আছিয়া হত্যা মামলা: ফরেনসিক চিকিৎসকদের সাক্ষ্যে সাক্ষ্যগ্রহণ পর্ব শেষ

মাগুরার বহুল আলোচিত শিশু আছিয়া ধর্ষণ ও হত্যা মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ পর্ব শেষ হয়েছে আজ বুধবার। মামলার নবম দিনে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগের দুই চিকিৎসকের সাক্ষ্যের মধ্য দিয়ে রাষ্ট্রপক্ষ সাক্ষ্যগ্রহণ সম্পন্ন করেছে। মাগুরার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক এম জাহিদ হাসান এদিন তাদের সাক্ষ্য গ্রহণ করেন।

রাষ্ট্রপক্ষে মামলা পরিচালনাকারী পাবলিক প্রসিকিউটার (পিপি) মনিরুল ইসলাম মুকুল জানিয়েছেন, সকালেই কড়া পুলিশি প্রহরায় মামলার সব আসামিকে আদালতে হাজির করা হয়। এসময় ঢাকা মেডিকেল কলেজের ফরেনসিক বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. মমতাজ আরা ও সহকারী অধ্যাপক ডা. দেবিকা রায় আদালতে হাজির হয়ে সাক্ষ্য দেন। আগামীকাল ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৪২ ধারা অনুযায়ী আসামিদের জবানবন্দি গ্রহণ করা হবে বলে জানান তিনি। পিপি মুকুল আশা প্রকাশ করেন, সাক্ষ্য ও প্রমাণের ভিত্তিতে আদালত আসামিদের সর্বোচ্চ শাস্তি প্রদান করবেন।

উল্লেখ্য, গত ১ মার্চ শনিবার মাগুরা শহরের নিজনান্দুয়ালী গ্রামে বোনের শ্বশুরবাড়িতে বেড়াতে গিয়ে ৮ বছর বয়সী শিশু আছিয়া ৬ মার্চ ধর্ষণের শিকার হয়। হৃদয়বিদারক এই ঘটনায় মাগুরা ও দেশের বিভিন্ন এলাকায় তীব্র জনরোষ এবং প্রতিবাদের ঝড় ওঠে। ৮ মার্চ আছিয়ার মা আয়শা আক্তার চারজনকে আসামি করে মাগুরা সদর থানায় মামলা করেন।

ধর্ষণের পর আছিয়াকে প্রথমে মাগুরা ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতাল, পরে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, সেখান থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ এবং সবশেষে সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে নেওয়া হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৩ মার্চ ঢাকায় মৃত্যু হয় শিশুটির।

এ ঘটনার পর ১৫ মার্চ প্রধান আসামি হিটু শেখ পুলিশের রিমান্ডে থেকে মাগুরার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়, যেখানে সে একাই ধর্ষণ ও হত্যাচেষ্টার দায় স্বীকার করে। পরে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ১৩ এপ্রিল চার আসামির বিরুদ্ধে তদন্ত প্রতিবেদন আদালতে জমা দেন। অভিযুক্তরা হলেন—আছিয়ার বোনের শ্বশুর হিটু শেখ, বোনের শাশুড়ি জাহেদা বেগম, বোন জামাই সজিব শেখ এবং সজিবের বড় ভাই রাতুল শেখ। এরপর গত ২৩ এপ্রিল আদালত চার্জ গঠন করেন। ২৭ এপ্রিল বাদীসহ তিনজনের সাক্ষ্যের মধ্য দিয়ে শুরু হয় সাক্ষ্যগ্রহণের আনুষ্ঠানিকতা।