প্রশাসক দিয়ে আট মাস পার খবর নেই নির্বাচনের

চট্টগ্রামে ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন ‘দ্য চিটাগাং চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি’ আট মাস ধরে চলছে ব্যবসায়ী নেতৃত্ব ছাড়াই। কবে নির্বাচনের মাধ্যমে নিজেদের নেতৃত্ব আসবে তাও বলতে পারছেনা কেউ। ট্রেড অর্গানাইজেশন রুলস অনুযায়ী নির্বাচনের ৮০ দিন আগে তফসিল ঘোষণার কথা রয়েছে। কিন্তু ৭ জুলাই চেম্বার প্রশাসকের বর্ধিত মেয়াদ শেষ হচ্ছে। এ অবস্থায় আবারও প্রশাসকের মেয়াদ বাড়তে পারে বলে জানিয়েছেন চেম্বারসংশ্লিষ্টরা।

ব্যবসায়ীরা বলছেন, ব্যবসাবাণিজ্য সংক্রান্ত সরকারের বিভিন্ন ধরনের পলিসি নির্ধারণে ব্যবসায়ীদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে চট্টগ্রাম চেম্বারের ভূমিকা থাকে। কিন্তু নির্বাচিত ব্যবসায়ী নেতৃত্ব না থাকায় ব্যবসায়ীদের বিভিন্ন সমস্যা সরকারের দৃষ্টিগোচর করা এবং তা সমাধানে যথাযথ ভূমিকা রাখতে পারছেনা চেম্বার।

চট্টগ্রাম চেম্বারের প্রশাসক ও চট্টগ্রামের অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার মো. আনোয়ার পাশা দেশ রূপান্তরকে বলেন, একটি অংশগ্রহণমূলক ও সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য ব্যবসায়ীদের প্রত্যাশা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় সংস্কার কার্যক্রম চলমান রয়েছে। সদস্যপদ নবায়ন ও নতুন সদস্য অন্তর্ভুক্তিসহ সার্বিক কার্যক্রম আমরা গুছিয়ে এনেছি। যথাসময়ে নির্বাচন বোর্ড ও আপিল বোর্ড গঠন করা হয়েছে। তিনি জানান, ব্যবসায়ীদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে নির্বাচনে ‘টাউন অ্যাসোসিয়েশন ও ট্রেড গ্রুপ’ ক্যাটাগরি বিলুপ্তির বিষয়ে আমরা বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠিয়েছি। এ বিষয়ে মন্ত্রণালয়ের অভিমত পেলে আমরা নির্বাচনের বিষয়ে পরবর্তী কার্যক্রম শুরু করব।

জুলাই অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর চট্টগ্রাম চেম্বার পরিচালনা বোর্ডকে ফ্যাসিবাদের দোসর আখ্যা দিয়ে তাদের পদত্যাগ দাবিতে বিভিন্ন আন্দোলন কর্মসূচি পালন করে ব্যবসায়ীদের কয়েকটি সংগঠন। আন্দোলনের মুখে একপর্যায়ে তৎকালীন সভাপতি ওমর হাজ্জাজের নেতৃত্বাধীন পরিচালনা বোর্ড গত ৩ সেপ্টেম্বর পদত্যাগ করে। এর এক সপ্তাহের মাথায় চট্টগ্রামের অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার মো. আনোয়ার পাশাকে প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয় বাণিজ্য মন্ত্রণালয় থেকে। বাণিজ্য সংগঠন আইন ২০২২ এর ১৭ ধারা অনুযায়ী ১২০ দিনের মধ্যে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে নির্বাচিত কমিটির কাছে দায়িত্ব হস্তান্তর করে মন্ত্রণালয়কে অবহিত করারও নির্দেশনা দেওয়া হয় প্রশাসককে। পরবর্তীতে মেয়াদ আরও ৯০ দিন বর্ধিত করা হয়। আগামী ৭ জুলাই প্রশাসকের বর্ধিত মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা রয়েছে।

চেম্বারের সাবেক পরিচালক মাহফুজুল হক শাহ দেশ রূপান্তরকে বলেন, সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য যেসব জায়গায় সংস্কার প্রয়োজন তা শেষ করে দ্রুততম সময়ের মধ্যে চেম্বার নির্বাচন হওয়া প্রয়োজন। ব্যবসায়ীদের ঐতিহ্যবাহী এই সংগঠন দীর্ঘদিন ব্যবসায়ী নেতৃত্ববিহীন অবস্থায় থাকা এটা ব্যবসায়ীদের জন্যই অস্বস্তিকর।

চট্টগ্রাম ফ্রেশ ফ্রুটস, ভেজিটেবলস অ্যান্ড প্রোডাক্টস এক্সপোর্টার্স গ্রুপের সভাপতি মাহবুব রানা দেশ রূপান্তরকে বলেন, দীর্ঘ প্রায় দেড় যুগ ধরে চট্টগ্রাম চেম্বার এক ব্যক্তির আঙুলের ইশারায় চলেছে। তিনি যখন যাকে চেয়েছেন সভাপতির চেয়ারে বসিয়েছেন, যাকে চেয়েছেন পরিচালক বানিয়েছেন।