বিপিএল দিয়ে শুরু হয়েছিল। তারপর থেকেই বিতর্ক যেন পিছু ছাড়ছে না বিসিবি সভাপতি ফারুক আহমেদের। সম্প্রতি কয়েকদিনেই তার বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ উঠেছে। যার সবশেষটি ফ্যাসিস্ট রেজিমের ঘনিষ্ঠ বলে অভিযোগ উঠেছে। তবে এসব অভিযোগকে ভিত্তিহীন বলেই উড়িয়ে দিলেন তিনি। তার মতে দায়িত্ব নেওয়ার আট মাসে অনেক ভালো কাজ করেছে বর্তমান বোর্ড। তবে এসব আড়ালে চলে যায় অপ্রয়োজনীয় সমালোচনার কারণে। পাশাপাশি ভারতের বিপক্ষে নির্ধারিত সিরিজ নিয়ে আশাবাদ প্রকাশ করেছেন বিসিবি সভাপতি।
আজ ঢাকা তৃতীয় বিভাগ ক্রিকেট লিগের বাছাইয়ের ফাইনালের পুরস্কার বিতরণ শেষে গণমাধ্যমের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেনে বিসিবি সভাপতি ফারুক আহমেদ।
তিনি বলেন, ‘আমি জানি, অনেক সময় ভালো কাজগুলো খারাপ কাজের আড়ালে চাপা পড়ে যায় বাইরের প্রভাবের কারণে। তবে আমরা ভালো কাজের প্রশংসা করব, খারাপ কাজের সমালোচনাও করব—এটাই স্বাভাবিক। অনেক সময় ভালো কাজগুলো খারাপের ভিড়ে হারিয়ে যায়।’
তিনি বলেন, ‘এই পদ নিয়ে অনেকের আগ্রহ থাকে, যা স্বাভাবিক। কে দায়ী, সেটা নির্দিষ্ট করে বলা মুশকিল। আপনারা গণমাধ্যম যদি সত্যটা তুলে ধরেন, নিরপেক্ষ থেকে কাজ করেন, তাহলে অপ্রয়োজনীয় সমালোচনার হাত থেকে আমরা মুক্তি পাব। আমি এমন একজন মানুষ, যাকে নিয়ে গঠনমূলক সমালোচনা করলে আমি মেনে নিই। তবে কিছু সমালোচনা একেবারেই অপ্রয়োজনীয়। তা না করলেই ভালো, তাতে মনোযোগে ব্যাঘাত ঘটে না। আমার দায়িত্ব হচ্ছে বাংলাদেশের ক্রিকেটকে এগিয়ে নেওয়া।’
সাদা পোশাকের ক্রিকেটে খেলোয়াড় সংকট নিয়ে প্রশ্ন উঠলে বিসিবি সভাপতি বলেন, ‘লংগার ভার্সন আসলেই একজন খেলোয়াড়ের ধৈর্য পরীক্ষা করে। অনেক দেশ আছে যারা অন্যান্য ফরম্যাটে ভালো করছে, কিন্তু টেস্ট ফরম্যাটে নিচের দিকে। টেস্টে ভালো করতে হলে নির্দিষ্ট পরিকল্পনা লাগে, খেলোয়াড়দের সুযোগ-সুবিধা বাড়াতে হয়। আর এসব একদিনে হবে না। আপনি কতটুকু অগ্রাধিকার দিচ্ছেন, সেটাই বড় বিষয়।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের দলে এখন ছোটখাটো ট্রানজিশন চলছে। তিন-চারজন খেলোয়াড় দলে থেকে সরে গেছে। এখন যারা সেই জায়গাগুলো নিতে চায়, তাদের তৈরি করে তোলার দায়িত্ব আমাদের। যদি তাদের ঠিকভাবে গড়ে তুলি এবং ধরে রাখতে পারি, তাহলে ভবিষ্যতে ফল পাওয়া যাবে। আমরা পাইপলাইন নিয়ে কাজ করছি। কিন্তু এখনো সেটি ভঙ্গুর। আরও বড় পরিকল্পনা নিতে হবে, যেন নিয়মিত নতুন খেলোয়াড় পাই।’
ভারতের বিপক্ষে আসন্ন সিরিজ প্রসঙ্গে ফারুক আহমেদ বলেন, ‘এই মুহূর্তে ভারতের পক্ষ থেকে আমাদের কাছে সিরিজ নিয়ে তেমন কিছু জানানো হয়নি। একটি ভারতীয় সংবাদমাধ্যমে একটি খবর দেখেছি। তবে ভারত পুরো সফর কনফার্ম করেছে, আইটেনারিও তৈরি হয়ে গেছে। আমি আইসিসির সভায় দুইবার গিয়েছি। জয় শাহের সঙ্গেও কথা হয়েছে, নতুন সেক্রেটারি দেবজিৎ সইকিয়ার সঙ্গেও আলোচনা করেছি। আমার মনে হয়, সেখান থেকেই আমরা একটি আইটেনারিও পেয়েছি। এখনও মনে করি, এই সিরিজটি নির্ধারিত সময়েই অনুষ্ঠিত হবে।’
নিজেকে নিয়ে ওঠা রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ নিয়ে বিসিবি সভাপতি বলেন, ‘এই অভিযোগ পুরোপুরি ভিত্তিহীন। এটি সম্পূর্ণ মিথ্যা। যদি আমার ঐ ‘ফ্যাসিস্ট রেজিম’-এর সঙ্গে সম্পর্ক থাকত, তাহলে আজ আমি আপনাদের সামনে সাংবাদিক সম্মেলনে উপস্থিত থাকতাম না। আমি কিন্তু বর্তমান নতুন সরকারের আমলে বিসিবির সভাপতি হয়েছি—এটা বোঝা জরুরি। বিন্দুমাত্র সংশ্লিষ্টতা থাকলে আমি আজ এখানে থাকতাম না। আমি স্পষ্টভাবে বলতে চাই—এই ধরনের ভিত্তিহীন অভিযোগ করে বিভ্রান্তি ছড়ানোর চেষ্টা যেন কেউ না করে।’