মৌসুমের শুরুতে যখন লেস্টার সিটির বেঞ্চ গরম করছিলেন হামজা চৌধুরী, তখন হয়তো কেউ ভাবেননি—শেষে এসে তিনিই হবেন দক্ষিণ এশীয় ফুটবলারদের মধ্যে সবচেয়ে উজ্জ্বল। মাঠে ফিরেছেন, দেশের প্রতিনিধিত্ব করেছেন, আর ধারে খেলতে গিয়ে শেফিল্ড ইউনাইটেডে যেন আবারও নিজেকে খুঁজে পেয়েছেন।
শেফিল্ডে ক্রিস ওয়াইল্ডারের অধীনে কখনো মিডফিল্ডে, কখনো রাইটব্যাক হিসেবে খেলেছেন। দুই ভূমিকাতেই নিজের সামর্থ্যের সর্বোচ্চটা উজাড় করে দিয়েছেন। এরই স্বীকৃতি এসেছে স্কাই স্পোর্টস–এর বর্ষসেরা ব্রিটিশ-দক্ষিণ এশীয় একাদশে জায়গা করে নিয়ে।
সাংবাদিক ডেভ ট্রিহান ও স্কাউট জোহাইব রশিদের করা এই তালিকায় টানা দ্বিতীয়বারের মতো সেরা মিডফিল্ডার হিসেবে নাম উঠেছে হামজার। এ একাদশে নারী-পুরুষ মিলিয়ে ১১ জনের স্কোয়াডে তিনজন নারী ফুটবলারও আছেন। তবে বাংলাদেশের একমাত্র প্রতিনিধি হিসেবে চূড়ান্ত আলাদা করে নজর কেড়েছেন হামজাই।
বর্ষসেরা এই স্কোয়াড সাজানো হয়েছে ৪-৩-৩ ফর্মেশনে। মিডফিল্ডে হামজার সঙ্গী ভারতের মিলি চন্দ্রানা (নটিংহ্যাম ফরেস্ট নারী দল) ও পাকিস্তানি বংশোদ্ভূত জিদান ইকবাল (এফসি উট্রেখট)। আর আক্রমণভাগে আছেন সিমরান ঝামাত, ব্রেন্ডন খেলা এবং ডিলান মারকান্দে।
বর্ষসেরা স্কোয়াডে যারা জায়গা পেয়েছেন:
গোলরক্ষক:
জাসবির সিং (ট্যামওর্থ এফসি)
রক্ষণভাগ:
আসমিতা অ্যালি (লেস্টার সিটি নারী দল)
মেল বেনিং (শ্রেসবুরি টাউন)
ক্যাম ক্যান্ডোলা (কিডারমিনিস্টার হ্যারিয়াস এফসি)
ড্যানি ভট্ট (ব্ল্যাকবার্ন রোভার্স)
মিডফিল্ড:
মিলি চন্দ্রানা (নটিংহ্যাম ফরেস্ট নারী দল)
হামজা চৌধুরী (শেফিল্ড ইউনাইটেড)
জিদান ইকবাল (এফসি উট্রেখট)
আক্রমণভাগ:
ডিলান মারকান্দে (ব্ল্যাকবার্ন রোভার্স)
ব্রেন্ডন খেলা (ব্র্যাডফোর্ড সিটি)
সিমরান ঝামাত (ওয়েস্টব্রমউইচ নারী দল)
বাংলাদেশি ফুটবলের জন্য এটি নিঃসন্দেহে গর্বের মুহূর্ত। দেশের হয়ে অভিষেক, ক্লাবের হয়ে পুনর্জন্ম, আর আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি—সব মিলিয়ে হামজার মৌসুমটা যেন গল্পের মতোই।