ড. খলিলকে উপদেষ্টার পদ থেকে সরিয়ে দিতে হবে: রিজভী

বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী সরকারের কাছে দাবি জানিয়ে বলেছেন, ড. খলিলুর রহমানকে অবিলম্বে জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টার পদ  থেকে সরিয়ে দিতে হবে। শুধু তাই নয়, দেশে-বিদেশে তার অবস্থান সম্পর্কে সম্পূর্ণ তথ্য দেশের জনগণের সামনে হাজির করতে হবে।

আজ বৃহস্পতিবার নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ দাবি জানান।

গতকাল বুধবার রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে খলিলুর রহমান বলেছেন, কেবলমাত্র আমি আমেরিকায় থেকেছি বলে আমাকে যদি বলা হয় আপনি বিদেশি নাগরিক, তাহলে কালকে তারেক রহমান সাহেবকেও সে কথা বলতে হবে। আমাকে ঢিল নিক্ষেপ করলে সেই ঢিল কিন্তু অন্যের ওপর গিয়েও পড়তে পরে।

সংবাদ সম্মেলনে তার বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় রিজভী বলেন, মিয়ানমারকে মানবিক করিডর দেওয়ার বিষয় নিয়ে খলিলুর রহমান সম্পর্কে জনগণের মধ্যে যে ধারণা জন্মেছে এবং তার বিরুদ্ধে ওঠা বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব না দিয়ে পলাতক স্বৈরাচারের মতো বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বিপক্ষে প্রোপাগান্ডার পথ বেছে নিয়ে জনগণের দৃষ্টি ভিন্নখাতে প্রবাহিত করার অপচেষ্টা চালাচ্ছেন। এগুলো দেশের জনগণ মেনে নেবে না।

খলিলুর রহমানের সমালোচনা করে রিজভী বলেন, খলিলুর রহমান দেড় দশকের গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের আন্দোলনে গণমানুষের নেতা, তারেক রহমানকে নিয়ে যে বক্তব্য দিয়েছেন তাতে দেশের মানুষ বিস্মিত-হতবাক, উদ্বিগ্ন এবং ক্ষুব্ধ হয়েছেন। ফ্যাসিবাদের প্রভু হাসিনা যেভাবে গণতন্ত্রকে কফিন পরিয়ে তথাকথিত উন্নয়নের ইন্দ্রজাল সৃষ্টির জন্য জিয়া পরিবারকে নিয়ে কুৎসা রটাতেন, উপদেষ্টার এই মন্তব্য যেন তারই পুনরাবৃত্তি। এখনো যেন লোকমানসে উজ্জ্বলতর তারেক রহমানের ভাবমূর্তিকে বিনষ্ট করার জন্য প্রতিশোধের চেষ্টা করা হচ্ছে।

তিনি প্রশ্ন রেখে বলেন, ফ্যাসিবাদের দেড় দশক ড. খলিল কোথায় ছিলেন? কিভাবে ছিলেন? কোন দেশে ছিলেন? বিদেশে তার স্ট্যাটাস কি ছিল? ফ্যাসিবাদের বিপক্ষে তার ভূমিকা কি ছিল? অবশ্যই এসকল প্রশ্নের জবাব জনগণকে জানাতে হবে। আমাদের বক্তব্য স্পষ্ট, রাষ্ট্র নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করার সুযোগ নেই।

তারেক রহমানের নির্বাসিত জীবন সম্পর্কে রিজভী আরও বলেন, দুনিয়া কাঁপানো ছাত্র-জনতার তুমুল আন্দোলনের মুখে গত ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা ভারতে পালিয়ে যাওয়ার পর আদালত মিথ্যা মামলায় প্রদত্ত বেশিরভাগ সাজা বাতিল করেছেন। তারেক রহমান তার জীবনের নিরাপত্তাহীনতার কারণে দেশে ফিরতে পারেননি। ১৯৫১ সালের শরণার্থী কনভেনশনের অধীনে পর্যটক, কর্মক্ষেত্র, ছাত্র, বিনিয়োগকারী এবং পরিবার বা শরণার্থী ভিসাসহ ভিসা বিভাগের অধীনে একজন বিদেশি নাগরিকের জন্য যুক্তরাজ্যে স্বল্প সময়ের (ছয় মাস), বর্ধিত সময়ের জন্য বা অনির্দিষ্টকালের জন্য বসবাস করা আইনত বৈধ।

ওয়ান-ইলেভেনের প্রসঙ্গ টেনে রিজভী বলেন, ওয়ান ইলেভেনের সেনা সমর্থিত তথাকথিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের নির্মম হত্যা প্রচেষ্টা থেকে পঙ্গু অবস্থায় ২০০৮ সালের সেপ্টেম্বরে উন্নত চিকিৎসার জন্য তারেক রহমান যুক্তরাজ্যে যান। তখন থেকে তিনি তার পরিবারের সঙ্গে সেখানে বসবাস করছেন। বাংলাদেশ ত্যাগের পর, তারেক রহমানকে রাজনৈতিকভাবে নিশ্চিহ্ন করার উদ্দেশ্যে বহু মিথ্যা সাজানো মামলায় জড়ানো হয়েছিল, যার মধ্যে তথাকথিত মানি লন্ডারিং মামলা (২০১১), জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলা (২০১৭), ঘোষিত/অঘোষিত সম্পদ মামলা (২০২২) এবং ২১ আগস্ট  গ্রেনেড হামলা মামলা (২০০৪) ছিল অন্যতম। দেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় এই নেতার অনুপস্থিতিতে, ফ্যাসিস্ট হাসিনার নির্দেশে আওয়ামী ক্যাংগারু আদালত তাকে সাজা দেন।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আব্দুস সালাম, যুগ্ম-মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন, আব্দুস সালাম আজাদ, স্বেচ্ছাসেবক বিষয়ক সম্পাদক মীর সরাফৎ আলী সপু, সহ-দপ্তর সম্পাদক তাইফুল ইসলাম টিপু প্রমুখ।