নীরবতা ভেঙে সরব হচ্ছে সিলেটের ক্রিকেট

দীর্ঘ নীরবতার পর ফের সরব হচ্ছে সিলেটের ক্রিকেটাঙ্গন। বৃষ্টিভেজা মৌসুমেও ক্রিকেটের ব্যাট-বলের রোমাঞ্চ ফিরিয়ে আনতে যাচ্ছে সিলেট জেলা ক্রীড়া সংস্থা। জাতীয় দল থেকে শুরু করে বিভাগীয় ও জেলা দল, এমনকি প্রথম ও দ্বিতীয় বিভাগের সেরা ক্রিকেটারদের নিয়ে শুরু হচ্ছে ‘ডিএসএ কাপ টি-টোয়েন্টি ক্রিকেট লিগ’।

ছয়টি দলে ভাগ হয়ে মাঠে নামবেন সিলেটের ক্রিকেটাররা। আগামীকাল মঙ্গলবার (৬ মে) সিলেট জেলা স্টেডিয়ামে টুর্নামেন্টের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হবে। এর আগে সোমবার বিকেল ৪টায় দলগুলোর ফটোসেশন ও জার্সি উন্মোচন অনুষ্ঠিত হবে।

আজ রবিবার দুপুর ১২টায় সিলেট জেলা ক্রীড়া ভবনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলন করে এসব তথ্য জানান সিলেট জেলা ক্রীড়া সংস্থার নবগঠিত এডহক কমিটির সদস্য অ্যাডভোকেট এমরান আহমদ চৌধুরী।

এসময় এডহক কমিটির সদস্যসচিব মো. নূর হোসেন ছাড়াও সংবাদ সম্মেলনে এডহক কমিটির সদস্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় দলের সাবেক ফুটবলার সাহাজ উদ্দিন টিপু, নাজিম উদ্দিন সাহান, ওয়াহিদ উমায়ের ও ইয়াহইয়া ফজল। তারা সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন।

সংবাদ সম্মেলনে এমরান আহমদ চৌধুরী বলেন, ‘আমরা এডহক কমিটির দায়িত্ব নেওয়ার পর বৃষ্টি শুরু হয়ে যায়। ক্রিকেট লিগ আয়োজনের সময় বা সুযোগ আমাদের হাতে ছিল না। কিন্তু আমরা চেয়েছি লিগ না হলেও যাতে ক্রিকেটটা মাঠে আনা যায় এবং ক্রিকেটাররা অন্তত খেলার সুযোগ পান। এই অল্প সময়ে বৃষ্টির ঝুঁকি থাকা সত্ত্বেও আমরা টুর্নামেন্ট আয়োজনের সিদ্ধান্ত নেই এবং ক্রিকেট সংশ্লিষ্টদের সহযোগিতায় অবশেষে আগামী ৬ মে থেকে শুরু হচ্ছে ক্রিকেট টুর্নামেন্ট।’

প্রথম পর্বে রবিন লিগ পদ্ধতিতে অনুষ্ঠিত হবে টুর্নামেন্টটি। প্রতিটি দল খেলবে একে অপরের বিপক্ষে। প্রতিদিন মাঠে গড়াবে দুটি করে ম্যাচ। শীর্ষ দুই দলকে নিয়ে অনুষ্ঠিত হবে ফাইনাল। বৃষ্টির কারণে ফাইনাল ম্যাচটি যাতে বিঘ্ন না হয়, সে জন্য রাখা হয়েছে রিজার্ভ ডে।

ছয়টি দলের নামকরণ করা হয়েছে দেশের নদীর নামে পদ্মা প্লাটুন, মেঘনা সুপার জায়েন্ট, যমুনা ওয়ারিয়র্স, কুশিয়ারা সুপার কিংস, সুরমা গ্ল্যাডিয়েটর ও বাসিয়া টাইটানস। প্রতিটি দলের জন্য একজন করে স্পন্সর খোঁজার কাজ চলছে বলেও জানান আয়োজকরা।

দলগুলোতে কারা খেলছেন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘সিলেটের যেসব ক্রিকেটার জাতীয় দলে প্রতিনিধিত্ব করছেন তারা খেলবেন। পাশাপাশি সিলেট জেলা ও বিভাগীয় ক্রিকেট দলের খেলোয়াড়, প্রথম ও দ্বিতীয় বিভাগের ক্রিকেটারদের নিয়ে ছয়টি দল সাজানো হয়েছে। লটারির মাধ্যমে খেলোয়াড় নির্বাচন হয়েছে। কোচ, সহকারী কোচ ও ম্যানেজারও লটারির মাধ্যমে চূড়ান্ত করা হয়েছে।’

জেলা ক্রীড়া সংস্থার পক্ষ থেকে সিলেটবাসীকে মাঠে এসে খেলা উপভোগ করার আহ্বান জানানোর পাশাপাশি সবার সহযোগিতায় কামনা করা হয়েছে। সিলেট জেলা ক্রীড়া সংস্থার খেলাধুলায় গতি আনতে ও সারা বছর যাতে সব ইভেন্টের খেলা পর্যায়ক্রমে অনুষ্টিত হতে পারে সে লক্ষ্যে তারা বর্তমান কমিটি কাজ করবে। এজন্য ক্লাব কর্মকর্তা, সংগঠক, খেলোয়াড়সহ ক্রীড়া সংশ্লিষ্ট সবার সর্বাত্মক সহযোগিতা চেয়েছেন তারা।