কুমিল্লায় ছড়িয়ে পড়ছে স্ক্যাবিস, চিকিৎসা না নিলে নষ্ট হতে পারে কিডনি!

কুমিল্লায় দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে এক ধরনের ছোঁয়াচে চর্মরোগ ‘স্ক্যাবিস’। খোস-পাঁচড়াজনিত এ রোগে শিশু থেকে শুরু করে সব বয়সী মানুষ আক্রান্ত হচ্ছেন। চিকিৎসকদের আশঙ্কা, সঠিক সময়ে চিকিৎসা না নিলে এ রোগ থেকে কিডনির মতো গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

নগরীর টমছমব্রীজ এলাকায় বাসিন্দা আনোয়ার হোসেন তার পাঁচ সদস্যের পরিবার নিয়ে চরম ভোগান্তিতে রয়েছেন। প্রথমে তার ছোট ছেলে তাওহিদের হাত-পায়ে লাল র‌্যাশ ওঠে। দেখা দেয় তীব্র চুলকানি। পরে ধীরে ধীরে আক্রান্ত হন তার দুই ছেলে ও স্ত্রীও।

চিকিৎসক স্ক্যাবিস বলার পর ওষুধ নিয়েছিলাম। কিছুদিন ভালো থাকলেও আবার ফিরে এসেছে। চুলকানির যন্ত্রণায় ঘুমাতে পারি না, বললেন জামাল হোসেন।

চিকিৎসকদের ভাষ্য, কুমিল্লা জেলার বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকে চর্মরোগে চিকিৎসা নিতে আসা ৭০ শতাংশ রোগী স্ক্যাবিসে আক্রান্ত।

জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্যমতে, কুমিল্লা জেলার মুরাদনগর, নাঙ্গলকোট, লাকসাম, চৌদ্দগ্রাম ও দেবিদ্বার উপজেলায় সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত রোগী পাওয়া যাচ্ছে। গ্রামে-গঞ্জে রোগটি ভয়াবহভাবে ছড়িয়ে পড়েছে।

এ বিষয়ে কুমিল্লা জেনারেল হাসপাতালের চর্ম ও যৌনরোগ বিভাগের চিকিৎসক আজিজুর রহমান সিদ্দিকী বলেন, এটি খুব দ্রুত ছড়ায়। এটি ছোঁয়াচে রোগ। তার মতে, প্রতিদিন প্রায় ২০০-এর বেশি রোগী আসছেন, যার ৭০ শতাংশ স্ক্যাবিসে আক্রান্ত। অনেক ক্ষেত্রে রোগীরা বারবার আক্রান্ত হচ্ছেন, কারণ একসঙ্গে পরিবারের সবাই চিকিৎসা নিচ্ছেন না।

চিকিৎসকরা জানান, স্ক্যাবিসের উপসর্গের মধ্যে রয়েছে হাতের তালু, আঙুলের ফাঁক, কোমর, ঘাড় ও দেহের ভাঁজে লাল দানা, তীব্র চুলকানি, ঘা ও জ্বর। এটি একজনের শরীর থেকে অন্যজনের শরীরে ছড়ায় সরাসরি সংস্পর্শ বা ব্যবহৃত কাপড়চোপড়, তোয়ালে ও বিছানার চাদরের মাধ্যমে।

এ বিষয়ে কুমিল্লা জেলা সিভিল সার্জন আলী নূর বশির বলেন, গরমের সময় এ রোগের প্রকোপ বেশি দেখা যায়। এবার দেখা যাচ্ছে, এটি যৌন সংস্পর্শের মাধ্যমেও ছড়াচ্ছে। তবে চিকিৎসায় এটি সম্পূর্ণ নিরাময়যোগ্য। এক ঘরে যারা থাকেন, সবাইকে একসঙ্গে চিকিৎসা নিতে হবে।

চিকিৎসক ও স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা বলছেন, স্ক্যাবিস প্রতিরোধে চিকিৎসার পাশাপাশি জনসচেতনতা বাড়ানো জরুরি। সময়মতো চিকিৎসা না নিলে এই সংক্রামক ব্যাধি কিডনিসহ শরীরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গের ক্ষতি করতে পারে।