দিন পাটোয়ারী, দেবাশীষ চক্রবর্তী, মোস্তফা কামাল, রাশেদুর রেজা সানি ও সালমান মাহমুদ সিদ্দিকী ওরফে রাফসান।
মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, ২০১১ সালের ১৯ অক্টোবর দিনে ও রাতে তিন দফা পিটুনির পর চিকিৎসার সুযোগ না দিয়ে আবিদুর রহমানকে তার বোনের বাসায় পাঠিয়ে দেওয়া হয়। আবিদের চিকিৎসা নিতেও বাধা দেন আসামিরা। পরদিন তাকে চমেক হাসপাতালে ভর্তির চিকিৎসাধীন অবস্থায় ওই বছরের ২১ অক্টোবর রাতে মারা যান আবিদ। এ হত্যার ঘটনায় ছাত্রলীগের তৎকালীন ২২ নেতা-কর্মীর বিরুদ্ধে ওই বছরের ২৩ অক্টোবর চট্টগ্রামের পাঁচলাইশ মডেল থানায় মামলা করেন আবিদের মামা নেয়ামত উল্লাহ।
শুনানি শেষে ২০১৯ সালের ১০ জুলাই চট্টগ্রামের অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ জান্নাতুল ফেরদৌস চৌধুরী এক রায়ে আসামিদের খালাস দেন। খালাসের রায়ের বিরুদ্ধে বিলম্ব মার্জনা চেয়ে হাইকোর্টে রিভিশন আবেদন করেন এ মামলার বাদী।
আদালতে আবেদনের পক্ষে শুনানিতে ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মো. ওজিউল্লাহ ও আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির। অ্যাডভোকেট শিশির মনির সাংবাদিকদের বলেন, ‘খালাসের রায়ের বিরুদ্ধে বাদী একটি রিভিশন আবেদন করেছিলেন। হাইকোর্ট সকল আসামিকে নিম্ন আদালতে আত্মসমর্পণের নির্দেশসহ রুল দিয়েছেন।’