আজহারুল ইসলামের মৃত্যুদণ্ড বহাল থাকবে কি না, রায় আজ

মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় জামায়াতে ইসলামীর নেতা এটিএম আজহারুল ইসলামের মৃত্যুদণ্ডের রায় বহাল থাকবে কি না, সে বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানাবেন দেশের সর্বোচ্চ আদালত। 

আজ মঙ্গলবার সকালে প্রধান বিচারপতি ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদের নেতৃত্বাধীন ৭ বিচারপতির পূর্ণাঙ্গ আপিল বেঞ্চ এই রায় ঘোষণা করবেন।

রায় ঘোষণার জন্য বিষয়টি সর্বোচ্চ আদালতের কার্যতালিকার শীর্ষে রাখা হয়েছে। এই মামলার রায় ঘিরে জামায়াতে ইসলামীর অসংখ্য নেতাকর্মী ও অনুসারীদের মধ্যে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা বিরাজ করছে।

এর আগে, গত ৮ মে এই মামলায় আপিল শুনানি শেষ হয়। আজহারুল ইসলাম তার মৃত্যুদণ্ডের বিরুদ্ধে আপিল করেছিলেন।

২০১৪ সালের ৩০ ডিসেম্বর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল মুক্তিযুদ্ধকালীন মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে এটিএম আজহারুল ইসলামকে মৃত্যুদণ্ডাদেশ দেন।

এর বিরুদ্ধে আপিল করলে ২০১৯ সালের ২৩ অক্টোবর তৎকালীন প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বে আপিল বিভাগ তার মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখেন। এরপর জামায়াত নেতা আজহার রায়ের বিরুদ্ধে রিভিউ আবেদন করেন।

আজহারের বিরুদ্ধে মুক্তিযুদ্ধকালীন রংপুর অঞ্চলে সংঘটিত বিভিন্ন অপরাধের অভিযোগ আনা হয়। এসবের মধ্যে ছিল— ১ হাজার ২৫৬ জনকে গণহত্যা বা হত্যা, ১৭ জনকে অপহরণ, একজনকে ধর্ষণ, ১৩ জনকে আটক রেখে নির্যাতন ও গুরুতর জখম এবং অসংখ্য বাড়িঘরে লুণ্ঠন ও অগ্নিসংযোগ।

মোট ৯ ধরনের অভিযোগের মধ্যে ৬টি মানবতাবিরোধী অপরাধে অভিযুক্ত হন আজহার। ট্রাইব্যুনাল এসব অভিযোগের মধ্যে ১ নম্বর বাদে বাকি পাঁচটি প্রমাণিত বলে রায়ে উল্লেখ করে এবং মৃত্যুদণ্ডাদেশ দেয়। তবে জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে রায়কে ‘প্রহসনের বিচার’ বলে অভিহিত করা হয়েছে।

২০১৫ সালের ২৮ জানুয়ারি জামায়াত নেতা আজহারের পক্ষে খালাস চেয়ে আপিল করেন তার আইনজীবীরা। সেই আপিল ছিল ১১৩টি যুক্তিনির্ভর বক্তব্যে সমৃদ্ধ, যার মূল অংশ ৯০ পৃষ্ঠার ও এর সঙ্গে সংযুক্ত নথিপত্রসহ ছিল মোট ২ হাজার ৩৪০ পৃষ্ঠা।