ইয়ামালের যে শট বাচিয়ে ম্যাচের নায়ক হয়ে উঠলেন সোমের

মিলানের সান সিরো স্টেডিয়ামে মঙ্গলবার রাতটা ছিল এক অবিশ্বাস্য নাটকের মঞ্চ। ইন্টার মিলান বনাম বার্সেলোনার চ্যাম্পিয়নস লিগ সেমিফাইনালের দ্বিতীয় লেগে যেন পুরোটাই ছিল সিনেমার চেয়েও নাটকীয়। আর সেই নাটকের কেন্দ্রীয় চরিত্র হয়ে উঠলেন সুইস গোলকিপার ইয়ান সোমের।

ম্যাচের ১১৪তম মিনিটে, যখন গোটা সান সিরো নিঃশ্বাস আটকে অপেক্ষা করছে — তখনই তরুণ স্প্যানিশ সেনসেশন লামিন ইয়ামাল বাঁদিক দিয়ে কাট করে ঢুকে এক বাঁকানো শট নেন, যা প্রায় নিশ্চিত গোল হয়ে উঠছিল। কিন্তু ঠিক তখনই ইয়ান সোমের যেন সময়কে থামিয়ে দিলেন। পুরো শরীর ছুঁড়ে দিয়ে, আঙুলের ডগায় বলটিকে পোস্টের বাইরে ঠেলে দেন। এক অলৌকিক সেভ। পরে যেটাকে সোমের নিজেই বলেন, “একটি বিশেষ সেভ।”

সান সিরোতে মহানাটকের নায়ক ইয়ান সোমের

এই সেভটাই হয়ে উঠল ম্যাচের ভাগ্যনির্ধারক মুহূর্ত। অতিরিক্ত সময়ে ডেভিডে ফ্রাত্তেসির দুর্দান্ত গোলে ইন্টার ৪-৩ ব্যবধানে ম্যাচ জিতে নেয় এবং দুই লেগ মিলিয়ে ৭-৬ ব্যবধানে ফাইনালে জায়গা করে নেয়।

সোমের ম্যাচ শেষে বলেন,“ আমি খুব খুশি। এটা ছিল এক অবিশ্বাস্য ম্যাচ। দল দুর্দান্ত খেলেছে। ইয়ামালের শটটা ঠেকাতে পেরে আমি গর্বিত। ও দারুণ এক প্রতিভা, প্রায়ই ভিতরে ঢুকে শট নেয়। আমি জানি, সেটা ঠেকানো দরকার ছিল।

ইন্টার এই ম্যাচে কয়েকবার লিড হারিয়ে আবার ফিরে এসেছে। প্রথম লেগে ৩-৩ ড্রয়ের পর, মঙ্গলবার আবারও দু’বার এগিয়ে গিয়েও সমতা ফিরিয়ে দেয় বার্সা। ৮৭তম মিনিটে রাফিনহার গোলে যখন মনে হচ্ছিল সব শেষ, তখনই বর্ষীয়ান ডিফেন্ডার আচেরবি ৯৩ মিনিটে সমতা ফেরান। এরপরই অতিরিক্ত সময়ে ফ্রাত্তেসির সেই জয়সূচক গোল।

কোচ সিমোনে ইনজাঘি ম্যাচ শেষে বলেন, "এই দলটি যা করেছে, তা অসাধারণ। বার্সেলোনা দুর্দান্ত প্রতিপক্ষ। কিন্তু আমরা হৃদয় দিয়ে খেলেছি, আত্মবিশ্বাস হারাইনি এক মুহূর্তও।”

সোমেরের অসাধারণ সাতটি সেভ, ইন্টারের প্রত্যাবর্তনের গল্প, বার্সেলোনার তরুণ প্রতিভাদের পরীক্ষা এবং সান সিরোর গর্জনে মঙ্গলবারের রাতটা হয়ে উঠল ফুটবলের এক জ্যান্ত কিংবদন্তি।

এবার ইন্টার অপেক্ষায় ৩১ মে, মিউনিখে ফাইনাল ম্যাচের — প্রতিপক্ষ হবে আর্সেনাল অথবা পিএসজি। ইয়ান সোমের জানিয়ে দিয়েছেন, তিনি এবং তাঁর দল তৈরি। আর “বিশেষ সেভ”-এর সেই রাত? তা চিরকাল লেখা থাকবে ইন্টারের ইতিহাসে সোনার হরফে।