ভারতের জোরালো প্রতিবাদ সত্ত্বেও পাকিস্তানকে ১০০ কোটি ডলার ঋণের কিস্তি অনুমোদন করেছে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)। সংস্থাটি মনে করে, ইসলামাবাদ ঘোষিত কর্মসূচি বাস্তবায়নের মাধ্যমে দেশটিতে অর্থনীতি পুনরুদ্ধার অব্যাহত রয়েছে।
তবে কিস্তি অনুমোদনের পাশাপাশি ভারতের সঙ্গে উত্তেজনা আর্থিক স্থিতিশীলতায় প্রভাব ফেলছে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করে পাকিস্তানের ওপর ১১টি নতুন শর্ত আরোপ করেছে আইএমএফ। এসব শর্তের মধ্যে রয়েছে সংসদীয় বাজেট অনুমোদন, কর সংস্কার ও জ্বালানি খাতের সমন্বয়।
শনিবার আইএমএফের প্রকাশিত এক প্রতিবেদনের বরাতে এক্সপ্রেস ট্রিবিউনের খবরে বলা হয়, ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনা যদি অব্যাহত থাকে বা আরও অবনতি হয়, তাহলে তা এই কর্মসূচির আর্থিক, বৈদেশিক ও সংস্কার লক্ষ্যের ঝুঁকি বাড়িয়ে তুলতে পারে।
এ ঝুঁকি কমাতে আইএমএফ পাকিস্তানের ওপর নতুন আরও ১১টি শর্ত আরোপ করেছে। এর ফলে মোট শর্ত ৫০-এ পৌঁছেছে।
আইএমএফের নতুন শর্তের মধ্যে রয়েছে স্টাফ এগ্রিমেন্টের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে চলতি বছরের জুনের মধ্যে ২০২৫-২৬ অর্থবছরের বাজেটে পার্লামেন্টে অনুমোদন। এছাড়া ফেডারেল বাজেটে উন্নয়ন ব্যয়ের জন্য ১.০৭ ট্রিলিয়ন রুপি বরাদ্দের ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে আইএমএফের প্রতিবেদনে।
২০২৭ পরবর্তী আর্থিক খাতের কৌশল এবং ২০২৮ সাল থেকে প্রাতিষ্ঠানিক ও নিয়ন্ত্রক পরিবেশের জন্য পরিকল্পনা প্রণয়ন ও প্রকাশের শর্তও দেওয়া হয়েছে পাকিস্তান সরকারকে।
জ্বালানি খাতে চারটি নতুন শর্ত যুক্ত করে আইএমএফ বলছে, উৎপাদন খরচ আদায়ে সরকার ১ জুলাইয়ের মধ্যে বিদ্যুতের বার্ষিক শুল্ক পুনঃনির্ধারণ করবে। এছাড়া গ্যাসের শুল্ক সমন্বয়ে ৬ মাস মেয়াদী মূল্য নির্ধারণ, যা ২০২৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারির মধ্যে পরবর্তী প্রজ্ঞাপন জারি করতে হবে।
শিল্পখাতে গ্যাসের ব্যবহার কমাতে চলতি মাসের শেষ নাগাদ পার্লামেন্ট ক্যাপটিভ পাওয়ার লেভি অর্ডিন্যান্স প্রণয়ণের কথাও জানিয়েছে আইএমএফ। বিদ্যুৎ খাতে সঞ্চিত ঋণের বোঝা কমাতে ইউনিটপ্রতি ৩.২১ রুপির সর্বোচ্চ সারচার্জ তুলে দিতে হবে।
পাঁচ বছরের কম পুরোনো ব্যবহৃত গাড়ির আমদানিতে যে পরিমাণ নিষেধাজ্ঞা আছে, তা বাতিলে সংসদে একটি বিল জমা দিতে হবে জুলাইয়ের মধ্যে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত দুই সপ্তাহে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে সংঘাত উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে, তবে বাজারে প্রতিক্রিয়া এখন পর্যন্ত পরিমিত। শেয়ারবাজার ধরে রেখেছে এর সাম্প্রতিক লাভের বেশিরভাগই মাঝারিভাবে বিস্তৃত হয়েছে।
ভারতের সঙ্গে উত্তেজনা আর্থিক স্থিতিশীলতায় প্রভাব ফেলছে উল্লেখ করে আইএমএফের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আগামী অর্থবছরে পাকিস্তানের প্রতিরক্ষা বাজেট ২.৪১৪ ট্রিলিয়ন রুপি, যা ২৫২ বিলিয়ন রুপি বা ১২ শতাংশ বেশি। তবে চলতি মাসের শুরুতে ভারতের সঙ্গে সংঘাতের পর পাকিস্তান সরকার বাজেটে আড়াই ট্রিলিয়ন রুপি বরাদ্দ বা ১৮ শতাংশ বাড়ানোর ইঙ্গিত দিয়েছে।
ক্রমবর্ধমান উত্তেজনা যদি অব্যাহত থাকে বা আরও অবনতি হয়, তাহলে তা আর্থিক সংস্কারে ঝুঁকি বাড়িয়ে তুলতে পারে বলে মনে করে আইএমএফ।