যুদ্ধাপরাধ মামলা

খালাস পেলেন জামায়াত নেতা এটিএম আজহারুল ইসলাম

মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় জামায়াতে ইসলামীর নেতা এটিএম আজহারুল ইসলামকে দেওয়া মৃত্যুদণ্ডের রায় বাতিল করেছেন দেশের সর্বোচ্চ আদালত। আজ মঙ্গলবার সকালে আপিল বিভাগ এই রায় ঘোষণা করেন। ফলে আজহারের মুক্তিতে আর কোনো আইনি বাধা থাকছে না বলে জানিয়েছেন তাঁর আইনজীবীরা।

প্রধান বিচারপতি ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদের নেতৃত্বে সাত সদস্যের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চ এ রায় দেন। বাংলাদেশের বিচারিক ইতিহাসে এটিই প্রথম ঘটনা, যেখানে মানবতাবিরোধী অপরাধে দণ্ডপ্রাপ্ত কোনো ব্যক্তি আপিল বিভাগে খালাস পেলেন।

আদালতের এদিনের রায়ের সময় আজহারের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির, ব্যারিস্টার এহসান আবদুল্লাহ সিদ্দিক, ব্যারিস্টার ইমরান আবদুল্লাহ সিদ্দিক ও ব্যারিস্টার নাজিব মোমেন।

রায়ের সময় জামায়াতের কেন্দ্রীয় নেতাদের মধ্যে আদালতে উপস্থিত ছিলেন নায়েবে আমির ডা. সৈয়দ আবদুল্লাহ মো. তাহের, ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা এটিএম মাসুম, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান, অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জোবায়ের, অ্যাডভোকেট মোয়াজ্জেম হোসেন হেলাল, নির্বাহী পরিষদ সদস্য মোবারক হোসেন, মাওলানা আব্দুল হালিম, অ্যাডভোকেট মতিউর রহমান, ঢাকা উত্তরের আমির সেলিম উদ্দিন, মাসুদ সাঈদী, ঢাকা মহানগর দক্ষিণের নায়েবে আমির ড. হেলাল উদ্দিন ও সহকারী সেক্রেটারি দেলোয়ার হোসেন।

এর আগে, গত ৮ মে জামায়াত নেতা আজহারের মৃত্যুদণ্ডের বিরুদ্ধে আপিলের শুনানি শেষ হয়। শুনানি শেষে আদালত রায় ঘোষণার জন্য ২৭ মে দিন ধার্য করেন।

শুনানিতে আজহারের পক্ষে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করেন অ্যাডভোকেট শিশির মনির। তাঁকে সহযোগিতা করেন অ্যাডভোকেট রায়হান উদ্দিন ও ব্যারিস্টার নাজিব মোমেন।

২০১৪ সালের ৩০ ডিসেম্বর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল এটিএম আজহারুল ইসলামকে মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত করে। অভিযোগ ছিল, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধকালে রংপুর অঞ্চলে তিনি গণহত্যা, হত্যা, অপহরণ, ধর্ষণ, আটক, নির্যাতন ও লুণ্ঠনসহ ছয়টি মানবতাবিরোধী অপরাধে জড়িত ছিলেন।

বিশেষ করে তার বিরুদ্ধে ১ হাজার ২৫৬ জনকে হত্যা ও গণহত্যা, ১৭ জনকে অপহরণ, একজন নারীকে ধর্ষণ, ১৩ জনকে আটক ও নির্যাতনের পাশাপাশি শতাধিক বাড়িঘর লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের অভিযোগ আনা হয়। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল ১ নম্বর অভিযোগ বাদে বাকি পাঁচটি অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় তাঁকে মৃত্যুদণ্ড দেয়। জামায়াত তখন থেকেই এ রায়কে ‘প্রহসনের রায়’ বলে অভিহিত করে আসছে।

২০১৫ সালের ২৮ জানুয়ারি আজহারের পক্ষে তার আইনজীবীরা খালাস চেয়ে আপিল করেন। ১১৩টি যুক্তির ভিত্তিতে ৯০ পৃষ্ঠার মূল আপিল এবং ২ হাজার ৩৪০ পৃষ্ঠার সংযুক্ত আপিল নথি আদালতে জমা দেওয়া হয়।

২০১৯ সালের ২৩ অক্টোবর আপিল বিভাগ আজহারের মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখে। সেই সময় প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ এ রায় দেন। পরে আজহারুল ইসলাম রিভিউ আবেদন করেন, যার শুনানি শেষে আজকের রায় আসে।

আইনজীবীরা বলছেন, সর্বোচ্চ আদালতের এই রায়ের ফলে এটিএম আজহারের মুক্তিতে আর কোনো আইনগত বাধা থাকল না।