‘জনমতের প্রতিফলন ঘটিয়ে আদালত আমাকে মেয়র ঘোষণা করবেন’

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের নায়েবে আমির ও বরিশাল সিটি করপোরেশনের ২০২৩ সালের নির্বাচনে ‘হাতপাখা’ প্রতীকে ইসলামী আন্দোলনের মেয়রপ্রার্থী মুফতি সৈয়দ মো. ফয়জুল করিম বলেছেন, ‘ঢাকা দক্ষিণ ও চট্টগ্রাম সিটির মতোই বরিশালেও জনগণের ভোটের প্রতিফলন ঘটিয়ে আদালত আমাকে মেয়র হিসেবে ঘোষণা করবেন—এই প্রত্যাশাই আজ আমরা করছি।’ 

শনিবার (৩ মে) বেলা ১১টায় বরিশাল প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি অভিযোগ করেন, ২০২৩ সালের ১২ জুন অনুষ্ঠিত নির্বাচনে বরিশালবাসীর আস্থা তার প্রতীক ‘হাতপাখা’র পক্ষে থাকলেও ভোটের দিন কেন্দ্র দখল, এজেন্টদের বের করে দেওয়া, হামলা ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ফলাফলকে পাল্টে ফেলা হয়। 

নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, ‘আমরা বরিশাল নগরের জনগণের খেদমতের লক্ষ্যে নাগরিক সুবিধা নিশ্চিত করতে নির্বাচনী ট্রাইব্যুনালে মামলা করেছি। এই মামলাকে গুরুত্বপূর্ন হিসেবে গ্রহণ করা হয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘নির্বাচনের দিন আমি নিজে হামলার শিকার হই। সন্ত্রাসীদের আঘাতে গুরুতর আহত হয়েছি। এরপর নির্বাচন কমিশন ও পুলিশ কমিশনার বরাবর লিখিত অভিযোগ দিলেও আমাদের কোনো কপি দেওয়া হয়নি।’

তৎকালীন নির্বাচন কমিশনার কাজী হাবিবুল আউয়ালের বক্তব্যের সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘তিনি বলেছিলেন আমি তো মারা যাইনি। এটি ছিল ঘৃণ্য ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মন্তব্য।’

সংবাদ সম্মেলনে তিনি ২০২৪ সালের স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনের শহীদ ও আহতদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে বলেন, ‘ছাত্র-জনতার আত্মত্যাগে আমরা একটি নতুন বাংলাদেশ পেয়েছি। এখন সময় আইনের শাসন ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার। বরিশালের জনগণ সেই আশাতেই মামলা করেছে।’

পরিশেষে তিনি সাংবাদিকদের মাধ্যমে সরকারের কাছে দাবি জানান, বরিশালের আপামর জনসাধারণের ন্যায়সঙ্গত দাবির প্রতিফলন ঘটিয়ে যেন আদালত তাকে মেয়র ঘোষণা করেন।

সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন ফয়জুল করিমের আইনজীবী অ্যাডভোকেট শেখ আব্দুল্লাহ নাসির, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মহানগর সভাপতি লোকমান হাকিম, সিনিয়র সহসভাপতি মাওলানা সৈয়দ নাসির আহমেদ কাওসার প্রমুখ।

প্রসঙ্গত, ২০২৩ সালের ১৭ এপ্রিল অনুষ্ঠিত বরিশাল সিটি করপোরেশন (বিসিসি) নির্বাচনের ফল বাতিল ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ সমর্থিত হাতপাখা প্রতীকের প্রার্থী মুফতি সৈয়দ মো. ফয়জুল করীমকে মেয়র ঘোষণা করতে আদালতে মামলা করা হয়। ওই মামলায় দুইবার শুনানি পিছিয়ে ফের ৫ মে দিন ধার্য করেন আদালত।