'আমলাদের সংকীর্ণ দৃষ্টিভঙ্গিতে ব্যহত বিজ্ঞান চর্চা'

'দেশে বিজ্ঞান চর্চার অপার সম্ভাবনা রয়েছে। কিন্তু যথাযথ রাষ্ট্রীয় নীতিমালা না থাকা এবং আমলাতান্ত্রিক জটিলতা, দীর্ঘসূত্রিতা বিশেষ করে আমলাদের সংকীর্ণ দৃষ্টিভঙ্গির কারণে সেই সম্ভাবনা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে'।

আজ বুধবার ঢাকার আগারগাঁওয়ে বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশনের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় বক্তারা এসব কথা বলেন।

‘বাংলাদেশে পরমাণু বিজ্ঞান বিকাশে সম্ভাবনা, সংকট ও উত্তরণের উপায়’ শীর্ষক আলোচনাসভার আয়োজন করে বাংলাদেশের সচেতন বিজ্ঞানী সমাজ ও ‘ভাববৈঠকি’।

সভায় প্রধান আলোচক ছিলেন দার্শনিক, কবি ও লেখক ফরহাদ মজহার। আলোচনায় অংশ নেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক কামরুল হাসান মামুন, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক মো. জামাল উদ্দিন, পরমাণু শক্তি কমিশনের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. এ এস এম সাইফুল্লাহ।

বক্তারা বলেন, বাংলাদেশের পরমাণু বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি চর্চা মূলত একটি বিশেষায়িত গবেষণা ও পরিষেবা ক্ষেত্র। অথচ এর নীতিনির্ধারণ, প্রশাসন এবং আর্থিক কাঠামো গভীরভাবে আমলাতান্ত্রিক শৃঙ্খল এবং অযাচিত ও অন্যায় রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণের অধীন। পরমাণু শক্তি কমিশনের ওপর মন্ত্রণালয়ের অযাচিত হস্তক্ষেপের নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন বক্তাদের অনেকে।

পরমাণু শক্তি কমিশনের জীববিজ্ঞান বিভাগের প্রাক্তন পরিচালক ডা. ফারিয়া নাসরীনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন কমিশনের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. প্রকৌশলী শেখ মঞ্জুরা হক। তিনি পরমাণু বিজ্ঞান গবেষণা কার্যক্রমের বিভিন্ন দিক, সম্ভাবনা, সংকট ও এর থেকে উত্তরণের উপায় ইত্যাদি বিষয় উপস্থাপন করেন।

দেশে পারমানবিক প্রযুক্তির উন্নয়ন ও অগ্রগতির জন্য অনুষ্ঠানে ১০টি প্রস্তাব তুলে ধরা হয়। যার মধ্যে রয়েছে- চেয়ারম্যান ও চার সদস্য সম্বলিত একটি পূর্ণাঙ্গ কমিশন গঠন করা; কমিশনকে নীতিগত সহায়তা প্রদানের পরিবর্তে খোদ কমিশন পরিচালনার মনোভাব মন্ত্রণালয়কে পরিহার; উচ্চশিক্ষা ও প্রশিক্ষণের পূর্বানুমতি, মনোনয়ন এবং জি.ও. প্রদানের এখতিয়ার কমিশনের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া; কমিশনের নিউক্লিয় তথ্যের সুরক্ষা ও গোপনীয়তা নিশ্চিত কল্পে মন্ত্রণালয় কর্তৃক সৃষ্ট বিভিন্ন সফটওয়ারে তথ্য প্রদানের বাধ্যবাধকতা দূর করা; বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের ন্যায় পদমানক্রম নিশ্চিত করা।

অন্যান্য প্রস্তাবগুলো হলো- রূপপুর পারমানবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের উৎপাদিত বিদ্যুতের জন্য মালিক সংস্থা হিসেবে বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশনের সঙ্গে পিডিবির ‘বিদ্যুৎ ক্রয় চুক্তি’ সম্পন্ন; কমিশনের সকল অস্থায়ী পদ স্থায়ীকরণ, নতুন পদ সৃজন এবং সমধর্মী প্রতিষ্ঠানের ন্যায় কিছু সুযোগ সুবিধা যেমন- গৃহনির্মাণ/ ফ্ল্যাট ক্রয় ঋণ, রেশন এবং প্রযোজ্য ক্ষেত্রে সুদ মুক্ত ঋণ ও গাড়ি সেবা নগদায়ন সুবিধাদি চালু করতে হবে।

এ ছাড়া বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশনের সুফল জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে মন্ত্রণালয়  সৃষ্ট সকল কৃত্রিম বাধা দূর করা, ওয়ারেন্ট অফ প্রিসিডেন্সে কমিশনের চেয়ারম্যান ও সদস্যদের অবমাননাকর অবস্থান উন্নীত করার ব্যবস্থা নেওয়া এবং পরমাণু বিজ্ঞানসহ দেশের সকল পর্যায়ের বিজ্ঞানের বিকাশ সাধনে বাজেট বরাদ্দ বৃদ্ধি, মুক্তচিন্তার পরিবেশ তৈরিসহ মৌলিক গবেষণার পথ প্রসারিত করার দাবি জানানো হয়েছে।