সিলেটে প্রায় আড়াই হাজার চা শ্রমিক ৫ মাস ধরে বেতনবঞ্চিত। এজন্য তারা মানবেতর জীবনযাপন করছেন। বকেয়া বেতন ও রেশন প্রদানসহ ১১ দফা দাবিতে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন সিলেটের বুরজান চা কোম্পানির তিনটি বাগান ও একটি কারখানার অন্তত ২৫০০ শ্রমিক। টানা আন্দোলন চালিয়ে গেলেও তাদের দাবি পূরণ হচ্ছে না। কোম্পানি কর্তৃপক্ষ বার বার কেবল আশ্বাসই দিয়ে যাচ্ছে।
এ অবস্থায় রবিবার দুপুরে বুরজান, ছড়াগাঙ, কালাগুল চা বাগান ও বুরজান চা কারখানার শ্রমিকরা সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন। সিলেট-কোম্পানীগঞ্জ-ভোলাগঞ্জ আঞ্চলিক মহাসড়কের লাক্কাতুরা চা বাগান এলাকায় তারা সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন। বেলা ৩টার দিকে প্রশাসনের আশ্বাসে শ্রমিকরা সড়ক অবরোধ প্রত্যাহার করে মালনিছড়া বাগানের ভেতরে গিয়ে অবস্থান কর্মসূচি পালন করে তারা।
জানা যায়, দাবি আদায়ে রবিবার দুপুর ১২টার দিকে দিকে চা শ্রমিকরা খণ্ড খণ্ড মিছিল নিয়ে মালনীছড়া চা-বাগানের কালীমন্দির এলাকায় জড়ো হন। পরে তারা মিছিল নিয়ে আম্বরখানা-বিমানবন্দর সড়কের লাক্কাতুরা চা বাগান এলাকায় সড়ক অবরোধ করেন। খবর পেয়ে সেনাবাহিনী, পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা সেখানে যান। চা শ্রমিকরা তখন তাদের দাবি জানিয়ে মিছিল-স্লোগান দিতে থাকেন। দীর্ঘ সময় সড়ক অবরোধের কারণে বিমানবন্দর সড়কে শত শত গাড়ি আটকা পড়ে। যাত্রীরা পড়েন বিপাকে। পরে প্রশাসনের আশ্বাসে বিকাল ৩টার দিকে অবরোধ থেকে সরে দাঁড়ান শ্রমিকরা।
চা শ্রমিকরা জানান, দীর্ঘ পাঁচ মাস ধরে শ্রমিকেরা বেতন, রেশন, চিকিৎসা ও আবাসনসহ অন্যান্য সুবিধা পাচ্ছেন না। ফলে চা শ্রমিকেরা খেয়ে না খেয়ে দিন পার করছেন। কোম্পানি কর্তৃপক্ষ বার-বার আশ্বাস দেওয়ার পরও বকেয়া পরিশোধ করা হচ্ছে না। তাই বাধ্য হয়ে তারা সড়ক অবরোধ করেছেন।
বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়নের সিলেট ভ্যালির সভাপতি রাজু গোয়ালা বলেন, বর্তমানে বাগান থেকে চা পাতা তোলার সময়। এই সময়ে চা পাতা উঠানো না গেলে বাগানের উৎপাদনে বড় ক্ষতি হয়ে যাবে। চা শ্রমিকেরা বেতন বন্ধ থাকায় খেয়ে না খেয়ে দিন পার করছে। শ্রমিকেরা আর কত অপেক্ষা করবে। ৫ মাস ধরে বেতন ও রেশন বন্ধ। দ্রুত এই সমস্যার সমাধান প্রয়োজন।
তিনি বলেন, শ্রমিকদের মজুরি দিয়ে দয়া করে চা শিল্পটাকে বাঁচান। চা শ্রমিকদের যাওয়ার কোন জায়গা নেই। তারা এই কাজ করে কোনমতে জীবন পার করছে।
সিলেট মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপ কমিশনার (গণমাধ্যম) মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বলেন, চা শ্রমিকরা সড়ক অবরোধ করায় যানজট সৃষ্টি হয়েছিল। অবরোধ তুলে নেওয়ার কিছু সময় পর সড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়েছে।
এদিকে সড়ক অবরোধের খবর পেয়ে সিলেট সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা খোশনূর রুবাইয়্যাৎ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে শ্রমিকদের দাবি মানার আশ্বাস দিয়ে জনদুর্ভোগ লাঘবে সড়ক অবরোধ তুলে নেওয়ার অনুরোধ জানান। পরে শ্রমিকরা সড়ক থেকে সরে বাগানের ভিতরে গিয়ে অবস্থান নেন।
সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা খোশনূর রুবাইয়্যাৎ বলেন, আমরা সমস্যা সমাধানে আন্তরিক প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। আশা করছি খুব দ্রুত এই সমস্যার সমাধান হবে।