ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) গঠনতন্ত্রে বড় ধরনের পরিবর্তন আনা হয়েছে। নতুন গঠনতন্ত্র অনুযায়ী ডাকসুর একজন প্রার্থী ও ভোটারের বয়স হতে হবে সর্বোচ্চ ৩০ বছর। তাছাড়া, ডাকসু সভাপতির বিরুদ্ধে করা যাবে মামলা, যা সভাপতির ক্ষমতাকে হ্রাস করবে। গত বৃহস্পতিবার বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম সিন্ডিকেটে গৃহীত হওয়া ‘চূড়ান্ত সংশোধনী প্রস্তাব’-এ ভোটার ও প্রার্থী হওয়ার যোগ্যতা, কার্যক্রমের পরিধি এবং নেতৃত্ব কাঠামোতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আনা হয়েছে।
নতুন গঠনতন্ত্র বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, ধারা ১ এ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) হবে। তবে বেশ কিছু পরিবর্তন এসেছে গঠনতন্ত্রে। তা হলো, পূর্ণকালীন, ভর্তি পরীক্ষার মাধ্যমে ভর্তিকৃত, আবাসিক হলের সঙ্গে যুক্ত শিক্ষার্থীরাই ভোটার ও প্রার্থী হতে পারবেন। এ ছাড়াও ভোটারের সর্বোচ্চ বয়স হবে ৩০ বছর। পাশাপাশি সান্ধ্যকালীন কোর্স, পেশাগত কোর্স, ভাষা কোর্স, পিএইচডি পড়ুয়া ও অধিভুক্ত (পূর্বে ছিল) কলেজের শিক্ষার্থীরা ভোটার হতে পারবেন না।
গঠনতন্ত্রের ধারা ২ এ উদ্দেশ্য ও লক্ষ্যের ব্যাপারে পূর্বে শুধু মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতা সংগ্রামের মূল্যবোধ লালনের কথা উল্লেখ ছিল। কিন্তু বর্তমান গঠনতন্ত্রে জুলাই গণঅভ্যুত্থান ও বাংলাদেশের সকল গণতান্ত্রিক আন্দোলনকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। ধারা ৩ এ সংসদের কার্যাবলির ক্ষেত্রে পূর্বে কমনরুম, পত্রিকা প্রকাশ, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, বিতর্ক প্রতিযোগিতা আয়োজন এব খেলাধুলা আয়োজন এ সবই ছিল ছিল মূল কার্যাবলি। কিন্তু বর্তমান সংশোধনীতে এগুলোর পাশাপাশি ছাত্র-ছাত্রীদের অধিকার সংরক্ষণের প্রতিশ্রুতি, সামাজিক সেবা কার্যক্রম জোরদার, আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় প্রতিযোগিতায় সক্রিয় অংশগ্রহণ ইত্যাদি বিষয় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
গঠনতন্ত্রের ধারা ৪ এ সদস্যপদ, ভোটার এবং প্রার্থী হওয়ার যোগ্যতার ক্ষেত্রে পূর্বে প্রথম অনুচ্ছেদে বর্ণিত মানদ- অনুযায়ী বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল ছাত্র ডাকসুর প্রার্থী ও ভোটার হতে পারতেন। কিন্তু সংশোধিত গঠনতন্ত্র অনুযায়ী কেবল প্রথম বর্ষে ভর্তি হওয়া ছাত্র-ছাত্রী, পূর্ণকালীন অধ্যয়নরত এবং যাদের বয়স ৩০ বছরের নিচে তারাই ছাত্র সংসদের সদস্য ও ভোটার হতে পারবেন।