মুখের স্বাস্থ্য সামগ্রিক সুস্থতাকেই প্রভাবিত করে

আপনি কি জানেন আপনার মুখের সমস্যাগুলো আপনার শরীরের বাকি অংশকে প্রভাবিত করতে পারে? আমাদের স্বাস্থ্যের অংশ হিসেবে মুখের তাৎপর্য প্রায়ই উপেক্ষা করি। আবার অনেক সময় অবমূল্যায়ন করি।

আপনার মুখ, দাঁত এবং মাড়ির স্বাস্থ্য কেমন হবে

শরীরের অন্যান্য অংশের মতো, আপনার মুখ ব্যাকটেরিয়া দ্বারা পরিপূর্ণ এবং বেশিরভাগই ক্ষতিকারক। সঠিক মৌখিক স্বাস্থ্যবিধি ছাড়া, ব্যাকটেরিয়া এমন মাত্রায় পৌঁছাতে পারে যা দাঁতের ক্ষয় এবং মাড়ির রোগের মতো মুখের সংক্রমণের দিকে পরিচালিত করতে পারে। এ ছাড়াও কিছু ওষুধ যেমন অ্যান্টিহিস্টামাইন, ব্যথানাশক এবং অ্যান্টিডিপ্রেসেন্টস ইত্যাদি লালা প্রবাহ কমাতে পারে। লালা খাবার ধুয়ে ফেলে এবং মুখের ব্যাকটেরিয়া দ্বারা উৎপাদিত অ্যাসিডগুলোকে নিরপেক্ষ করে, আপনাকে জীবাণু থেকে রক্ষা করতে সাহায্য করে, যা সংখ্যা বৃদ্ধি করে এবং রোগের দিকে পরিচালিত করে।

মৌখিক ব্যাকটেরিয়া এবং মাড়ির রোগ (পিরিওডোনটাইটিস)-এর গুরুতর ফর্মের সঙ্গে যুক্ত প্রদাহ কিছু রোগে ভূমিকা পালন করতে পারে।

আপনার মৌখিক স্বাস্থ্য বিভিন্ন রোগ এবং অবস্থার জন্য অবদান রাখতে পারে, যার মধ্যে রয়েছে : এন্ডোকার্ডাইটিস, গর্ভাবস্থা, জন্মগত জটিলতা, নিউমোনিয়া, ডায়াবেটিস, অস্টিওপোরোসিস, ইমিউন সিস্টেম ডিসঅর্ডার যা শুষ্ক মুখের কারণ (Sjogren’s syndrome)  ইত্যাদি।

যা করতে হবে

আপনার মৌখিক স্বাস্থ্যরক্ষা করতে, প্রতিদিন যা অবশ্যই করতে হবে

দিনে অন্তত দুবার প্রতিবার দুই মিনিটের জন্য দাঁত ব্রাশ করুন।

প্রতিদিন খাবার গ্রহণের পর ফ্লস করুন।

ব্রাশ এবং ফ্লস করার পরে অবশিষ্ট খাদ্যকণা অপসারণ করতে মাউথওয়াশ ব্যবহার করুন।

একটি স্বাস্থ্যকর খাদ্য খান এবং চিনিযুক্ত খাবার এবং পানীয় সীমিত করুন।

প্রতি তিন থেকে চার মাস অন্তর আপনার টুথব্রাশ প্রতিস্থাপন করুন

নিয়মিত ডেন্টাল চেকআপ এবং পরিষ্কারের সময়সূচি মেনে চলুন।

তামাক ব্যবহার এড়িয়ে চলুন। এ ছাড়াও যেকোনো মৌখিক স্বাস্থ্য সমস্যা দেখা দিলেই আপনার দাঁতের ডাক্তারের সঙ্গে পরামর্শ নিতে পারেন।

প্রতি ছয় মাস পর পর দাতের স্কেলিং করিয়ে নিন।

মনে রাখবেন দাঁতের কোনো সমস্যা হলেই শুধু ডাক্তারের কাছে যাবেন না। নিয়ম করে বছরে একবার  দাঁতের ডাক্তারের কাছে যাওয়ার চেষ্টা করবেন।