যুদ্ধের অবসানের লক্ষ্যে তিন বছরেরও বেশি সময় পর প্রথমবার সরাসরি আলোচনা করেছে রাশিয়া ও ইউক্রেন। তুরস্কের ইস্তাম্বুলে দুই ঘণ্টারও কম সময়ের এ বৈঠকে দুই দেশের কর্মকর্তারা যুদ্ধবন্দি বিনিময়ে সম্মত হয়েছেন।
শুক্রবার ইস্তাম্বুলের ডলমাবাহচে প্রাসাদে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। তবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের চাপ সত্ত্বেও উভয় পক্ষ যুদ্ধবিরতিতে একমত হতে ব্যর্থ হয়।
সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার খবরে বলা হয়েছে, যুদ্ধবিরতিতে একমত না হলেও আলোচনা শেষ হওয়ার আগে, কিয়েভ ও মস্কোর প্রতিনিধিদল যুদ্ধবন্দী বিনিময়ে সম্মত হয়। শর্ত অনুযায়ী ১ হাজার জন বন্দির বিনিময়ে ১ হাজার জন বন্দির মুক্তি মিলবে।
ইউক্রেনীয় প্রতিনিধি দলের প্রধান ও দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী রুস্তেম উমেরভের মতে, উভয় পক্ষরাই যুদ্ধবিরতি এবং তাদের রাষ্ট্রপ্রধানদের মধ্যে একটি বৈঠক নিয়েও আলোচনা করেছে।
উমেরভ বলেন, কিয়েভ বিশ্বাস করে— পরবর্তী পদক্ষেপটি দুই দেশের নেতার বৈঠক হওয়া উচিত।
উমেরভ সাংবাদিকদের বলেন, ইস্তাম্বুলে আলোচনার প্রথম অগ্রাধিকার ছিল যুদ্ধবন্দীদের মুক্তি এবং দ্বিতীয়ত, যুদ্ধবিরতি নিশ্চিত করা। পরবর্তী পদক্ষেপটি নেতা পর্যায়ের আলোচনা হওয়া উচিত।
মস্কোর প্রতিনিধিদলের নেতৃত্বদানকারী রাশিয়ার রাষ্ট্রপতির সহকারী ভ্লাদিমির মেডিনস্কি নিশ্চিত করেছেন, উভয় পক্ষ একে অপরকে বিস্তারিত যুদ্ধবিরতি প্রস্তাব এবং তাদের রাষ্ট্রপ্রধানদের মধ্যে একটি বৈঠক প্রদানে সম্মত হয়েছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন ইউক্রেনীয় সূত্র সংবাদ সংস্থা রয়টার্সকে জানিয়েছে, যুদ্ধ শেষ করার জন্য রাশিয়ার দাবির মধ্যে রয়েছে— কিয়েভকে তার ভূখণ্ডের কিছু অংশ থেকে সরে যাওয়া।
সূত্রটি জানিয়েছে, রাশিয়ার দাবিগুলি বাস্তবতা থেকে বিচ্ছিন্ন এবং পূর্বে আলোচিত যেকোনো কিছুর চেয়ে অনেক বেশি।
মেডিনস্কি বলেন, মস্কো ইস্তাম্বুল আলোচনার ফলাফলে সন্তুষ্ট এবং কিয়েভের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যেতে প্রস্তুত।