২০৫০ সালের মধ্যে শূন্য কার্বন নিঃসরণ কোম্পানিতে পরিণত হতে চায় রবি

২০৫০ সালের মধ্যে শূন্য কার্বন নিঃসরণ কোম্পানিতে পরিণত হওয়ার পরিকল্পনা করছে দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম মোবাইল ফোন অপারেটর রবি আজিয়েটা পিএলসি। এরই অংশ হিসেবে ১০০ মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের লক্ষ্যে রবি, ফ্লোসোলার সল্যুশনস লিমিটেড ও গ্রিনপাওয়ার এশিয়া একটি ত্রিপক্ষীয় সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষর করেছে।

কেন্দ্রটি নির্মাণে প্রাথমিকভাবে ১০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার ব্যয় ধরা হয়েছে। প্রতিষ্ঠান তিনটি এতে বিনিয়োগ করবে। এটি হবে দেশের মোবাইল অপারেটরদের মধ্যে জ্বালানি খাতে প্রথম বিনিয়োগ। কেন্দ্রটি নির্মিত হলে বছরে প্রায় ৬৮ হাজার ২০০ টন কার্বন নিঃসরণ কমাবে বলে আশা করছেন প্রকল্পের উদ্যোক্তরা।

আজ বুধবার ঢাকায় রবির করপোরেট অফিসে এমওইউতে সই করেন রবি’র চিফ টেকনোলজি অফিসার (সিটিও) পেরিহান এলহামী আহমেদ মেতাওয়েহ; ফ্লোসোলার সল্যুশনস লিমিটেডের প্রতিষ্ঠাতা ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোস্তফা আজিম কাসেম খান এবং গ্রিনপাওয়ার এশিয়ার প্রেসিডেন্ট পিয়েরিক মোরিয়ে।

অনুষ্ঠানে রবির চিফ কর্পোরেট অ্যান্ড রেগুলেটরি অফিসার শাহেদ আলম বলেন, সারা দেশে প্রায় ৪০ হাজার মোবাইল টাওয়ার সচল রাখতে ১০০ মেগাওয়াটেরও বেশি বিদ্যুৎ লাগে। এর মধ্যে রবির প্রায় ১৬ হাজার টাওয়ার রয়েছে। এজন্য প্রায় ৩০ মেগাওয়াট বিদ্যুতের প্রয়োজন হয়।

‘ইতোমধ্যে রবি’র বিভিন্ন টাওয়ার পরিচালনায় সৌর বিদ্যুতের ব্যবহার শুরু হয়েছে। যার পরিমাণ ৫ শতাংশের মতো। আমাদের লক্ষ্য ২০৫০ সালের মধ্যে নেট জিরোতে যাওয়া। অর্থ্যাৎ রবি’র যত বিদ্যুৎ লাগবে তা নবায়নযোগ্য জ্বালানি থেকে আসবে। সেই লক্ষ্য পূরণেই ১০০ মেগাওয়াটের কেন্দ্রটি স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আশা করি নির্ধারিত সময়ের আগেই আমাদের জিরো কার্বন নিঃসরণের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হবে,’ যোগ করেন তিনি।

অনুষ্ঠানে বলা হয়, সরকারের প্রস্তাবিত মার্চেন্ট পাওয়ার প্ল্যান্ট পলিসির কারণে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে ওই নীতিমালার খসড়া তৈরি করেছে সরকার, যেখানে বলা হয়েছে, বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো সরকারের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি চুক্তি ছাড়াই বিদ্যুৎ উৎপাদন ও গ্রাহকের কাছে সহজেই বিক্রির সুযোগ পাবে। শিগগিরই নীতিমালাটি অনুমোদন হওয়ার কথা রয়েছে।

নীতিমালা অনুমোদনের পরই বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি নির্মাণে চূড়ান্ত চুক্তি এবং অন্যান্য প্রক্রিয়া শুরু হবে জানিয়ে অনুষ্ঠানে জানানো হয়, সবকিছু ঠিক থাকলে প্রকল্পটি বাস্তবায়নে সময় লাগবে ৯ মাস। প্রাথমিকভাবে কক্সবাজারের মাতারবাড়ি, নোয়াখালী ও ঢাকার অদূরের সম্ভাব্য একটি স্থান চিহ্নিত করা হয়েছে। এর মধ্য থেকে একটি স্থান চূড়ান্ত করা হবে।

রবি জানিয়েছে, কেন্দ্রটি থেকে উৎপাদিত বিদ্যুতের মধ্যে তাদের নিজেদের ৩০ মেগাওয়াট চাহিদা পূরণ করে বাকি বিদ্যুৎ বিক্রি করা হবে অন্য গ্রাহকের কাছে। সেজন্য বিদ্যুৎ বিভাগের সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সঙ্গে এ সংক্রান্ত চুক্তি হবে।

অনুষ্ঠানে রবির ভারপ্রাপ্ত সিইও এবং সিএফও রিয়াজ রাশিদ বলেন, ‘ফ্লোসোলার ও গ্রিনপাওয়ার এশিয়ার সঙ্গে একত্রে আমরা নবায়নযোগ্য জ্বালানির ক্ষেত্রে একটি সাহসী দৃষ্টান্ত স্থাপন করছি, যা জলবায়ু সহনশীলতার পথে বাস্তব পরিবর্তন আনতে কার্যকর ভূমিকা রাখবে।’

রবির সিটিও পেরিহান এলহামী আহমেদ মেতাওয়েহ বলেন, ‘কেন্দ্রটি থেকে পরিবেশ বান্ধব বিদ্যুৎ উৎপাদনের ফলে জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমাবে। পাশাপাশি খরচ সাশ্রয় এবং পরিবেশ, সামাজিক ও সুশাসনগত দায়িত্বের ক্ষেত্রেও বাংলাদেশের টেলিকম খাতে অগ্রগামী ভূমিকা রাখবে রবি।’

ফ্লোসোলারের প্রতিষ্ঠাতা ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোস্তফা আজিম কাসেম খান বলেন, ‘সরকারের উদ্ভাবনী নীতিমালার মাধ্যমে কীভাবে নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার দ্রুততর করা যায় এবং কম খরচে বিদ্যুৎ উৎপাদন  সম্ভব- তার একটি দৃষ্টান্ত হবে প্রস্তাবিত এই সৌর পার্ক। ভবিষ্যতের মার্চেন্টভিত্তিক নবায়নযোগ্য প্রকল্পগুলোর জন্য একটি মডেল হবে এটি।’

গ্রিনপাওয়ার এশিয়ার প্রেসিডেন্ট পিয়েরিক মোরিয়ে বলেন, প্রকল্পটি জ্বালানি নিরাপত্তা ও টেকসই পরিবেশ নিশ্চিতের ক্ষেত্রে অবদান রাখবে।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন ঢাকায় ফ্রান্স দূতাবাসের হেড অব ইকনোমিক ডিপার্টমেন্ট জুলিয়েন দুয়ে, ফ্লোসোলার সল্যুশনস লিমিটেডের টেকনিক্যাল ডিরেক্টর তাশফিকুল আলম খান প্রমুখ।