ইন্তার-বার্সা 'পাগলামি' সেমিফাইনালকে রাখবেন কতো নম্বর স্থানে

দুই ঘণ্টার ফুটবল, সাত গোল, দশবারের মতো ম্যাচের গতি ও ফলাফলের পালাবদল, একাধিক হৃদয়ভাঙা মুহূর্ত, আর অবিশ্বাস্য এক সমাপ্তি—এই ম্যাচ কোনো স্ক্রিপ্টেড সিনেমা নয়, বরং বাস্তব ফুটবলের সর্বোচ্চ রূপ। বার্সেলোনার বিপক্ষে ইন্তার মিলানের ৪-৩ (দুই লেগে ৭-৬ গোলগড়ে) ব্যবধানে জয় যেন এক ফুটবল-উপন্যাসের মহাকাব্যিক অধ্যায়।
ম্যাচ শেষে ইন্তার ম্যানেজার সিমোনে ইনজাগির অনুভূতি ছিল দর্শকের মতোই রোমাঞ্চিত। মুখে ছিল এক দার্শনিক মন্তব্য, 'হ্যাঁ, আমরা কষ্ট পেয়েছি। তবে কষ্ট ছাড়া তো কোনো ফাইনাল হয় না।'

সত্যিই, এই ম্যাচে ‘কষ্ট’ ছিল না কেবল তাদের জন্য যারা মাঠে ছিলেন, কিংবা যাদের হৃদয়ে লেগে ছিল ক্লাবের রঙ। বাকিদের জন্য এটি ছিল নিখাদ আনন্দ, টানটান উত্তেজনা, আর ফুটবলের এক দুর্দান্ত উৎসব।

স্প্যানিশ সংবাদপত্রগুলোর শিরোনামে জায়গা করে নিয়েছে একটি শব্দ—'এপিক'। আর বার্সেলোনার এক স্টাফের কন্ঠে শোনা যায় “কি পাগলামি!” 
আগের ফাইনাল বনাম সেমিফাইনাল

ইনজাগির কথা ঘুরিয়ে বললে দাড়ায়, 'এমন কোনো চ্যাম্পিয়ন্স লিগ ফাইনাল নেই যা এমন উন্মাদনায় ঠাসা।' গত কয়েক বছরে কয়টা সত্যিকারের 'মহাকাব্যিক' ফাইনাল আমরা দেখেছি? একমাত্র ব্যতিক্রম বলা যায় ২০০৫ সালে ইস্তানম্বুল লিভারপুল বনাম এসি মিলান। 

বরং সেমিফাইনালগুলোই বারবার আমাদের চমকে দিয়েছে। এমন অনেক ম্যাচ আছে যেগুলো দর্শকদের হৃদয়ে গেঁথে গেছে নাটকীয়তা, উত্তেজনা ও নায়কদের নায়কোচিত আচরণের জন্য।

যুক্তরাজ্যের প্রখ্যাত ফুটবল বিশ্লেষক সেরা ১০ সেমিফাইনালের তালিকা করেছেন 

১০.টটেনহ্যাম হটস্পার ৩-৩ আয়াক্স, ২০১৮-১৯
৯. রিয়াল মাদ্রিদ ৩-৪ জুভেন্তাস, ২০০২-০৩
৮. আতলেতিকো ২-২ বায়ার্ন, ২০১৫-১৬
৭. চেলসি ১-১ বার্সেলোনা, ২০০৮-০৯
৬. চেলসি ৩-২ বার্সেলোনা, ২০১১-১২
৫. ম্যানচেস্টার ইউ. ৪-৩ জুভেন্তাস, ১৯৯৮-৯৯
৪. লিভারপুল ৪-৩ বার্সেলোনা, ২০১৮-১৯
৩. ইন্তার মিলান ৩-২ বার্সেলোনা, ২০০৯-১০
২. বার্সেলোনা ৬-৭ ইন্তার মিলান, ২০২৪-২৫
১. ম্যান সিটি ৪-৬ রিয়াল মাদ্রিদ, ২০২১-২২