১২ দিন বন্ধের পর বেনাপোল বন্দরে আমদানি-রপ্তানি শুরু

১২ দিন বন্ধ থাকার পর আজ সোমবার সকাল থেকে বেনাপোল বন্দর দিয়ে শুরু হয়েছে দু’দেশের মধ্যে আমদানি রপ্তানি-বাণিজ্যসহ পণ্য খালাস প্রক্রিয়া। ফলে বন্দরে ফিরে এসেছে প্রাণচাঞ্চল্য, বন্দরে সৃষ্টি হয়েছে ভয়াবহ পণ্যজট। ৪ হাজার বন্দর হ্যান্ডলিং শ্রমিক কাজে যোগদান করেছে। কাস্টমস ও বন্দর কর্মকর্তাদের হিমশিম খেতে হচ্ছে পণ্য শুল্কায়ন ও ডেলিভারি দিতে।

রাজস্ব বোর্ডের একের পর এক কর্মসূচি ও আন্দোলনের কারণে মারাত্মক অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়েছে বেনাপোল কাস্টমস হাউজে।

বন্দর থেকে প্রতিদিন ৩/৪’শ ট্রাক পণ্য খালাস হলেও আন্দোলনের কারণে কোনো পণ্য চালান খালাস হয়নি। ফলে চলতি অর্থ বছরে রাজস্ব আদায়ে বেনাপোল কাস্টমস হাউসে বড় ধরনের ধস নামার আশঙ্কা করছে ব্যবসায়ীরা। ঈদের আগে এমন অচলাবস্থা তৈরি হওয়ায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে আমদানিকারক ও রপ্তানিকারকরা।

বেনাপোল সিএন্ডএফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক এমদাদুল হক লতা জানান, দীর্ঘ ১২ দিন বেনাপোল বন্দরে আমদানি-রপ্তানি বন্ধও পণ্য খালাস হয়নি। গতরাতে এনবিআর সংস্কার ঐক্য পরিষদ তাদের কর্মবিরতি প্রত্যাহার করে নেওয়ায় আজ সোমবার (২৬ মে) সকাল থেকে পুরোদমে কাজ শুরু হয়েছে কাস্টমস ও বন্দরে। গত ১৪ মে থেকে ২৫ মে পর্যন্ত টানা ১২ দিন কর্মবিরতি পালন করে কাস্টমস কর্মকর্তারা।

ইন্ডিয়া বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্সের ডাইরেক্টর মতিয়ার রহমান বলেন, ‘আমদানি পণ্য খালাস কার্যক্রম ব্যাহত হওয়াতে শিল্পের অনেক কাঁচামাল আটকে আছে। সময়মতো এগুলো খালাস নিতে না পারলে উৎপাদন কার্যক্রমও পিছিয়ে যাবে। তখন ব্যাহত হবে রপ্তানি কার্যক্রমও।

বেনাপোল কাস্টমস হাউজের রাজস্ব কর্মকর্তা শামীমা আক্তার বলেন, গতকাল রাতে জাতীয় রাজস্ব ঐক্য পরিষদের নেতারা সরকারের লিখিত আশ্বাস ও আলোচনার অগ্রগতির ভিত্তিতে কর্মবিরতির কর্মসূচি স্থগিত করা হয়েছে। একইসঙ্গে অংশীজনদের সম্মতিতে একটি টেকসই কাঠামো গঠনের প্রত্যাশাও ব্যক্ত করেছেন তারা। ফলে সকাল থেকে কাস্টমস ও বন্দরে পুরোদমে কাজ শুরু হয়েছে।

বেনাপোল বন্দর দিয়ে প্রতিদিন ৪৫০ থেকে ৫০০ ট্রাক পণ্য ভারত থেকে আমদানি হয়। আর বেনাপোল দিয়ে ২৫০ থেকে ২৮০ ট্রাক পণ্যবাহী ট্রাক ভারতে রপ্তানি হয়। দেশের ৭৫ ভাগ শিল্প প্রতিষ্ঠান ও গার্মেন্টস ইন্ডাস্ট্রিজের কাঁচামালের পাশাপাশি বিভিন্ন খাদ্যদ্রব্য ভারত থেকে আমদানি হয় এ বন্দর দিয়ে।