আদালতের রায়ে আপত্তির অবকাশ নেই: গাজী এম এইচ তামিম

মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় জামায়াত নেতা এটিএম আজহারুল ইসলামের খালাস নিয়ে আপিল বিভাগের রায় প্রসঙ্গে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী গাজী এম এইচ তামিম জানিয়েছেন, আদালতের এই রায়কে তারা মেনে নিয়েছেন এবং এতে আপত্তির অবকাশ নেই। 

আজ মঙ্গলবার রায় ঘোষণার পর সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।

তিনি বলেন, ‘এই মামলায় আন্তর্জাতিক আইনের প্রযোজ্যতা ছিল না—এই অবস্থান শুরু থেকেই প্রসিকিউশনের ছিল না। বরং আমরা বরাবরই বলে আসছি, যেহেতু এটি একটি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল, তাই আন্তর্জাতিক আইনে অপরাধের সংজ্ঞা এবং কমান্ড রেসপনসিবিলিটির মতো বিষয়ের প্রয়োগ অত্যন্ত জরুরি। না হলে যে সমালোচনা আগে আমরা ট্রাইব্যুনালের রায়ে করেছিলাম, যে সেটি আন্তর্জাতিক মানসন্ধান পূরণ করে না, তা থেকেই যাবে।’

প্রসিকিউটর তামিম বলেন, ‘আমরা যেদিন প্রসিকিউশনে যোগ দিয়েছি, সেদিনই আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইন ১৯৯১ সংশোধন করে আন্তর্জাতিক আইনের প্রয়োগ নিশ্চিত করা হয়েছে। ফলে আজ যখন আপিল বিভাগ বলেছে, আন্তর্জাতিক আইনের প্রযোজ্যতা এখানে প্রয়োজনীয়—আমরা তাতে একমত এবং এই রায়ের পক্ষেই আমরা রয়েছি।’

তিনি জানান, মামলার মূল যুক্তিগুলো (মেরিট) আদালতে উপস্থাপন করা হয় এবং সেগুলোর ভিত্তিতে আদালত আসামিকে খালাস দিয়েছেন। প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে রায়ের বিরুদ্ধে আপত্তি জানানোর কোনো অবকাশ নেই।

সংবাদ সম্মেলনে গাজী তামিম আরও বলেন, ‘আমাদের দাখিল করা আবেদনে কিছু ক্লারিক্যাল ভুল ছিল, যা সংশোধন করে নতুন একটি আবেদন দাখিল করা হয়। সেখানে আমরা পরিষ্কারভাবে বলি, ট্রাইব্যুনালের দেওয়া রায় ও বিচার নিয়ে আপিল বিভাগ যেন ন্যায়বিচারের স্বার্থে সঠিক সিদ্ধান্ত নেন। সেক্ষেত্রে যেকোনো আদেশ দিলে আমরা তা মেনে নেব। আমরা ট্রাইব্যুনালের ভবিষ্যৎ বিচার ও বর্তমান কাঠামোর বিপক্ষে কোনো কিছু বলিনি, এমনকি কোনো আবেদনও দিইনি।’

তিনি আরও বলেন, ‘এই মামলা যেহেতু রিভিউ থেকে আপিলে এসেছে, তাই এর ওপরে বাংলাদেশের আর কোনো আদালত বা আন্তর্জাতিক ফোরাম নেই। এই রায়ের মাধ্যমে বর্তমান বিচারপদ্ধতি আরও আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত হয়েছে। ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এই ট্রাইব্যুনালের বিচার নিয়ে আর প্রশ্ন তুলতে পারবে না।’