পাকিস্তান সুপার লিগ (পিএসএল) খেলতে গিয়ে হঠাৎ করেই যুদ্ধ পরিস্থিতির মুখে পড়তে হয়েছিল বাংলাদেশি তরুণ রিশাদ হোসেন ও নাহিদ রানাকে। তবে শেষ পর্যন্ত বিশেষ বিমানে করে নিরাপদেই দুবাই পৌঁছেছেন তারা। পাকিস্তান ছাড়ার মাত্র বিশ মিনিট পরই রাওয়ালপিন্ডির সামরিক বিমানঘাঁটিতে মিসাইল হামলা চালায় ভারত। এমন খবর শুনে ভীত হয়ে পড়েছিলেন রিশাদ, তবে সৃষ্টিকর্তার কৃপায় নিরাপদে পৌঁছাতে পেরে স্বস্তির নিশ্বাস ফেলেছেন এই লেগ স্পিনার।
পিসিএলের অংশ হিসেবে লাহোর কালান্দার্সে খেলতে গিয়েছিলেন রিশাদ, আর পেশাওয়ার জালমির হয়ে খেলতে প্রস্তুত ছিলেন পেসার নাহিদ রানা। যদিও ম্যাচ খেলার সুযোগ হয়নি নাহিদের। ভারতের সঙ্গে উত্তেজনা চরমে ওঠায় মাঝপথেই পিএসএল স্থগিত করে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি)। বিদেশি ক্রিকেটারদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে দ্রুত ব্যবস্থা নেয় বোর্ড, নিজ খরচে বিশেষ বিমানে তাদের নিয়ে যাওয়া হয় দুবাইয়ে।
শুক্রবার (৯ মে) রাতে রাওয়ালপিন্ডি ছাড়েন রিশাদ-নাহিদসহ অন্যান্য বিদেশি ক্রিকেটার ও কোচিং স্টাফ। মিনিট বিশেক পরই ভারতের পক্ষ থেকে পাকিস্তানের তিনটি সামরিক বিমানঘাঁটিতে হামলা চালানো হয়, যার মধ্যে একটি ছিল রাওয়ালপিন্ডির নূর খান এয়ারবেস—যেখান থেকে উড়াল দিয়েছিলেন বিদেশিরা। তাই আতঙ্কিত হয়ে পড়েন সবাই।
‘ফ্লাইটটা উপভোগ করছিলাম, কিন্তু এক ধরনের অজানা ভয়ও কাজ করছিল,’ বলছিলেন রিশাদ। ‘নামার পর যখন শুনলাম যে আমাদের ফ্লাইটের ২০ মিনিট পরই মিসাইল পড়েছে এয়ারপোর্টে, তখন বুকটা কেঁপে উঠেছিল। আলহামদুলিল্লাহ, ভালোভাবে পৌঁছাতে পেরে এখন শান্তি লাগছে।’
নাহিদের অভিষেক হয়নি পিএসএলে। পুরো সফরে একটি বলও না করেই দেশে ফিরতে হচ্ছে তাকে। বিমানে বেশ চুপচাপ ছিলেন তিনি। পাশে থেকে সাহস জুগিয়েছেন রিশাদ, ‘আমি বুঝছিলাম ও একটু টেনশনে ছিল। আমি ওকে বলছিলাম, টেনশন করার কিছু নাই। ইনশাআল্লাহ, সব ঠিক থাকবে।’
লাহোর কালান্দার্সে রিশাদের সতীর্থ ছিলেন স্যাম বিলিংস, ড্যারিল মিচেল, কুশল পেরেরা, টম কারান, সিকান্দার রাজা, ডেভিড ভিসার মতো তারকারা। রিশাদের ভাষায়, বিমানেই সবাই ছিলেন ভীত-সন্ত্রস্ত।
'ড্যারিল মিচেল দুবাইয়ে নেমেই বলল, আমি জীবনে আর পাকিস্তানে আসব না। বিশেষ করে এরকম অবস্থায় তো কখনই না। সবাই খুব আতঙ্কে ছিল। মনে হচ্ছিল, এখনই যদি বের হতে পারি তাহলে বাঁচি।’
পিএসএলের মতো ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগে বিশ্বজুড়েই ক্রিকেটাররা অংশ নিয়ে থাকেন। তবে এমন ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতি ভবিষ্যতে বিদেশিদের অংশগ্রহণে বড় বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে বলেই আশঙ্কা করছে বিশ্লেষকেরা।