৩ শিক্ষার্থী নিয়ে চলছে বোদার হোসেনাবাদ দাখিল মাদরাসা

মাত্র তিন শিক্ষার্থী নিয়ে চলছে পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলার হোসেনাবাদ ইসলামিয়া দাখিল মাদরাসা। গতকাল রবিবার মাদরাসাটি গিয়ে প্রথম শ্রেণি থেকে দশম শ্রেণির মধ্যে শুধু ষষ্ঠ শ্রেণির তিনজন শিক্ষার্থীকে উপস্থিত পাওয়া গেছে। যদিও কাগজে-কলমে প্রতিষ্ঠানটিতে ১৬৩ জন ছাত্র-ছাত্রী দেখানো হয়েছে।

জানা গেছে, বিদ্যালয়ে শিক্ষক ১৩ জন ও কর্মচারী ৩ জন। প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষার পরিবেশ আনতে জেলা ও বিভাগীয় শিক্ষা অফিসের কর্মকর্তাগণের হস্তক্ষেপ কামনা করেন সচেতন নাগরিক ও এলাকাবাসী। তারা জানান, এমপিওভুক্তির দীর্ঘদিন পার হলেও প্রতিষ্ঠানে ১০-১৫ জনের বেশী ছাত্র-ছাত্রী ছিল না। শিক্ষার্থী না থাকায় মাদরাসাটি বন্ধ হয়ে যায় দুপুরের মধ্যেই। প্রতি বছর শিক্ষকের বেতন বাবদ সরকারের লাখ লাখ টাকা অপচয় হচ্ছে।

সরেজমিন মাদরাসাটিতে গিয়ে দেখা গেছে, অধিকাংশ শ্রেণিকক্ষে চেয়ার-টেবিল থাকলেও শিক্ষার্থীর উপস্থিতি নেই। শিক্ষার্থীদের মধ্যে ৬ষ্ঠ শ্রেণিতে তিন শিক্ষার্থী উপস্থিত। এ ছাড়া প্রতিষ্ঠানে গিয়ে পাওয়া যায়নি সুপারিন্টেনডেন্ট মোছা. রৌশনারা বেগমকে। তিনিও মাঝে মাঝে আসেন মাদরাসায়।

তথ্য মতে, মাদরাসাটি ২০০২ সালে এমপিওভুক্ত হয়। দফায় দফায় ১২ জন শিক্ষক ও ৩ জন কর্মচারীও এমপিওভুক্ত হয়েছেন। বেতনও পাচ্ছেন নিয়মিত। ২০২৪ সালে দাখিল পরীক্ষায় ১৩ জন শিক্ষার্থী ফরম ফিলাপ করলেও অংশগ্রহণ করে ৫ জন এবং ২০২৫ সালে ৩ জন পরীক্ষার্থী অংশ নেয়।

অভিযোগ রয়েছে, নানা অনিয়ম-দুর্নীতি করে গোপনে নিয়োগ বাণিজ্যের মাধ্যমে কাগজপত্র জালিয়াতি করে, নিয়োগ দেওয়া হয়েছে কয়েকজন শিক্ষককে। মাদরাসাটিতে নেই শিক্ষার পরিবেশ। ফলে দিন দিন শিক্ষার্থী শূন্য হয়ে পড়েছে মাদরাসাটি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক অভিভাবক জানান, মাদরাসায় ছাত্র-ছাত্রী আসে না। তাছাড়া শিক্ষার মান একেবারে ভালো না। মাদরাসার শিক্ষার পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে অভিভাবক সমাবেশসহ সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় তদারকির কথা জানান অভিভাবকরা।

এ বিষয়ে মোবাইল ফোনে কথা হয় হোসেনাবাদ ইসলামিয়া দাখিল মাদরাসার সুপারিন্টেনডেন্ট রৌশনারা বেগমের সঙ্গে। তিনি বলেন, মাদরাসার কাজের জন্য জেলা শিক্ষা অফিসে আছি।

বোদা উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মো. আইবুল ইসলাম বলেন, প্রতিষ্ঠানটির বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানানো হয়েছে।