সপ্তাহ দুয়েকের মধ্যে কৃষক যে ধান গোলায় তুলতে পারতেন ইটভাটার বিষাক্ত গ্যাস ও কালো ধোঁয়ায় নষ্ট হয়ে গেছে সেই ধান। এতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন শতাধিক কৃষক ও নষ্ট হয়ে গেছে ১৫ একর ক্ষেতের প্রায় এক হাজার থেকে ১২শ মণ ধান। উপজেলার বহুরিয়া ইউনিয়নের বহুরিয়া বহুরিয়া ও গোড়াই ইউনিয়নের পাথালিয়া পাড়া এলাকায় গত কয়েকদিনে এ ঘটনা ঘটেছে।
কৃষক ও এলাকাবাসীর অভিযোগ, কয়েকদিন আগে বহুরিয়া এলাকার এমএসবি, আরবিসি ও বাটা নামক তিনটি ইটভাটার আগুন নেভানোর সময় সেখান থেকে নির্গত বিষাক্ত গ্যাস ও কালো ধোঁয়ায় এই ক্ষতি হয়েছে। এতে ওই এলাকার ৫টি প্রজেক্টের আওতাধীন অন্তত ১৫ একর জমির ধান ঝলসে নষ্ট হয়ে গেছে।
এর আগে ওই এলাকায় স্থাপিত নতুন ৭টি ইটভাটার অনুমোদন না থাকায় পরিবেশ অধিদপ্তর অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানে কিলন ও চিমনি গুঁড়িয়ে দিয়ে ইটভাটাগুলো বন্ধ ঘোষণা করা হয়। কিন্তু ইটভাটার মালিকরা অস্থায়ী চিমনি তৈরি করে ইট প্রস্তুত অব্যাহত রাখে।
বহুরিয়া এলাকার ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক জুয়েল মিয়া বলেন, ইটভাটা থেকে নির্গত বিষাক্ত গ্যাসে তার ২০ শতাংশ জমির ধান নষ্ট হয়েছে। ক্ষতিপূরণ হিসেবে ইটভাটার মালিক অনেককে ক্ষতিপূরণের টাকা দিয়েছেন কিন্তু তা ক্ষতির তুলনায় একেবারেই কম।
রাজিয়া নামের এক গৃহবধূ বলেন, বিল্লালের ইটভাটার আগুনে তার ৮০ শতাংশের একটি ক্ষেত ও ফরিদের ইটভাটায় তার ৩০ শতাংশ ক্ষেতের ধান নষ্ট হয়ে গেছে। ক্ষতিপূরণ দরকার নাই আমাগো ধান দিক, গরুর খড় দিক।
পাথালিয়া পাড়ার তাসলিমা নামের এক গৃহবধূ অভিযোগ করেন, ফরিদ ও মনির নামের দুইজনের ইটভাটার আগুনে আমার দুইটি ক্ষেতের ধান নষ্ট হয়ে গেছে। ফরিদ তার ৮ শতাংশ জমির জন্য শতাংশ প্রতি মাত্র ২শত টাকা করে দিয়েছেন। কিন্তু মনির কোন টাকা দেয়নি।
বিরন সিকদার নামের এক কৃষক বলেন, ইটভাটার বিষাক্ত গ্যাসে এই এলাকার ৫টি প্রজেক্টের কইলা, সাইফুল, বদু, আনন্দ রাজবংশী, বাছেদসহ প্রায় শতাধিক কৃষকের ক্ষেতের ধান নষ্ট হয়ে গেছে। ইটভাটার ধোঁয়ায় এলাকার কৃষি আবাদ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, গাছের ফল নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।
এমএসবি ইটভাটার মালিক ফরিদ বলেন, আমি প্রজেক্টের লোকদের এ পর্যন্ত ১২ একর জমির ক্ষতিপূরণ দিয়েছি। এরমধ্যে ৫৩৯ শতাংশ জমির জন্য ক্ষতিপূরণ হিসেবে শতাংশ প্রতি ৫শত টাকা ও কাউকে কাউকে সবনিম্ন ২শত টাকা করে দিয়েছি।
এইচইউবি ইটভাটার মালিক মনির বলেন, আমার ইটভাটায় কোন ক্ষেতের ধান পুড়েনি। যার ভাটার আগুনে পুড়েছে সে ক্ষতিপূরণ দিয়েছে।
বহুরিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবু সাইদ মিয়া বলেন, বিষয়টি আমি শুনেছি কিন্তু আমার কি করার আছে। এ বিষয়ে প্রশাসন যা ব্যবস্থা নেওয়ার নেবে।
উপজেলা কৃষি অফিসার মাহমুদা খাতুন বলেন, বিষাক্ত গ্যাসে ধান নষ্ট হওয়ার বিষয়টি আমি উপজেলা পরিষদের মিটিংয়ে উত্থাপন করেছি। ভবিষ্যতে ওই জমিতে কৃষি আবাদের সম্ভাবনা কম। কৃষি বিভাগের প্রত্যয়নপত্র ছাড়াই ইটভাটাগুলো পরিচালিত হচ্ছিল বলেও জানান তিনি।