সিলেট জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি শামসুল ইসলাম চৌধুরী হত্যা মামলায় তার ছেলেসহ ৩ আসামিকে ফাঁসির দন্ড দিয়েছে আদালত। এছাড়া মামলার আরেক আসামিকে ৩ বছরের কারাদন্ড এবং একজন আসামিকে খালাস প্রদান করা হয়েছে। সিলেট বিভাগীয় বিশেষ জজ আদালতের বিচারক শাহাদাৎ হোসেন গতকাল মঙ্গলবার এই রায় প্রদান করেন।
ফাঁসির দন্ডপ্রাপ্তরা হলেন- নিহত শামসুল ইসলাম চৌধুরীর ছেলে মাসুদ আহমদ চৌধুরী মুন্না, মুন্নার সহযোগী জাহের আলী ও আনসার আহমদ। এছাড়া মুন্নার গাড়িচালক বোরহান উদ্দিনকে ৩ বছরের কারাদন্ড প্রদান করা হয়েছে। আরেক আসামি ইসমাঈল হোসেন রানুর বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় আদালত তাকে বেকসুর খালাস প্রদান করেছে। বিশেষ জজ আদালতের পিপি মো. আনছারুজ্জামান এসব তথ্য জানিয়েছেন। তিনি আরও জানান, দন্ডপ্রাপ্ত আসামিরা পলাতক রয়েছেন।
মামলার সংক্ষিপ্ত বিবরণ থেকে জানা যায়, সিলেট নগরীর মীরবক্সটুলার বাসিন্দা অ্যাডভোকেট শামসুল ইসলাম চৌধুরীর ৪ মেয়ে ও ২ ছেলে। দুই মেয়ে প্রবাসে, দুই মেয়ে দেশে স্বামীর বাড়িতে ও বড় ছেলে সপরিবারে ঢাকায় থাকেন। ছোট ছেলে মাসুদ আহমদ চৌধুরী মুন্নাকে নিয়ে শামসুল ইসলাম চৌধুরী মীরবক্সটুলার আজাদী ১১০ নম্বর বাসায় বসবাস করতেন। ২০১১ সালের ১৭ জুলাই পবিত্র শবেবরাতে নামাজরত অবস্থায় শামসুল ইসলাম চৌধুরীকে মাথায় আঘাত করে হত্যা করেন ছেলে মুন্না। এরপর লাশ গুম করতে তিনি মাইক্রোবাসযোগে বাবার লাশ নিয়ে সুরমা নদীতে ফেলে দেন। থানায় গিয়ে তার বাবাকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না দাবি করে জিডিও করেন। পরে আত্মগোপনে চলে যান তিনি। শামসুল ইসলাম চৌধুরীর লাশ উদ্ধারের পর বড় ছেলে মাহমুদ আহমদ চৌধুরী বাদী হয়ে সিলেট কোতোয়ালি থানায় মামলা করেন। মামলা দায়েরের সপ্তাহখানেক পর র্যাব-৯ সদস্যরা আসামি আনসার, বোরহান ও রানুকে গ্রেপ্তার করেন। এদের মধ্যে আনসার ও বোরহান আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।