নাকবা দিবসে গাজাজুড়ে ইসরায়েলি হামলা, নিহত অন্তত ১১৫

নাকবা বা ‘মহাবিপর্যয় দিবস’—৭৭ বছর আগে নিজেদের ঘরছাড়া হওয়ার বেদনা আজও বুকের মধ্যে বয়ে চলেছেন ফিলিস্তিনিরা। ১৫ মে সেই দুঃসহ স্মৃতির দিন। আর সেই দিনে, বৃহস্পতিবার, নাকবা দিবসের ৭৭তম বর্ষপূর্তিতে গাজা উপত্যকার বিভিন্ন এলাকায় ব্যাপক বিমান হামলা চালিয়েছে ইসরায়েলি বাহিনী। এসব হামলায় প্রাণ হারিয়েছেন অন্তত ১১৫ জন, যাদের বেশিরভাগই নারী ও শিশু।

স্থানীয় কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে জানানো হয়েছে, গাজার দক্ষিণাঞ্চলের খান ইউনিস এলাকায় বৃহস্পতিবার ভোরে চালানো এক হামলায় অন্তত ৬১ জন নিহত হয়েছেন। উত্তরাঞ্চলের জাবালিয়া এলাকায় আল-তাওবাহ চিকিৎসাকেন্দ্রে ইসরায়েলি বিমান হামলায় আরও অন্তত ১৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। এতে আহত হয়েছেন আরও অনেকে। এ তথ্য দিয়েছে হামাস নিয়ন্ত্রিত গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।

ইসরায়েলি হামলার ফলে গাজাজুড়ে অন্তত তিনটি হাসপাতালের কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে গেছে বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। এসব হাসপাতাল হলো—জাবালিয়ার আল-আওদা হাসপাতাল, খান ইউনিসের ইন্দোনেশিয়ান হাসপাতাল এবং ইউরোপীয়ান হাসপাতাল।

গাজার দেইর এল বালাহ এলাকা থেকে আল–জাজিরার সংবাদদাতা তারেক আল আজৌম বলেন, ‘গাজাবাসীর জন্য এটি ছিল আরেকটি রক্তাক্ত দিন। ইসরায়েলি বাহিনী আবাসিক এলাকাতেও নির্বিচারে বিমান হামলা চালিয়েছে। খান ইউনিসের অন্তত নয়টি বাড়িতে পূর্ব সতর্কতা ছাড়াই হামলা করা হয়েছে।’

এক বিবৃতিতে হামাস জানিয়েছে, দোহায় কাতার ও মিসরের মধ্যস্থতায় এবং যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে হামাস ও ইসরায়েলের মধ্যে পরোক্ষ যুদ্ধবিরতির আলোচনার সময়েই এই হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল, যা তাদের মরিয়া আচরণকে তুলে ধরে।

উল্লেখ্য, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাস ইসরায়েলের ভূখণ্ডে হামলা চালায়। এতে প্রায় ১ হাজার ১৩৯ জন নিহত হন এবং ২০০ জনের বেশি মানুষকে জিম্মি করে গাজায় নিয়ে যাওয়া হয়। পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় সেই দিন থেকেই গাজায় ধারাবাহিক হামলা শুরু করে ইসরায়েলি বাহিনী।

হামাস-শাসিত গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের হিসাব অনুযায়ী, চলমান ইসরায়েলি হামলায় এখন পর্যন্ত প্রাণ হারিয়েছেন অন্তত ৫৩ হাজার ১০ জন ফিলিস্তিনি। তাদের অধিকাংশই নারী ও শিশু। আহত হয়েছেন ১ লাখ ১৯ হাজার ৯১৯ জন।

অন্যদিকে, গাজার সরকারি গণমাধ্যম কার্যালয়ের দাবি, নিহতের সংখ্যা ৬১ হাজার ৭০০ ছাড়িয়ে গেছে। তারা জানিয়েছে, ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে পড়া বহু নিখোঁজ মানুষকে মৃত বলেই ধরা হয়েছে।