মাগুরায় শিশু ধর্ষণ ও হত্যা

ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত হিটু শেখের ডেথ রেফারেন্স হাইকোর্টে 

মাগুরায় আট বছরের শিশুকে ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত হিটু শেখের ডেথ রেফারেন্স (মৃত্যুদণ্ড অনুমোদনের নথি) সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্টে এসেছে। গতকাল মঙ্গলবার এ নথি হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট বিভাগে আসে। গত ১৭ মে মাগুরার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল প্রধান আসামি হিটু শেখকে এ সাজা দেয়। পাশাপাশি অপর তিনজনকে খালাস দেয় আদালত। নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ৯ (২) ধারায় হিটু শেখকে সর্বোচ্চ এ সাজা দেয় আদালত।

অন্যদিকে শিশুটির বোনের স্বামী সজীব শেখ, সজীবের ভাই রাতুল শেখকে দণ্ডবিধির ৫০৬ ধারায় (ভয়ভীতি দেখানো) এবং বোনের শাশুড়ি জাহিদা বেগমকে দণ্ডবিধির ২০১ ধারায় (আলামত গোপন) অভিযোগ আনা হলেও তা প্রমাণিত না হওয়ায় তাদের খালাস দেয় আদালত। এর মাধ্যমে ওই শিশুকে ধর্ষণ ও মৃত্যুর ঘটনায় সাক্ষ্যগ্রহণ শুরুর মাত্র ২১ দিনে বিচারকাজ শেষে রায় দেয় আদালত। আজ বুধবার সুপ্রিম কোর্টের জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. শফিকুল ইসলাম দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আসামি হিটু শেখের ডেথ রেফারেন্স হাইকোর্টে এসেছে। এখন আইন অনুযায়ী মামলাটি পরবর্তী পদক্ষেপে যাবে।’ 

ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৭৪ ধারার বিধান অনুযায়ী, অধস্তন আদালতে কোনো আসামির মৃত্যুদণ্ডের রায় হলে তা কার্যকরে হাইকোর্টে ডেথ রেফারেন্সের ওপর শুনানি ও অনুমোদনের প্রয়োজন হয়। এ জন্য অধস্তন আদালতের রায়ের অনুলিপি ও মামলার নথি হাইকোর্টে পাঠানো হলে এটি ডেথ রেফারেন্স হিসেবে নথিভূক্ত এবং শুনানির জন্য পেপারবুক (মামলার রায়সহ যাবতীয় নথি) প্রস্তুত হয়। পাশাপাশি কারাগারে থাকা আসামি হাইকোর্টে আপিল বা জেল আপিলের সুযোগ পান। হাইকোর্টে মৃত্যুদণ্ড বহাল থাকলে আসামি আপিল বিভাগে আপিল করতে পারেন। সর্বোচ্চ আদালতেও সর্বোচ্চ সাজা বহাল থাকলে আসামি রিভিউয়ের (রায় পুনর্বিবেচনা) সুযোগ পান। রিভিউতে দণ্ড বহাল থাকলে শেষ সুযোগ হিসেবে দোষ স্বীকার করে আসামি রাষ্ট্রপতির কাছে প্রাণভিক্ষার আবেদন করতে পারেন। সে আবেদন নাকচ হলে কারাবিধি অনুযায়ী ফাঁসির আসামির সাজা কার্যকর করা হয়। সাধারণত ডেথ রেফারেন্স মামলা হাইকোর্টের কার্যতালিকায় আসে ক্রমানুসারে। তবে, আলোচিত ও চাঞ্চল্যকর মামলার ক্ষেত্রে অগ্রাধিকারভিত্তিতে পেপারবুক তৈরি ও শুনানির অনেক নজির রয়েছে।  

গত ৬ মার্চ বৃহস্পতিবার ভোরে মাগুরা শহরের নিজনান্দুয়ালী এলাকায় ধর্ষণের শিকার হয় সে। প্রথমে মাগুরা সদর হাসপাতাল এরপর অবস্থার অবনতি হলে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের লাইফ সাপোর্টে নেওয়া হয়। এরপর ৮ মার্চ তাকে ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসাপাতালে (সিএমএইচ) প্যাডিয়াট্রিক আইসিইউতে নিয়ে চিকিৎসা দেওয়া হয়। গণমাধ্যমে এই শিশুর বিষয়ে প্রতিবেদন প্রকাশের পর শিশুটিকে সুস্থ করে তুলতে সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে চেষ্টা হয়। জীবন মৃত্যুর লড়াইয়ে থাকা শিশুটির জন্য কয়েকদিন পথে নেমেছিল ছাত্র, শিক্ষক থেকে শুরু করে বিভিন্ন শ্রেণি পেশার লাখো মানুষ। ধর্ষকদের দ্রুত সর্বোচ্চ বিচারের দাবিতে মুখর হয় সারাদেশ। গত ১৩ মার্চ দুপুর ১টার পরে আন্তবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) জানায়, মাগুরায় নির্যাতিত শিশুটি মারা গেছে। ওই দিন সামরিক বাহিনীর একটি হেলিকপ্টারে শিশুটির মরদেহ নিয়ে যাওয়া হয় মাগুরায় তার নিজ গ্রামে। দুই দফা জানাজা শেষে তাকে দাফন করা হয়।