নারী সংস্কার কমিশনের বিতর্কিত ও সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক সুপারিশগুলো পর্যালোচনার জন্য বিশেষজ্ঞ কমিটি গঠনের নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে একটি রিট আবেদন করা হয়েছে। আবেদনে কমিশনের বেশকিছু প্রস্তাবকে শরীয়ত, ধর্মীয় অনুভূতি ও সংবিধানের পরিপন্থি বলে দাবি করে তা চ্যালেঞ্জ করা হয়েছে।
আজ রবিবার সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী রওশন আলী এই রিটটি দায়ের করেন।
আইনজীবী জানান, ‘উইমেন রিফর্ম কমিশন রিপোর্ট, ২০২৫’-এর ৩, ৪, ৬, ১০, ১১ ও ১২ নম্বর অধ্যায়ে যেসব সুপারিশ করা হয়েছে, তা ইসলামী শরীয়তের বিধানের বিরোধী, দেশের মানুষের ধর্মীয় বিশ্বাসের পরিপন্থি এবং সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। এ কারণেই তিনি আদালতের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন।
সম্প্রতি প্রকাশিত ৩১৮ পৃষ্ঠার এই রিপোর্টটি বিভিন্ন মহলে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। রিটকারীর অভিযোগ, এতে যেসব সুপারিশ করা হয়েছে, তা ইসলামী মূল্যবোধ, জাতীয় সংবিধান এবং দেশের ধর্মপ্রাণ মানুষের চিন্তা-চেতনার সঙ্গে সাংঘর্ষিক।
রিপোর্টের অধ্যায় ১১-তে পুরুষ ও নারীর জন্য সমান উত্তরাধিকার সংক্রান্ত প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে, যা পবিত্র কোরআনের সুরা নিসা (৪:১১)-এর স্পষ্ট বিধানের পরিপন্থি বলে দাবি করা হয়েছে।
এছাড়া, রিপোর্টে বহুবিবাহ নিষিদ্ধ করার সুপারিশ রয়েছে, যা শরীয়তে অনুমোদিত এবং সংবিধানের ৪১ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী নাগরিকের ধর্মচর্চার স্বাধীনতার পরিপন্থি।
‘My Body, My Choice’ স্লোগানকে শর্তহীন সমর্থনের মধ্য দিয়ে রিপোর্টে শরীয়ত নির্ভর নৈতিকতার সীমা অতিক্রম করা হয়েছে বলে রিটে বলা হয়।
এ ছাড়া, যৌনকর্মকে একটি বৈধ পেশা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার প্রস্তাব, সংবিধানের ২(ক) ও ২৬ অনুচ্ছেদের সঙ্গে সাংঘর্ষিক এবং ইসলামি মূল্যবোধের বিরোধী বলেও অভিযোগ উঠেছে।
রিপোর্টে লিঙ্গ পরিচয় ও ট্রান্সজেন্ডার সংক্রান্ত ভাষা ও সুপারিশগুলোকেও শরীয়তবিরোধী ও ধর্মীয় মূল্যবোধে আঘাতকারী হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
এই রিটে তিনটি মন্ত্রণালয় এবং উইমেন রিফর্ম কমিশনের চেয়ারম্যানকে বিবাদী করা হয়েছে।
বিচারপতি ফাতেমা নজিব ও বিচারপতি শিকদার মাহমুদুর রাজীর হাইকোর্ট বেঞ্চে চলতি সপ্তাহেই আবেদনটির ওপর শুনানি হতে পারে বলে জানা গেছে।