বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের দুই নেতার পদত্যাগ

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা ও নারায়ণগঞ্জ জেলা কমিটির দুই নেতা পৃথকভাবে পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন। চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা কমিটির সদস্য আবদুল হাফিজ ব্যক্তিগত কারণ ও আন্দোলনের অভ্যন্তরীণ বিভাজনের হতাশা এবং নারায়ণগঞ্জ জেলা কমিটির সদস্য আবু হুরায়রা তানজিম সংগঠনের রাজনৈতিক দলের প্রভাবে পরিণত হওয়ার অভিযোগ তুলে তারা পদ ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। গত বৃহস্পতিবার রাত ও গতকাল শুক্রবার তারা দুজনই ফেসবুকে এ ঘোষণা দেন।

চট্টগ্রাম ব্যুরো জানিয়েছে, চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা কমিটির সদস্য আবদুল হাফিজ গত বৃহস্পতিবার রাত ১০টায় ফেসবুকে পোস্ট দিয়ে পদত্যাগের ঘোষণা দেন। বড় হাতিয়া ইউনিয়নের রশিদার ঘোণার বাসিন্দা হাফিজ পোস্টে লেখেন, ‘জুলাইয়ের স্পিরিট ধারণ করে শহীদদের স্বপ্নের বাংলাদেশ গড়তে কাজ করেছি। এ আন্দোলন থেকে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার অভিজ্ঞতা অর্জন করেছি। তবে ব্যক্তিগত কারণ ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার জন্য পদ থেকে সরে দাঁড়াচ্ছি।’

সংবাদমাধ্যমকে তিনি বলেন, ‘৫ আগস্টের পর জনগণের সম্মান ও ভালোবাসা কমেছে। জুলাই অভ্যুত্থানের শক্তিগুলোর বিভাজন আমাকে হতাশ করেছে। দলের অপকর্মের দায় নিতে চাই না। এখন পড়াশোনা, পারিবারিক ব্যবসা ও ব্যক্তিগত কাজে মনোযোগ দিতে চাই।’

চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলার আহ্বায়ক জুবাইর হোসেন বলেন, ‘হাফিজের ফেসবুক পোস্ট দেখেছি। তিনি ব্যক্তিগত কারণে পদত্যাগ করেছেন। পরবর্তী কমিটির বৈঠকে এ বিষয়ে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’

নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি জানান, নারায়ণগঞ্জ জেলা কমিটির সদস্য আবু হুরায়রা তানজিম গতকাল শুক্রবার ফেসবুকে পোস্ট দিয়ে পদত্যাগ করেন। সাইপ্রাসের ফিলিপস বিশ্ববিদ্যালয়ে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিষয়ে পড়াশোনারত তানজিম বলেন, জুলাই অভ্যুত্থানে সব শ্রেণি-পেশার মানুষের অংশগ্রহণে হাসিনার পতন হয়। কিন্তু বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন মুষ্টিমেয় লোকের সমন্বয়ে গঠিত হয়, যেখানে সবার প্রতিনিধিত্ব নেই। অরাজনৈতিক হওয়ার দাবি থাকলেও এটি একটি দলের গোলামে পরিণত হয়েছে। বিভিন্ন সভা-সমাবেশে কর্মী পাঠানো, তদবির বাণিজ্য, দুর্নীতি ও আওয়ামী লীগের পুনর্বাসনে সংগঠনের অনেকে জড়িত। এটি জুলাইয়ের শহীদদের সঙ্গে বেঈমানি।

তিনি দেশের অর্থনৈতিক ভঙ্গুরতা ও সমস্যার সমালোচনা করে দ্রুত জাতীয় নির্বাচনের দাবি জানান। তিনি বলেন, অরাজনৈতিক প্ল্যাটফর্মের নামে রাজনৈতিক লেজুড়বৃত্তি প্রতারণা। আমরা এই ম্যান্ডেট নিয়ে আন্দোলন করিনি।

নারায়ণগঞ্জ জেলার আহ্বায়ক নীরব রায়হান বলেন, আনুষ্ঠানিক পদত্যাগপত্র পাইনি, পোস্টও দেখিনি। তানজিম কমিটিতে যুক্ত হওয়ার আগ্রহ দেখিয়েছিলেন, কিন্তু মিটিংয়ে সক্রিয় ছিলেন না। তার সঙ্গে যোগাযোগ করে বিস্তারিত জানাব।