গত কয়েকদিনের টানা বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে অস্বাভাবিক বৃদ্ধি পেয়েছে সোমেশ্বরী নদীর পানি। এতে রবিবার (১৮ মে) ভোরে সোমেশ্বরী নদী তীরবর্তী শেরপুরের ঝিনাইগাতীর ধানশাইল এলাকার বাগেরভিটা গ্রামের দোকান ও বাঁধের কিছুটা ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
জানা গেছে, পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় দোকানের প্রায় আড়াই লক্ষাধিক টাকার মালামাল পানিতে ভেসে গেছে। এছাড়া কয়েকটি বসতঘরে পানি প্রবেশ করে ঘরে জমানো গোলার ধান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
দোকানদার মো. লিখন মিয়া জানান, শেষ রাতে বৃষ্টি হচ্ছিল কিছু বুঝে ওঠার আগেই আকস্মিকভাবে ৫ ফুট উচ্চতার পাহাড়ি ঢল এসে আমার দোকানের সব মালামাল ভাসিয়ে নিয়ে যায় এবং দোকানের বিল্ডিং ঘরটি ভেঙে যায়। এছাড়া আমার দোকানের পাশ দিয়ে একটি যাতায়াতের রাস্তা ছিল যা নদীগর্ভে ভেসে গেছে।
ওই এলাকার সুফিয়া বেগম বলেন, শেষ রাতে হঠাৎ উজান থেকে নেমে আসা পানির প্রবল তোড়ে সোমেশ্বরী নদীর তীরে রাস্তা ভেঙে নদীর সঙ্গে মিশে গেছে। আমাদের ঘরে পানি উঠায় ঘরে থাকা আসবাবপত্র ও ধান কিছুটা নষ্ট হয়ে গেছে।
বিষয়টি নিয়ে ওই ব্লকের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা আল আমিনের সঙ্গে কথা বললে তিনি জানান, বন্যা সতর্কবার্তা থাকায় আমরা কৃষকদেরকে আগেই সতর্ক করে দিয়েছিলাম দ্রুত ধান কাটার জন্য। যার ফলে এই এলাকার কৃষকেরা প্রায় ৯৫ শতাংশ ধান কাটা সম্পন্ন হওয়ায় তেমন একটা ক্ষতির সম্ভাবনা নেই।
ঝিনাইগাতী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আশরাফুল আলম রাসেল বলেন, ইতিমধ্যে সোমেশ্বরী নদীতে নির্মাণাধীন ব্রিজের ঠিকাদারকে বিষয়টি জানানো হয়েছে এবং তারা রাস্তা মেরামত করার জন্য ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।
শেরপুর জেলা প্রশাসক তরফদার মাহমুদুর রহমান বলেন, কয়েকদিনের বৃষ্টিপাত এবং পাহাড়ে ঢলে ঝিনাইগাতী উপজেলার কয়েকটি জমিতে পানি প্রবেশ করেছে। আগাম বন্যার প্রস্তুতি হিসেবে আমাদের প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে।