ছক্কার পর ছক্কা—ইডেন গার্ডেনে যেন ধ্বনিত হচ্ছিল কেবল একটাই নাম, রিয়ান পারাগ। দুই ওভারের টানা ছয় বলে ছয়টি ছক্কা হাঁকিয়ে যখন কলকাতা নাইট রাইডার্সের গলা শুকিয়ে দিলেন, তখন মনে হচ্ছিল ইতিহাসের পাতায় নতুন এক অধ্যায়ের সূচনা হতে যাচ্ছে। কিন্তু ক্রিকেট তো ভাগ্য আর স্নায়ু যুদ্ধের খেলা। আর সেই যুদ্ধে শেষ হাসি হেসে মাঠ ছেড়েছে কলকাতা নাইট রাইডার্স।
রুদ্ধশ্বাস উত্তেজনার এক ম্যাচে এক বল বাকি থাকতে মাত্র ১ রানে জয় তুলে নিয়েছে নাইটরা। আইপিএলের প্লে-অফ স্বপ্ন টিকিয়ে রাখার লড়াইয়ে এই জয় এনে দিল স্বস্তির নিঃশ্বাস।
ইডেন গার্ডেনে টসে জিতে ব্যাট করে শুরুটা তেমন ঝলমলে ছিল না কলকাতার। কিন্তু শেষদিকে রাসেল-রিংকু ঝড়ে ছিন্নভিন্ন হয়ে যায় রাজস্থানের বোলিং। ২০ ওভারে মাত্র ৪ উইকেট হারিয়ে স্কোরবোর্ডে জমা হয় ২০৬ রান। এই ইনিংসের শেষ পাঁচ ওভারে আসে ৮৫ রান, আর শেষ তিন ওভারে তো ৫৭!
প্রথম ৯ বলে মাত্র ২ রান করা আন্দ্রে রাসেল এরপর যেন রূপ নেন বিধ্বংসীতে। পরের ১৬ বলে ৫৫ রান! চারটি চার, ছয়টি ছক্কায় ২৫ বলে ৫৭ রানে অপরাজিত থাকেন ক্যারিবীয় তারকা। অন্য প্রান্তে রিংকু সিং ছয় বলে ১৯ রানে ঝড়ো সমর্থন দেন তাকে।
জবাবে ব্যাট করতে নেমে শুরুতেই ধাক্কা খায় রাজস্থান। চতুর্থ বলে সূর্যবংশী আর পরের ওভারে রাঠোর ফিরে যান। এরপর যশস্বী জয়সোয়ালের সঙ্গে রিয়ান পরাগ মিলে গড়েন ৫৮ রানের জুটি। কিন্তু মোড় নেয় খেলার চিত্রনাট্য। জয়সোয়ালকে ফেরান মঈন আলী, এরপর ধ্রুব জুরেল ও হাসারাঙ্গাকে ফিরিয়ে রাজস্থানের ব্যাটিংকে ধসিয়ে দেন বরুণ চক্রবর্তী।
তখন মনে হচ্ছিল ম্যাচ কলকাতার দিকেই যাচ্ছে। কিন্তু রাজস্থান অধিনায়ক রিয়ান পরাগ তখনো লড়ছেন। হেটমায়ারকে সঙ্গে নিয়ে জমিয়ে দেন ম্যাচ। ১৩ ও ১৪তম ওভারে টানা ছয়টি বৈধ বলেই মারেন ছয়টি ছক্কা! গোটা ইডেন তখন স্তব্ধ।
প্রথম টি-টোয়েন্টি সেঞ্চুরি থেকে মাত্র ৫ রান দূরে থাকতে পরাগ যখন ক্যাচ দিয়ে ফিরে যান, তখন রাজস্থানের স্বপ্নও খানিকটা ফিকে হয়। ৪৫ বলে ৯৫ রানে সাজঘরে ফিরলেও ছয়টি চার আর আটটি ছক্কা হাঁকিয়ে তিনি আগুন জ্বালিয়ে গেছেন কলকাতার ঘরেই।
শেষ ওভারে দরকার ছিল ২২ রান। ব্যাট হাতে ঝড় তোলেন শুভম দুবে। বৈভব অরোরার করা প্রথম পাঁচ বলে ডাবল, সিঙ্গেল, ছক্কা, চার ও ছক্কায় ১৬ রান তুলে ফেলেন তিনি। শেষ বলে দরকার তিন রান। এক রান নিয়েই দ্বিতীয় রান নিতে গিয়ে রানআউট হন জফরা আর্চার। আর তাতেই ১ রানের জয়ে উল্লাসে ফেটে পড়ে কলকাতা।
১১ ম্যাচে ১১ পয়েন্ট নিয়ে প্লে-অফের দৌড়ে এখনো ভালোমতোই আছে নাইটরা। আর রাজস্থান? তারা হয়তো ভাবছে—এত ছক্কা দিয়েও হারটা এমন হবে, কে জানত!