সরকার সবুজ সংকেত দিলে পাকিস্তান সফরে যাবেন লিটন দাসরা

টানা আট দিনের স্কিল ও ফিটনেস অনুশীলন শেষে আজ সকালে সংযুক্ত আরব আমিরাতের উদ্দেশ্যে দেশ ছেড়েছে বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দল। দুবাইয়ে দুটি টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলেই দেশে ফিরবে টাইগাররা। তবে এই সফরের ছায়ায় লুকিয়ে আছে আরেকটি বড় প্রশ্ন—পাকিস্তান সফর আদৌ হবে কি না? তবে বিসিবি জানিয়েছে সরকার সবুজ সংকেত দিলে তবেই তারা সিরিজ খেলতে পাকিস্তানে দল পাঠাবে। 

ভারত-পাকিস্তান সীমান্ত উত্তেজনার জেরে বন্ধ হয়ে গিয়েছিল দুই দেশের ঘরোয়া লিগ—আইপিএল ও পিএসএল। যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর ফের শুরু হতে যাচ্ছে দুটি লিগই, একই দিনে—১৭ মে। যেখানে আইপিএলের ফাইনাল অনুষ্ঠিত হবে ৩ জুন, আর পিএসএলের পর্দা নামবে ২৫ মে। বিদেশি ক্রিকেটাররা কিছুটা স্বস্তিতে ফিরলেও, বাংলাদেশ দল রয়েছে গভীর দ্বিধাদ্বন্দ্বে—এই অবস্থায় পাকিস্তান সফরে যাওয়া কতটা নিরাপদ?

বিসিবি সূত্রে জানা গেছে, পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডকে (পিসিবি) ২৭ মে থেকে ৫ জুন পর্যন্ত পাঁচ ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজ আয়োজনের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। প্রস্তাবিত সূচি অনুযায়ী, ফয়সালাবাদে হবে প্রথম তিন ম্যাচ (২৭, ২৯ মে ও ১ জুন), আর বাকি দুটি ম্যাচ (৩ ও ৫ জুন) অনুষ্ঠিত হবে লাহোরের গাদ্দাফি স্টেডিয়ামে।

পিএসএল শেষে পাকিস্তানের নতুন সাদা বলের কোচ হিসেবে দায়িত্ব নিতে যাচ্ছেন নিউজিল্যান্ডের সাবেক কোচ—এ তথ্য এক্স অ্যাকাউন্টে নিশ্চিত করেছেন পিসিবি সভাপতি মহসিন নাকভি। ধারণা করা হচ্ছে, বাংলাদেশই হবে তার প্রথম প্রতিপক্ষ।

এদিকে দলের কেউ অনুশীলনে না থাকলেও, মিরপুর একাডেমি মাঠে এককভাবে বোলিং অনুশীলনে দেখা গেছে তরুণ পেসার নাহিদ রানাকে। যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে স্থগিত হওয়া পিএসএলে পেশোয়ার জালমির হয়ে মাঠে নামার সুযোগ হয়নি তার। তবে লাহোর কালান্দার্সের হয়ে পাঁচটি ম্যাচ খেলেছেন রিশাদ হোসেন। পিএসএল আবার শুরু হলেও তাদের পাকিস্তানে যাওয়া নিয়ে এখনো রয়েছে অনিশ্চয়তা।

দুবাই সফরের অংশ হিসেবে বাংলাদেশ দল ১৭ ও ১৯ মে দুটি টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলে ২০ মে দেশে ফিরবে। এরপরই পাকিস্তান সফরের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে চায় বিসিবি।

বিসিবির পরিচালক ইফতেখার রহমান মিঠু বলেন, 'আমরা আজ পাকিস্তান থেকে প্রস্তাবিত সূচি পেয়েছি। এটি ক্রীড়া মন্ত্রণালয়, ক্রীড়া পরিষদ, স্বরাষ্ট্র ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে। সফরের সিদ্ধান্ত সরকারের অনুমতির ওপর নির্ভর করছে। এখনো হাতে সময় আছে। ২০ মে দল ফিরবে, তার আগেই যদি সবুজ সংকেত আসে, আমরা সিদ্ধান্ত জানাব।'

পাকিস্তান সফর নিয়ে সরকারের দিক থেকেও সতর্কতা দেখা দিয়েছে। গত শনিবার জাতীয় সুইমিং কমপ্লেক্সে যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া সাংবাদিকদের বলেন, 'বর্তমান পরিস্থিতিতে কোনো ধরনের ঝুঁকি নেওয়া সঠিক হবে না। পাকিস্তান দূতাবাস থেকেও নিরাপত্তা নিয়ে সতর্কতা জানানো হয়েছে। বিসিবি চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানাবে।'

সফরটি হবে কি না—এখন প্রশ্ন শুধু বিসিবির নয়, নির্ভর করছে সরকারের ওপর। আর সরকারের অনুমতি না মিললে, এই সফর থেকে সরে আসাই হবে বিসিবির একমাত্র পথ।