কাস্টমস ও বন্দরের নানামুখি হয়রানি এবং বন্দরের অবকাঠামোগত সমস্যার কারণে দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম স্থলবন্দর হিলি দিয়ে আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্য কমেছে। এসব জটিলতা নিরসন হলে বন্দর দিয়ে আমদানি-রপ্তানি যেমন বাড়বে, তেমনি রাজস্ব আহরণও বাড়বে বলে দাবি সিআ্যন্ডএফ এজেন্ট ব্যবসায়ীদের।
আজ সোমবার দুপুরে হিলি কাস্টমস সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশন কার্যালয়ে সংবাদ সন্মেলনে এ কথা বলেন সংগঠনটির সভাপতি ফেরদৌস রহমান।
এ সময় সাধারণ সম্পাদক শাহিনুর ইসলাম, সহসভাপতি মুশপিকুর রহমান, মানিক মিয়া, কাস্টমস ও বন্দর বিষয়ক সম্পাদক মোস্তাক আহমেদ মিঠুসহ অন্যরা উপস্থিত ছিলেন।
তিনি বলেন, দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম স্থলবন্দর হিলি দিয়ে আগে ১৫০ থেকে ২০০ ট্রাক পণ্য আমদানি হলেও বর্তমানে সেই সংখ্যা কমে নেমে এসেছে ২০ ট্রাকে। বন্দর দিয়ে পণ্য আমদানি কমার সঙ্গে সঙ্গে কমেছে সরকারের রাজস্ব। এর মূল কারণ হিলি স্থলবন্দর দিয়ে যেকোনও পণ্য ভারত থেকে আমদানি হলেই কাস্টমস সেই পণ্যের এইচএসকোড নিয়ে জটিলতা সৃষ্টি করে। এর ফলে অনেক পণ্যের সঠিকভাবে পরীক্ষণ না হওয়ায় সেই পণ্যগুলির বিপরীতে জোরপূর্বক কালো আইনের মাধ্যমে ২০০ ভাগ থেকে শুরু করে ৫০০ ভাগ পর্যন্ত লোড দিয়ে থাকে। এতে করে আমদানিকৃত পণ্যের ওপর নির্ধারিত শুল্কের বাইরেও বাড়তি শুল্ক দিতে হয়।
তিনি আরো বলেন, কাস্টমসের কমিশনারসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার পদায়ন থাকার কথা থাকলেও তা নেই। যার কারণে বন্দর দিয়ে পণ্য আমদানি করে বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে রংপুরে কমিশনারের নিকট যেতে হয়। সেখানে কাজ করে বন্দরে পণ্য ছাড় করতে যেমন বাড়তি সময় লাগে, তেমনি বন্দরের বাড়তি মাশুল গুনতে হয় আমদানিকারকদের। এ ছাড়া বন্দরকে শ্রমিকের মজুরি বাবদ অর্থ পরিশোধ করা হলেও তারা সেই শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরি দেন না। এতে করে সময়মতো শ্রমিক কাজে না আসায় পণ্য খালাসে দেরি হয়।
সভাপতি ফেরদৌস রহমান বলেন, অন্য বন্দরে পাথর ছাই কয়লা আমদানির ক্ষেত্রে শুল্ক ও বন্দরের মাশুল পরিশোধ করে বাইরে নিজস্ব ইয়ার্ডে নিতে পারলেও হিলি স্থলবন্দরের ক্ষেত্রে সেটি কোনওভাবেই সম্ভব হয় না। যার কারণে এই বন্দর দিয়ে আগে বিপুল পরিমাণ পাথর আমদানি হলেও বর্তমানে এসব পণ্যের আমদানিকারকরা মুখ ফিরিয়ে নিয়েছেন।
বন্দরকে শ্রমিকের মজুরি হিসেবে প্রতিটন ১৭০ টাকা করে দেওয়ার পরও প্রতিটি আমদানিকৃত ভারতীয় ট্রাক থেকে ৮০০ টাকা ও বাংলা ট্রাকে লোড করার সময় ৭০০ টাকা স্কাভেটর ভাড়া হিসেবে দিতে হয়। যার কারণে আমদানিকারকদের শ্রমিক মজুরি হিসেবে বাড়তি টাকা গুনতে হয়। এসব বিভিন্ন জটিলতার কারণে বন্দর দিয়ে আমদান-রপ্তানি কমেছে। এতে কমেছে রাজস্ব আয়ও।
এ ছাড়া তিনি ভারত-পাকিস্তান সীমান্তে দুদেশের উত্তেজনার কারণে ভারতের হরিয়ানা, রাজস্থান ও গুজরাট থেকে জিরাসহ অন্য আমদানিকৃত পণ্যবাহী ট্রাকগুলি ওইসব এলাকা পার করতে না পারায় সেসব ট্রাক হিলি স্থলবন্দরে প্রবেশ করতে পারছে না। সেই সঙ্গে ভারত আমাদের কোনও বিজনেস ভিসা দিচ্ছে না। যার কারণে আমরা নিজেরা যেমন যেতে পারছি না, তেমনি প্রতিনিধি কাউকে ভারতে পাঠিয়ে পণ্য দেখে কিনতে পারছি না। এতে রপ্তানিকারকরা খারাপ পণ্য পাঠানোর কারণে আমদানিকারকরা ক্ষতির মুখে পড়ছেন বলে দাবি করেন তিনি।