কচুরিপানায় আটকে প্রাণ গেল অর্ধশত গরুর

মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া উপজেলার হোসেন্দী ইউনিয়নের ভাটিবলাকী গ্রামে মেঘনা নদীর খালে জোয়ারে কচুরিপানার চাপে অর্ধশত গরুর মৃত্যু হয়েছে। গতকাল শুক্রবার বিকেল ৪টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। কৃষি ও গবাদি পশুনির্ভর এ গ্রামে ঘরে ঘরে চলছে শোকের মাতম।

জানা যায়, মেঘনা নদীবেষ্টিত ভাটিবলাকী গ্রামের বাসিন্দারা প্রতিদিনের মতো সকালে গরুগুলো চরে ঘাস খাওয়াতে ছেড়ে দেন। কিন্তু বেলা ৩টার মধ্যে গরুগুলো ফিরে না আসায় কয়েকজন মালিক খালের পাড়ে যান। সেখানে তারা দেখেন, জোয়ারের পানিতে কচুরিপানার চাপে গরুগুলো ভেসে যাচ্ছে, কিছু মৃত অবস্থায় পড়ে আছে। গ্রামবাসীকে খবর দিলে তারা ছুটে এসে উদ্ধারকাজ শুরু করেন।

গ্রামের বাসিন্দা সুজন বলেন, ঘটনাস্থলে এসে আমরা হতবাক। গ্রামের এমারের দুটি, মহাসিনের পাঁচটি, ইয়ানুরের তিনটি, রনির একটি, নাহিদের তিনটি, হানিফার দুটি, মনার দুটি, শরীফের তিনটি, তরিকুলের দুটি, কবির খানের তিনটি, আবুল হোসেনের তিনটি, শাহজালালের তিনটিসহ অর্ধশত গরু মারা গেছে। তিনি বলেন, ক্ষতিগ্রস্তদের অধিকাংশই হতদরিদ্র, যাদের জীবিকা এ গরুগুলোর ওপর নির্ভরশীল ছিল।

গ্রামবাসীরা জানান, এ ঘটনা তাদের জীবনযাত্রায় বড় ধরনের ধাক্কা দিয়েছে। তারা কচুরিপানা অপসারণ ও খালের নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের দাবি জানিয়েছেন। তারা বলছেন, এ ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও অব্যবস্থাপনা তাদের জীবনকে আরও সংকটের মুখে ঠেলে দিয়েছে।

গজারিয়া নৌ-পুলিশ ফাঁড়ির অফিসার ইনচার্জ শরজিৎ কুমার বলেন, খবর পেয়ে আমরা এবং কলাগাছিয়া নৌ-পুলিশ ফাঁড়ির সদস্যরা যৌথভাবে উদ্ধার কাজে অংশ নিয়েছি। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছি।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আশরাফুল আলম বলেন, আমরা ঘটনার বিষয়ে জানতে পেরেছি। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়ানোর জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।