প্রতি বর্গফুট গরুর চামড়ার দাম ৫ টাকা ও খাসির ২ টাকা বাড়ল

পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে কোরবানির পশুর চামড়ার দাম নির্ধারণ করে দিয়েছে সরকার। এ বছর ঢাকায় গরুর লবণযুক্ত চামড়ার বর্গফুটপ্রতি দাম গত বছরের তুলনায় সর্বোচ্চ পাঁচ টাকা, আর খাসি ও বকরির চামড়ার দাম ২ টাকা বাড়ানো হয়েছে।

রবিবার বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে কাঁচা চামড়ার দাম নির্ধারণ বিষয়ে প্রেস ব্রিফ করেছেন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন।

বাণিজ্য উপদেষ্টা বলেন, এ বছর প্রতি বর্গফুটে চামড়ার দামের পাশাপাশি ছোট গরুর আয়তন হিসেবে সর্বনিম্ন দাম ও নির্ধারণ করে দিয়েছি। এ বছর গরুর লবণযুক্ত চামড়ার সর্বনিম্ন দাম ১১৫০ টাকা নির্ধারণ করে দেয়া হয়েছে। এ দাম ঢাকায় হবে ১৩৫০ টাকা। আমরা আশা করি এরচেয়ে কমে চামড়া বিক্রি হবে না। সরকার চামড়ার নায্য দাম নিশ্চিতে সকল ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছে। 

তিনি জানান, এ বছর ঢাকায় গরুর প্রতি বর্গফুট লবণযুক্ত চামড়ার দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ৬০ থেকে ৬৫ টাকা, যা গত বছর ছিল ৫৫ থেকে ৬০ টাকা। অন্যদিকে ঢাকার বাইরে গরুর প্রতি বর্গফুট লবণযুক্ত চামড়ার দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ৫৫ থেকে ৬০ টাকা, যা গত বছর ছিল ৫০ থেকে ৫৫ টাকা।

এছাড়া সারা দেশে খাসির প্রতি বর্গফুট চামড়ার দাম হবে ২২ থেকে ২৭ টাকা। এ ছাড়া বকরির চামড়ার দাম হবে ২০ থেকে ২২ টাকা। গত বছরের তুলনায় এই দুই পদের চামড়ার দাম বর্গফুটে দুই টাকা বেড়েছে।

গত বছর খাসির প্রতি বর্গফুট চামড়ার দাম ছিল ২০ থেকে ২৫ টাকা, আর বকরির থেকে ১৮ থেকে ২০ টাকা।

বাণিজ্য উপদেষ্টা আরও জানান, জেলা এবং উপজেলা পর্যায়ে ঈদের পর অন্তত ১৫ দিন পর্যন্ত কাঁচা চামড়া স্থানীয় ব্যবস্থাপনায় সংরক্ষণের জন্য জেলা প্রশাসকদের নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে।

স্থানীয় পর্যায়ে চামড়া সংরক্ষণ, হাট-বাজার ব্যবস্থাপনাসহ তিন মাসের জন্য কাঁচা চামড়া এবং ওয়েট ব্লু চামড়া রপ্তানির শর্ত শিথিল করার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে। এছাড়া ঢাকায় দশ দিনের আগে কাঁচা চামড়া প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না। 

সকলকে তড়িঘড়ি করে চামড়া বিক্রি না করে চামড়া সংরক্ষণের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, কোরবানির ঈদে সুষ্ঠু চামড়া ব্যবস্থাপনা ও পশু পরিবহনে সার্বিক নিরাপত্তার লক্ষ্যে বাংলাদেশ পুলিশের হেল্পলাইন- ৯৯৯ থেকে নিরবচ্ছিন্ন সেবা প্রদান করা হবে। পাশাপাশি এ বিষয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়েও বিশেষ কন্ট্রোল সেল এর ব্যবস্থা করা হবে।