খুলনায় বন্ধ মিল চালুসহ বকেয়া পরিশোধের দাবি

খুলনার মহসেন, সোনালী, অ্যাজাক্স, আফিল, জুট স্পিনারস ও হুগলি বিস্কুট কোম্পানিসহ বন্ধ সকল মিলের শ্রমিক-কর্মচারীদের পিএফ, গ্র্যাচুইটিসহ যাবতীয় পাওনাদি শ্রম আইন মোতাবেক এককালীন পরিশোধের দাবি জানিয়েছে বেসরকারি পাট, সুতা, বস্ত্রকল শ্রমিক-কর্মচারী ফেডারেশন। গতকাল বুধবার দুপুরে খুলনা প্রেসক্লাবের হুমায়ুন কবির বালু মিলনায়তনে এক সংবাদ সম্মেলনে এই দাবি জানানো হয়। 

শ্রমিক-কর্মচারী ফেডারেশনের অন্যান্য দাবিসমূহের মধ্যে রয়েছে,  শ্রম আইন মোবাবেক চালুকৃত জুটমিলগুলোতে ট্রেড ইউনিয়ন গঠন, মজুরি কমিশন অনুযায়ী মাসিক ন্যূনতম মজুরি ১৫ হাজার টাকা প্রদান, রেশনিং ব্যবস্থা চালু, ছয় মাস প্রসূতি ভাতা চালু, অসুস্থ ও পেশাগত ব্যাধি এবং মৃত্যু হলে আইন সঙ্গত ক্ষতিপূরণ প্রদানসহ দুইটি ঈদ বোনাস প্রদান। একই সঙ্গে তারা শ্রমিক ঠকানো ফ্যাসিস্ট মালিকদের আইনের আওতায় আনারও দাবি জানান। 

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে সংগঠনের সভাপতি মো. গোলাম রাসুল খান বলেন, দীর্ঘ বছর যাবত বেআইনিভাবে ও ষড়যন্ত্রমূলক পাটকল ছাড়াও বিভিন্ন কোম্পানি বন্ধ রাখা হয়েছে। সেগুলো দ্রুত সময়ের মধ্যে চালুসহ কর্মীদের যাবতীয় পাওনা এককালীন বুঝিয়ে দিতে হবে। 

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, উক্ত দাবি আদায়ে আগামীকাল শুক্রবার বিকাল ৪টায় সোনালী জুটমিল গেট থেকে ফুলবাড়ি গেট পর্যন্ত বিক্ষোভ মিছিল, ২০ মে বেলা ১১টায় জেলা প্রশাসন দপ্তরের সামনে অনশন কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হবে। এছাড়া পরবর্তীতে শ্রম উপদেষ্টার সঙ্গে সাক্ষাৎ এবং এতে ফয়সালা না হলে রাজপথ ও রেলপথ অবরোধ কর্মসূচি ঘোষণা দেওয়া হবে বলে জানান শ্রমিক নেতারা। 

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, ২০১৪ সাল থেকে ১৮ সাল পর্যন্ত জুট মিলগুলো বন্ধ করে দেওয়া হয়। এতে শ্রমিক-কর্মচারীরা অর্ধাহারে অনাহারে দিন কাটাচ্ছে। বিনা চিকিৎসায় মারা গেছে চার শতাধিক শ্রমিক-কর্মচারী। রাতের আঁধারে মিলের দামি দামি যন্ত্রপাতি বিক্রি করে দেওয়া হচ্ছে। অথচ শ্রমিকরা তাদের ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত রয়েছে। 

সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সভাপতি মাস্টার শফিকুল আলম, সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক মো. সাইফুল ইসলাম, খুলনা মহনগরী শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সভাপতি আজিজুল ইসলাম ফারাজী, ফেডারেশনের সাংগঠনিক সম্পাদক সাইফুল্লাহ তারেক, প্রচার সম্পাদক ওবায়দুর রহমান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।