আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবস বা (বাংলাদেশে মে দিবস নামে পরিচিত) এই দিবস সম্পর্কে মনে প্রাণে ধারণ ও এর ইতিহাস সম্পর্কে সবার জানা উচিত বলে মন্তব্য করেন ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির সদস্য সচিব মো. মোস্তফা জামান।
বৃহস্পতিবার বিকালে রাজধানী নয়াপল্টনে মহান মে দিবস উপলক্ষে জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের উদ্যোগে আয়োজিত সমাবেশে দেশ রূপান্তরের সঙ্গে একান্ত আলাপকালে তিনি এ মন্তব্য করেন।
তিনি বলেন, আজকে এই দিনে মালিক শ্রমিক সবাই মিলেমিশে একাকার হয়ে গেছে। সবার মাথায় লাল-সবুজের পতাকা, মুখে হাসি, বুকে একরাশ স্বপ্ন নিয়ে দলে দলে লোক বিএনপির এই কেন্দ্রীয় কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করেছে।
তিনি আরও বলেন, ১৮৮৬ সালে যুক্তরাষ্ট্রে শিকাগো শহরে হে মার্কেটে ৮ ঘণ্টা শ্রমদিনের দাবিতে আন্দোলনরত শ্রমিকের উপর গুলি চালায়ে ১১ জন শ্রমিক নিহত হয়। তখনই সৃষ্টি হয় আন্তর্জাতিক শ্রম দিবস। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডায় এই দিবস পালিত হয় না। অন্যান্য দেশ তুলনায় আমাদের বাংলাদেশে মে দিবস খুবই গুরুত্বপূর্ণ ভাবে পালিত হয়। এ দিবসকে ঘিরে নানামুখী আয়োজন ও অনেকে যৌক্তিক দাবি দাওয়াও তোলেন। এসময় শ্রমিকদের মূল্যায়ন ও শ্রম দিবস কে সাধারণ শিক্ষার্থীদের মাঝে ছড়িয়ে দিতে সরকারের কাছে অনুরোধ জানান।
এর আগে, ‘মে দিবস দিচ্ছে ডাক, বৈষম্য নিপাত যাক’- এই স্লোগানের মধ্য দিয়ে নয়া পল্টনে শুরু হয় জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের শ্রমিক সমাবেশ। দুপুর ২টা ১০ মিনিটে কোরআন তেলাওয়াতের মধ্য দিয়ে শুরু হয় সমাবেশের কার্যক্রম। বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনের লম্বা সড়ক সেই ফকিরাপুল থেকে শুরু করে কাকরাইল মোড় পর্যন্ত হাজারও শ্রমিকের উপস্থিতিতে সমাবেশটি রূপ নেয় জনসমুদ্রে।
সমাবেশে মাথায় লাল টুপি, গায়ে লাল গেঞ্জি পড়ে আসা শ্রমিকদের কণ্ঠের অন্যতম স্লোগান ছিল, ‘দুনিয়া মজদুর এক হও, লড়াই করো’। আন্তর্জাতিক শ্রমিকদের এই সার্বজনীন স্লোগানের পাশাপাশি ‘অবিলম্বে সংসদ নির্বাচন চাই, নির্বাচন দিতে হবে দিতে হবে’ এই স্লোগানও উচ্চারিত হয়েছে সর্বক্ষণ।