শত বিলিয়ন ডলারের লক্ষ্যে সম্মিলিত পরিষদের ১২ দফা ইশতেহার

তৈরি পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ নির্বাচন আগামী ৩১ মে ঢাকা ও চট্টগ্রামে একযোগে অনুষ্ঠিত হবে। এর আগে এই শিল্পের রপ্তানি আয় ১০০ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছানোর লক্ষ্যে সুনিদিষ্ট ১২ দফার নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করেছে, সম্মিলিত পরিষদের প্যানেল লিডার মো. আবুল কালাম।

বুধবার (২১ মে) রাজধানীর ইন্টার ইন্টারকন্টিনেন্টাল হোটেলে আনুষ্ঠানিকভাবে ইশতেহার ঘোষণা করেন তিনি।

আবুল কালাম বলেন, আমি শুধু প্যানেল লিডার নয়- আপনাদের সহকর্মী, পোশাক শিল্পের একজন অংশীদার। তিনি পোশাক শিল্পের সূচনা ও সাফল্যের ইতিহাস স্মরণ করে বলেন, মাত্র ১২ হাজার ডলারের রপ্তানি দিয়ে যাত্রা শুরু করে বাংলাদেশ আজ বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম রপ্তানিকারক। তৈরি পোশাক শিল্পের সামনে ১০০ বিলিয়ন ডলারের রপ্তানি লক্ষ্যে পৌঁছাতে প্রয়োজন সময়োপযোগী নেতৃত্ব, যারা অভিজ্ঞতা, সাহস ও তারুণ্যের সমন্বয়ে শ্রমিক, উদ্যোক্তা ও আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সঙ্গে দক্ষতার সঙ্গে কাজ করতে পারবেন।

অনুষ্ঠানের শুরুতে বিজিএমইএর সাবেক সভাপতি ও সম্মিলিত পরিষদের নির্বাচনের প্রধান সমন্বয়ক ফারুক হাসান তাদের নেতৃত্বে তৈরি পোশাক শিল্পের জন্য তাদের বিভিন্ন অর্জন তুলে ধরেন। পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউট অফ বাংলাদেশের অর্থনীতিবিদ হাসনাত আলম সামগ্রিক অর্থনীতি ও তৈরি পোশাক শিল্পের ওপর একটি প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন।

ইশতেহোরে ক্ষুদ্র ও মাঝারি কারখানার জন্য নীতিগত, আর্থিক ও কাঠামোগত সহায়তায় ‘এসএমই সাপোর্ট সেল’ চালুর প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন আবুল কালাম। তারা ভ্যাট, এইচএস কোড, অর্ডার বাতিল, বিলম্বিত পেমেন্ট ও চুক্তি সংক্রান্ত আইনি জটিলতা নিরসনে সরকারের সঙ্গে কাজ করবেন বলে জানান।

পণ্য ও বাজার বহুমুখীকরণের বিষয়ে বলেছন, নতুন বাজার গড়ে তোলার লক্ষ্যে একটি বিশেষ ডেস্ক গঠন করা হবে। যার মাধ্যমে মধ্যপ্রাচ্য, আফ্রিকা ও দক্ষিণ আমেরিকায় বাজার সম্প্রসারণ ও ইউরোপ-আমেরিকার ওপর নির্ভরতা কমানোর উদ্যোগ থাকবে।

বাণিজ্য সহায়তা ও এনবিআর সংস্কারবে বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছে, সম্মেলিত পরিষদ। প্যানেলটি ইশতেহারে বলেছে- বন্ড সুবিধা, গ্রিন চ্যানেল চালু, সোর্স ট্যাক্স হ্রাসসহ কাস্টমস-বন্ড-ভ্যাট ব্যবস্থার যুগোপযোগী সংস্কার করতে হবে।

এ প্রসঙ্গে আবুল কালাম বলেন, জরুরি রপ্তানির জন্য নন-বন্ডেড কারখানায় অস্থায়ী বন্ড সুবিধা; বিজিএমইএ, এনবিআর ও কাস্টমস যৌথ টাস্কফোর্স গঠন; ভ্যাট ও করের নিয়ম সরলীকরণ ভ্যাট ছাড় ও বিজিএমইএর সোর্স ট্যাক্স হ্রাস; বন্দরে তৈরি পোশাক শিল্পের জন্য গ্রিন চ্যানেল সুবিধা চালুরউদ্যোগ; ইউপি অর্ডার সচল রাখা ও বন্ডেড সরবরাহকারীদের সমন্বয়; সোলার ও জ্বালানি-দক্ষ যন্ত্রপাতির আমদানিতে সবুজ প্রণোদনা এবং সিন্থেটিক, আউটারওয়্যারসহ নতুন পণ্যে বিশেষ সহায়তা প্যাকেজে উদ্যোগ নেব।

মেড ইন বাংলাদেশ বিশ্ব বাজারে বাংলাদেশের নতুন পরিচিতি বিষয়ে তিনি বলেন, বাংলাদেশের ব্র্যান্ডিংয়ে প্রিমিয়াম পণ্যের প্রচারণা, ডিজাইন-ভিত্তিক প্রদর্শনী ও ভিজ্যুয়াল ব্র্যান্ডিং সাপোর্টে আমরা মেড ইন বাংলাদেশ প্রিমিয়াম এডিশন’ নামে একটি গ্লোবাল ব্র্যান্ডিং প্রচারণা চালু করব, যেখানে বাংলাদেশকে কেবল সস্তাউৎপাদনের দেশ নয়, বরং আধুনিক, টেকসই ও মূল্যনির্ভর সোর্সিংডেস্টিনেশন হিসেবে পরিচিত করা হবে।

প্রিমিয়াম ক্রেতাদের জন্য কাস্টমাইজড কনটেন্ট তৈরি ও প্রচার, সদস্যদের জন্য ব্র্যান্ড বিল্ডিং সাপোর্ট- ফটোশুট, ক্যাটালগ, ভার্চুয়াল শো-রুম তৈরি করা এবং হাই-অ্যান্ড নিটওয়্যার, আউটারওয়্যার ও সার্কুলার কালেকশন নিয়েডিজাইন-ভিত্তিক প্রদর্শনী করা হবে। এতে বাংলাদেশের রপ্তানি ভাবমূর্তি ও বাজার অবস্থান আরও শক্তিশালী করবে বলে তিনি মনে করেন।

সম্মিলিদ পরিষদের ১২ দফা হলো- এসএমই সহায়তা সেল ও নীতিগত সহায়তা; বিদ্যুৎ-জ্বালানি নিরাপত্তা ও বিকল্প প্রণোদনা প্যাকেজ; মধ্য-পর্যায়ের ব্যবস্থাপকদের দক্ষতা উন্নয়ন; গ্রীন ফান্ডিং ডেস্ক ও ব্যাংকিং সহায়তা ডেস্ক; বাজার ও পণ্যের বৈচিত্রকরণ; এলডিসি পরবর্তী প্রতিযোগিতা নীতি; বাণিজ্য সহায়তা ও এনবিআর সংস্কার; রপ্তানি সহায়তা ওয়ান-স্টপ সাপোর্ট সেল, নীতিনির্ধারণ বুদ্ধিমত্তা সেল ও ডিজিটাল রূপান্তর সেন্টার; সামাজিক নীতিপালন উন্নয়ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন; ব্যবসায়িক সম্ভবনার সাথে শিল্পায়নের সবুজ রূপান্তর; মেড ইন বাংলাদেশ বিশ্ব বাজারে নতুন পরিচিতি; অ্যাপারেল ডিপ্লোম্যাসি ও দায়িত্বশীল এক্সিট পলিসি।