যুদ্ধাপরাধ মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত জামায়াতে ইসলামীর নেতা এ টি এম আজহারুল ইসলামের খালাসের মধ্য দিয়ে ‘ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে’ বলে মন্তব্য করেছেন আইন উপদেষ্টা ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক আসিফ নজরুল।
আজ মঙ্গলবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এই মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, এই সুযোগ তৈরির কৃতিত্ব ‘জুলাই আন্দোলনের নেতাদের’।
আসিফ নজরুল লিখেছেন, ‘নির্দোষ প্রমাণ হওয়ায় মুক্তিযুদ্ধকালে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় মৃত্যুদণ্ডাদেশ থেকে খালাস পেয়েছেন জামায়াত নেতা এ টি এম আজহারুল ইসলাম। দণ্ডাদেশের বিরুদ্ধে তার করা রিভিউ সর্বসম্মতভাবে মঞ্জুর করেছেন প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ। আজহারুলকে মৃত্যুদণ্ড দিয়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের দেওয়া রায় এবং মৃত্যুদণ্ড বহাল রেখে এর আগে আপিল বিভাগের দেওয়া রায়—দুটিই বাতিল ঘোষণা করা হয়েছে আজকের রায়ে।’
তিনি আরও বলেন, ‘ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত’ হওয়ার যে সুযোগ তৈরি হয়েছে, সেটি রক্ষা করার দায় এখন ‘সবার’।
ছয় বছরের ব্যবধানে দ্বিতীয়বার আজহারের আপিল শুনানি হয় প্রধান বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদের নেতৃত্বাধীন সাত সদস্যের আপিল বেঞ্চে। সর্বসম্মত মতামতের ভিত্তিতে মঙ্গলবার তাকে বেকসুর খালাস দিয়ে রায় দেন আদালত।
জুলাই অভ্যুত্থানে সরকার বদলের পর নতুন প্রেক্ষাপটে এই রায় এলো। মুক্তিযুদ্ধকালীন মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় রিভিউ আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এটাই প্রথম খালাসের রায়।
রায়ের পর সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গণে উল্লাস প্রকাশ করেন আজহারের আইনজীবীরা। আদালত এলাকায় ধ্বনিত হয় জামায়াতে ইসলামীর প্রচলিত ‘নারায়ে তাকবির’ স্লোগান।
আজহারের আইনজীবী মো. শিশির মনির রায়ের পর তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় বলেন, ‘এই রায়ের মধ্য দিয়ে সত্য জয়ী হয়েছে, মিথ্যা পরাজিত হয়েছে।’
রায়ের সময় রাষ্ট্রপক্ষে উপস্থিত ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল অনীক আর হক। তবে রায়ের পরে তিনি সাংবাদিকদের কাছে কোনো মন্তব্য করেননি।
উল্লেখ্য, একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে রংপুরে গণহত্যা, হত্যা, অপহরণ ও নির্যাতনের ছয়টি ঘটনায় দোষী সাব্যস্ত করে ২০১৪ সালে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আজহারের বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ডের রায় দিয়েছিল। ২০১৯ সালে সেই রায় বহাল রাখে আপিল বিভাগ।
তবে সর্বোচ্চ আদালতের বর্তমান বেঞ্চ বলেছে, মামলার যেসব তথ্য ও প্রমাণ ছিল, তা আগের আপিল বিভাগ ‘সঠিকভাবে বিবেচনা করতে ব্যর্থ’ হয়েছে। তাই এখনকার আপিল বিভাগ সেই দুই রায় বাতিল করে আজহারের বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ থেকে তাঁকে বেকসুর খালাস দিয়েছে।
২০১২ সালের ২২ আগস্ট মগবাজারের নিজ বাসা থেকে গ্রেপ্তার হন জামায়াতে ইসলামীর তৎকালীন সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এ টি এম আজহারুল ইসলাম। সেই থেকে তিনি কারাগারেই ছিলেন।
সুপ্রিম কোর্টের সর্বশেষ রায়ে বলা হয়েছে, আজহারের বিরুদ্ধে অন্য কোনো মামলা না থাকলে তাঁকে অবিলম্বে মুক্তি দিতে হবে।