গত এপ্রিল মাসে কমপক্ষে ১৯৬ জন নারী ও কন্যাশিশু নির্যাতনের শিকার হয়েছে। এর মধ্যে ধর্ষণের শিকার হয়েছে ৮৮ জন, যাদের মধ্যে ৫২ (৫৯%) জন ১৮ বছরের কমবয়সী শিশু। এ ছাড়া ১৯ জন নারী ও কন্যাশিশু দলবদ্ধ ধর্ষণের শিকার হয়েছে এবং ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে ৬ জনকে। গত মাসে কমপক্ষে ১০৫ জন শিশু নির্যাতনের শিকার হয়েছে যাদের মধ্যে ১৫ জন প্রাণ হারিয়েছে এবং ৯০ জন শিশু শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হয়েছে।
গতকাল মঙ্গলবার মানবাধিকার পর্যবেক্ষণ সংস্থা হিউম্যান রাইটস সাপোর্ট সোসাইটির (এইচআরএসএস) মাসিক পর্যালোচনামূলক প্রতিবেদনে এমন তথ্য উঠে এসেছে।
প্রতিবেদন পর্যালোচনায় জানা গেছে, এপ্রিলে ৭৮টি রাজনৈতিক সহিংসতায় মারা গেছে ১১ জন। আহত হয়েছে ৭২৭ জন। নিহত ১১ জনের মধ্যে বিএনপির ৮ ও আওয়ামী লীগের ৩ জন। এপ্রিল মাসে সহিংসতার ৭৮টি ঘটনার মধ্যে বিএনপির অন্তর্কোন্দলে ৩৯টি ঘটনায় ৭ জন নিহত ও আহত হয়েছে ৪৬৭ জন। বিএনপি-আওয়ামী লীগের মধ্যে ২৫টি সংঘর্ষে ৩ জন নিহত ও আহত হয়েছে ২০২ জন। প্রতিবেদনে বলা হয়, ৭৮টি সহিংসতার ঘটনার ৬৯টিই ঘটেছে বিএনপির অন্তর্কোন্দলে ও বিএনপির সঙ্গে অন্যান্য রাজনৈতিক দলের মধ্যে। এতে আরও বলা হয়, মার্চ মাসের তুলনায় এপ্রিলে বিএনপির সঙ্গে আওয়ামী লীগের সংঘর্ষ বৃদ্ধি পেয়েছে এবং জামায়াত ও এনসিপির সঙ্গে সংঘর্ষ কমেছে। এর আগে মার্চে মাসে ৯৭টি রাজনৈতিক সহিংসতার ঘটনায় নিহত হয়েছিল ২৩ এবং আহত ৭৩৩ জন।
প্রতিবেদনে বলা হয়, এপ্রিল মাসেও মানবাধিকার পরিস্থিতির আশানুরূপ উন্নতি হয়নি। এ মাসের মানবাধিকার পরিস্থিতি পর্যালোচনায় দেখা যায়, রাজনৈতিক সহিংসতায় মৃত্যু, নারী নিপীড়ন ও ধর্ষণ, শিশু নির্যাতন, গণপিটুনিতে নির্যাতন ও হত্যা, শ্রমিক নির্যাতন, সাংবাদিকদের ওপর হামলা, বাকস্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ, কারাগারে ও হেফাজতে মৃত্যুর ঘটনা অব্যাহত রয়েছে।
এইচআরএসএসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এপ্রিল মাসে অন্তত ২৯টি ঘটনায় কমপক্ষে ৩৮ জন সাংবাদিক নির্যাতন ও হয়রানির শিকার হয়েছেন। এ ছাড়া গণপিটুনির ২২টি ঘটনায় নিহত হয়েছে কমপক্ষে ১২ এবং আহত ২১ জন। গত মাসে ভারত- বাংলাদেশ সীমান্তে ১০টি হামলার ঘটনায় ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ ) কর্তৃক ৫ বাংলাদেশি নিহত ও ৫ জন আহত হয়েছে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। এ ছাড়া ২৪টি শ্রমিক নির্যাতনের ঘটনায় নিহত হয়েছে ৫ এবং আহত কমপক্ষে ১১৪ জন। মাসের শেষ দশকে সারা দেশে পুলিশের বিশেষ অভিযানে কমপক্ষে ১২ হাজার ৭০০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। যাদের মধ্যে নিয়মিত মামলায় ৭ হাজার ৯০০ এবং ৪ হাজার ৭০০ জনকে অন্যান্য মামলায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, সারা দেশে কারাগারে কমপক্ষে ৯ আসামি মারা গেছেন।