আজ বৃহস্পতিবার পালিত হচ্ছে আন্তর্জাতিক জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী দিবস। বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও দিবসটি উদযাপন করা হচ্ছে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায়। জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে অংশগ্রহণকারী সব দেশের শান্তিরক্ষীদের আত্মত্যাগ ও অবদান এই দিনে গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করা হচ্ছে। দিবসটি ঘিরে নেওয়া হয়েছে নানা কর্মসূচি।
গতকাল বুধবার পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানিয়েছে আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর)।
দিবস উদযাপন উপলক্ষে সকালে শান্তিরক্ষীদের স্মরণ করে শুরু হবে দিনব্যাপী কর্মসূচি। এ সময় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী (অব.)। তিনি ‘শান্তিরক্ষী দৌড় বা র্যালি-২০২৫’ উদ্বোধন করবেন।
এরপর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে হবে একটি বিশেষ আয়োজন। সেখানে আহত শান্তিরক্ষীদের সংবর্ধনা দেওয়া হবে এবং জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমের ওপর একটি উপস্থাপনা উপস্থাপন করা হবে। এই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ।
চার দশকের শান্তিরক্ষী অভিজ্ঞতায় বাংলাদেশ এখন পর্যন্ত বিশ্বের ৪৩টি দেশ ও স্থানে ৬৩টি জাতিসংঘ মিশনে অংশগ্রহণ করেছে। বর্তমানে ১০টি দেশে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে নিযুক্ত রয়েছেন বাংলাদেশের ৫ হাজার ৮১৮ জন শান্তিরক্ষী, যাঁদের মধ্যে ৪৪৪ জন নারী।
শুরু থেকে এখন পর্যন্ত জাতিসংঘ মিশনে দায়িত্ব পালনকালে শহীদ হয়েছেন বাংলাদেশের ১৬৮ জন শান্তিরক্ষী। এ বছর আহত দুজন শান্তিরক্ষীকে বিশেষভাবে সম্মাননা জানানো হচ্ছে।
দিবসটি উপলক্ষে প্রকাশ করা হচ্ছে বিশেষ স্মরণিকা ও জাতীয় দৈনিকে ক্রোড়পত্র। এ ছাড়া বাংলাদেশ টেলিভিশন, বাংলাদেশ বেতার এবং বিভিন্ন বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলে প্রচারিত হচ্ছে বিশেষ টক-শো। শান্তিরক্ষায় বাংলাদেশের ভূমিকার ওপর নির্মিত প্রামাণ্যচিত্রও এসব মাধ্যমে সম্প্রচার করা হচ্ছে।
আহত শান্তিরক্ষীদের সম্মাননা অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্যরা, বাংলাদেশে নিযুক্ত বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত ও হাইকমিশনার, জাতিসংঘের আবাসিক সমন্বয়কারী, তিন বাহিনীর প্রধান, সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার, পুলিশের মহাপরিদর্শক, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব এবং অন্যান্য সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তারা।