অনলাইন প্ল্যাটফর্ম ফেসবুকে শিশু শিক্ষা প্রকল্প (গাক) স্কুলে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দেয় একটি প্রতারক চক্র। প্রতারক চক্রটি চাকরিপ্রত্যাশীদের অফিসের যে নাম-ঠিকানা ব্যবহার করে তা সবই ভুয়া। ভুয়া বিজ্ঞাপন দিয়ে এরই মধ্যে চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে অনেকের কাছ থেকে প্রতারক চক্রটি লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে।
গতকাল রবিবার দুপুরে এক চাকরিপ্রত্যাশী নারী এবং সোমবার মানিকগঞ্জ থেকে আসা এক পুরুষ প্রতারককে টাকা দিতে এসে এক ব্যবসায়ীর বাসায় এলে জানতে পারেন তিনি প্রতারকদের খপ্পড়ে পরেছেন। আর এই চক্রের মূলহোতা সাইফুল ইসলাম দুপুর ১২টার আদলে ১টায় আসায় উল্টো ওই নারীর প্রতি মোবাইলে ক্ষুব্ধ হন প্রতারক সাইফুল। এ ঘটনা ঘটে উত্তরা ১৩ নম্বর সেক্টরের ১৪ নম্বর রোডের ৫১ নম্বর বাড়ির সামনে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে ভুক্তভোগী ওই পুরুষ জানান, গত ৩০ এপ্রিল শিশু শিক্ষা প্রকল্প (গাক) স্কুলে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দেখে তিনি সাইফুলের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। রবিবার দুপুর ১২টায় উত্তরার এই ঠিকানায় নগদ টাকাসহ আসতে বলেন সাইফুল। তার আসতে এক ঘণ্টা দেরি হয়। পরে তিনি ওই বাড়িতে প্রবেশ করলে বাড়ির মালিক মো. মনিরুজ্জামান জানতে চান তিনি কার কাছে এসেছেন। ওই নারী জানান, শিশু শিক্ষা প্রকল্প (গাক) স্কুলে শিক্ষক হিসেবে তিনি নিয়োগ পেয়েছেন। সাইফুলকে টাকা দিতে এসেছেন। পরে বাড়ির মালিক বলেন এটা পুরোটাই আবাসিক। এখানে কোনও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নেই। পরে সাইফুলের নম্বর নিয়ে মনিরুজ্জামান ফোনে কথা বললে প্রতারক সাইফুল জানান, তিনি এই বাসার ৪র্থ তলায় আছেন। দুপুর ১২টায় আসতে বলছি এখন কয়টা বাজে? সাইফুলের কাছে জানতে চান আপনার গ্রামের বাড়ি কোথায়? একথা বলার পর সাইফুল লাইন কেটে দেন। এরপর ওই বাড়ির মালিককে বিভিন্নভাবে হুমকি-ধমকি দিয়ে আসছেন। এ ঘটনায় উত্তরা পশ্চিম থানায় সাধারণ ডায়রি করেন মনিরুজ্জামান।
তিনি বলেন, প্রতারক সাইফুলকে ফোন করার পর তার বাসায় অজ্ঞাত এক যুবক আমার সম্পর্কে নিরাপত্তাকর্মীর কাছে আমার সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে চায়। এখন চরম নিরাপত্তাহীনতায় তিনি এবং তার পরিবার ভুগছেন।
বর্তমানে বিষয়টি তদন্ত করছেন ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) এয়াপোর্ট জোনাল টিমের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (এডিসি) মাহমুদুল হাসান। তিনি বলেন, আমরা ওই প্রতারক চক্রটিকে শনাক্ত করেছি। যে কোনও সময় তাকে গ্রেপ্তার করতে পারব।