বিএনপি নেতা ইশরাক হোসেনকে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র হিসেবে শপথ না পড়ানোর নির্দেশনা চেয়ে দায়ের করা রিটের শুনানি আজ মঙ্গলবার হাইকোর্টে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এ বিষয়ে বিচারপতি মো. আকরাম হোসেন চৌধুরী ও বিচারপতি দেবাশীষ রায় চৌধুরীর সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চে দুপুরে শুনানি হবে। রিটের পক্ষে আদালতে শুনানি করবেন আইনজীবী মোহাম্মদ হোসেন।
বিএনপি নেতা ইশরাক হোসেনের পক্ষে আইনজীবী ব্যারিস্টার এ কে এম এহসানুর রহমান সংবাদটি নিশ্চিত করেছেন।
এর আগে, নির্বাচন কমিশনের গেজেট স্থগিত চেয়ে ইশরাক হোসেনকে মেয়র হিসেবে ঘোষণা দেওয়া রায়ের বিরুদ্ধে রিট আবেদন করা হয়। রিটের শুনানির দিন ধার্য ছিল আজ, মঙ্গলবার।
২০২০ সালের ১ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী শেখ ফজলে নূর তাপস মেয়র নির্বাচিত হন এবং ২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচন কমিশন ভোটের ফল গেজেট আকারে প্রকাশ করে। এরপর তাপস শপথ গ্রহণ করে মেয়রের দায়িত্ব পালন শুরু করেন।
ওই নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী ইশরাক হোসেন পান দুই লাখ ৩৬ হাজার ভোট, যেখানে তাপস পেয়েছিলেন সোয়া চার লাখ। নির্বাচন নিয়ে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ এনে ফল বাতিলের দাবিতে ইশরাক ২০২০ সালের ৩ মার্চ মামলা করেন।
গত বছরের আগস্টে ছাত্র আন্দোলনের পর আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর দেশের সব সিটি করপোরেশনের মেয়রদের পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। তখন থেকে অতিরিক্ত সচিব শাহজাহান মিয়া ঢাকা দক্ষিণের প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।
এরপর গত ২৭ মার্চ ঢাকার প্রথম যুগ্ম জেলা জজ ও নির্বাচনী ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. নুরুল ইসলাম তাপসের মেয়র নির্বাচনের ফল বাতিল করে ইশরাক হোসেনকে মেয়র হিসেবে ঘোষণা করেন। একইসঙ্গে ১০ দিনের মধ্যে গেজেট প্রকাশের নির্দেশ দেওয়া হয়। এ নির্দেশের ভিত্তিতে ২৭ এপ্রিল নির্বাচন কমিশন গেজেট প্রকাশ করে।
গেজেট প্রকাশের পর রফিকুল ইসলাম ও মামুনুর রশিদ নামে দুই ব্যক্তি এই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করতে লিগ্যাল নোটিশ পাঠান। এতে গেজেট প্রকাশ এবং ইশরাকের শপথ গ্রহণ থেকে বিরত থাকতে বলা হয়।
তাদের আইনজীবী অভিযোগ করেন, যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ না করে দ্রুত রায় দেওয়া হয়েছে। তারা প্রত্যাশা করেছিলেন যে, নির্বাচন কমিশন এই আদেশ চ্যালেঞ্জ করবে, কিন্তু তা না করে আইন উপদেষ্টার মতামতের জন্য অপেক্ষা না করেই গেজেট জারি করেছে।
তারা আরও বলেন, ট্রাইব্যুনালের আদেশ কার্যকর নয়, কারণ মেয়রের মেয়াদ ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে এবং অধ্যাদেশের মাধ্যমে পদ শূন্য ঘোষণা করা হয়েছে।
এর প্রেক্ষিতে হাইকোর্টে দায়ের করা রিটে শুধু শপথ স্থগিত নয়, ইশরাককে মেয়র ঘোষণাকারী বিচারকের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশনাও চাওয়া হয়েছে। রিটে নির্বাচন কমিশনসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে বিবাদী করা হয়েছে।
এই রিটটি দায়ের করেন ঢাকাবাসী মো. মামুনুর রশিদের পক্ষে আইনজীবী কাজী আকবর আলী। শুনানিতে অংশ নেবেন অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ হোসেন।
অন্যদিকে, ইশরাক হোসেনকে মেয়রের দায়িত্বে বসানোর দাবিতে আগামী বৃহস্পতিবার (১৫ মে) সকাল ৯টা থেকে লাগাতার অবস্থান কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।