আছিয়া হত্যা মামলার রায় ১৭ মে

দেশব্যাপী আলোচিত মাগুরার চাঞ্চল্যকর শিশু আছিয়া ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় রায় ঘোষণার জন্য আগামী ১৭ মে শনিবার দিন ধার্য করেছে আদালত। গতকাল মঙ্গলবার দ্বিতীয় দিনে বেলা ১১টা থেকে শুরু হয়ে দুপুর ১২টা পযর্ন্ত রাষ্ট্রপক্ষ ও আসামি পক্ষের যুক্তিতর্ক  অনুষ্ঠিত হয়। মাগুরার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল আদালতের বিজ্ঞ বিচারক এম জাহিদ হাসান উভয় পক্ষের বক্তব্য শুনেন।

মাগুরার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের পাবলিক প্রসিকিউটার (পিপি) মনিরুল ইসলাম মুকুল জানান, মঙ্গলবার সকালে এ মামলায় অভিযুক্ত আসামিদের সকালে কড়া পুলিশি প্রহরায় ঝিনাইদহ জেলা কারাগার থেকে আদালতে হাজির করা হয়। প্রথমে রাষ্ট্রপক্ষ থেকে এ মামলায় নিযুক্ত স্পেশাল প্রসিকিউটর অ্যাডভাইজার (অ্যাটর্নি জেনারেল সমমর্যাদার সুবিধাদি প্রাপ্ত) অ্যাডভোকেট এহসানুল হক সমাজী আদালতে বক্তব্য উপস্থাপন করেন। তিনি সব সাক্ষ্য ও প্রমাণাদির ভিত্তিতে প্রধান আসামি হিটু শেখকে ফাঁসি ও অন্য আসামিদের সংশ্লিষ্ট ধারায় সর্বোচ্চ সাজা দাবি করেন।

রাষ্ট্রপক্ষ থেকে স্পেশাল প্রসিকিউটর অ্যাডভাইজার অ্যাডভোকেট এহসানুল হক সমাজী বলেন, ‘প্রধান আসামি হিটু শেখের ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তি, মেডিকেল রিপোর্ট (ময়নাতদন্ত), পারিপার্শ্বিক সাক্ষ্য দ্বারা মৌখিক ও দালিলিকভাবে রাষ্ট্রপক্ষ মামলা প্রমাণ করতে পেরেছে। ফলে একটি নিষ্পাপ শিশুকে যেভাবে মধ্যযুগীয় কায়দায় অমানবিক পাশবিক নির্যাতনে হত্যা করা হয়েছে তার জন্য আসামিদের  আদালত সর্বোচ্চ সাজা দেবে যা বাংলাদেশে দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।’

আসামি পক্ষের আইনজীবী সোহেল আহম্মদ আদালতকে জানান, এ মামলায় রাষ্ট্রপক্ষ প্রত্যক্ষ কোনো সাক্ষী আদালতে উপস্থাপন করতে পারেনি। মামলার অনেক অসংগতি তুলে ধরে তিনি আসামিদের খালাস দাবি করেন।

পরে মাগুরার নারী ও নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল আদালতের বিজ্ঞ বিচারক এম জাহিদ হাসান এ মামলার রায় ঘোষণার জন্য আগামী ১৭ মে শনিবার ধার্য করেন।

প্রসঙ্গত, মাগুরা শহরের নিজনান্দুয়ালী গ্রামে বোনের শ^শুরবাড়ি বেড়াতে গিয়ে ৬ মার্চ ধর্ষণের শিকার হয় ৮ বছরের শিশু আছিয়া। এ ঘটনার পর মাগুরাসহ সারা দেশ প্রতিবাদ বিক্ষোভে ফেটে পড়ে। গত ৮ মার্চ পুলিশের অভিযুক্ত এই চারজনকেই আসামি করে সদর থানায় মামলা করেন শিশুটির মা আয়েশা আক্তার। এদিকে ধর্ষণের ঘটনার পর শিশুটিকে প্রথমে মাগুরা ২৫০ শয্যা হাসপাতাল এবং পরে ঢাকায় সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে ভর্তি করা হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৩ মার্চ মারা যায় শিশুটি।

এ ঘটনার পর পুলিশের রিমান্ড চলাকালে মামলার মূল আসামি হিটু শেখ ১৫ মার্চ মাগুরার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়। যেখানে এ ঘটনায় সে একাই জড়িত বলে জানায়।