রাজধানীর আদাবরের এএনএইচ গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মোকাদ্দেস হানিফ টলিনের বিরুদ্ধে সন্তানের পিতৃপরিচয় চেয়ে সংবাদ সম্মেলন করেছেন মবিনা জান্নাত নামের এক নারী। তার অভিযোগ, প্রতিষ্ঠানের নারী কর্মীর অসহায়ত্বের সুযোগ নিয়ে তিনি সন্তানকে পিতৃপরিচয় দিচ্ছেন না। বরং ভুক্তভোগী ও তার সন্তানকে গুম ও হত্যার চেষ্টা করেছেন।
রবিবার দুপুরে ইস্কাটনের একটি রেস্তোরাঁয় সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ করেন মবিনা জান্নাত। অদৃশ্য শক্তির ইশারায় ধর্ষণ মামলায় জামিনে বেরিয়ে ভুক্তভোগীকে মামলা তুলে নিতে চাপ দেয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন ভুক্তভোগী।
সংবাদ সম্মেলনে মবিনা জান্নাত বলেন, ২০১৭ সালে পারিবারিকভাবে খোরশেদ আলম রোমেল নামে এক যুবকের সঙ্গে তার বিয়ে হয়। কিন্তু স্বামীর হাতে দীর্ঘদিন মানসিক ও শারীরিক নির্যাতনের শিকার হয়ে ২০২০ সালে তালাকপ্রাপ্ত হন। এরপর চাকরির সুবাদে পরিচয় ঘটে মোকাদ্দেস হানিফের সঙ্গে। তিনি দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে জোরপূর্বক শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করেন এবং পরে বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে একাধিকবার একই কাজ করেন।
২০২২ সালের এপ্রিলে মবিনা জানতে পারেন তিনি সন্তানসম্ভবা। কিন্তু মোকাদ্দেস বিষয়টি গোপন রাখতে বলেন এবং সন্তানের দায় নিতে গড়িমসি করেন। এ অবস্থায় সন্তান জন্ম নিলে সামাজিক স্বীকৃতি ও আইনি নিরাপত্তা পাওয়ার আশায় তিনি ডিএনএ টেস্টের উদ্যোগ নেন।
ডিএনএ পরীক্ষায় প্রমাণ হয়, মোকাদ্দেস হানিফই তার সন্তানের পিতা। তারপরও হানিফ সন্তানের পিতৃত্ব স্বীকার করতে রাজি হননি বরং ক্ষমতা ব্যবহার করে বিষয়টি ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টা করেন। মামলার পর মোকাদ্দেস হানিফের বিরুদ্ধে আদালত গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে। কিন্তু ব্যারিস্টার কায়সার কামালের সহযোগিতায় গত ৫ মে জামিনে বেরিয়ে যান হানিফ। এরপর থেকে মবিনাকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলে দাবি করেন তিনি।
তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমি সন্তানের পিতৃপরিচয়ের জন্য লড়াই করছি। অথচ আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা, প্রাণনাশের হুমকি ও সামাজিকভাবে হেয় করার চেষ্টা চলছে।’
ভুক্তভোগী বলেন, ‘আমার আড়াই বছরের মেয়েটির জন্ম থেকে হার্টে ফুটো। আর্থিক অভাবে তার চিকিৎসা চালাতে পারছি না। জরুরি ভিত্তিতে তাকে দেশের বাইরে নিয়ে চিকিৎসা করাতে হবে। কিন্তু মোকাদ্দেস তার ক্ষমতা ব্যবহার করে আমাকে হয়রানি করছে। কিন্তু সন্তানের চিকিৎসার জন্য কোনো সহযোগিতা করছে না। বরং সে টাকা পয়সা খরচ করে আমাকে দেশ থেকে তাড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছে।’
তিনি অভিযোগ করেন, মোকাদ্দেসের স্ত্রী ও বোন অতীতে আওয়ামী ক্ষমতাসীনদের ব্যবহার করে মবিনাকে হয়রানি ও হত্যার চেষ্টা করেছে। বর্তমানেও বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতাদের ব্যবহার করা হচ্ছে বলে জানান তিনি।
মবিনা জান্নাত তার সন্তানকে বিদেশে চিকিৎসার জন্য সহায়তা এবং আইনি সুরক্ষা নিশ্চিত করতে প্রধান উপদেষ্টার হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে এএনএইচ গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোকাদ্দেস হানিফ বলেন, ‘এই সন্তান আমার। বিষয়টি পরে সুরাহা করব।’