বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট গভীর নিম্নচাপের প্রভাবে সৃষ্ট জোয়ারে প্লাবিত হয়েছে সুন্দরবনের বিস্তীর্ণ এলাকা। টানা জোয়ারের পানিতে ডুবে এক হরিণের মৃত্যু হয়েছে, অন্যদিকে ভেসে আসা একটি হরিণ শাবককে উদ্ধার করে বনে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি বনের মধ্যে অবস্থিত মিষ্টি পানির আধার—পুকুরগুলো লবণাক্ত জোয়ারের পানিতে প্লাবিত হয়ে ব্যবহারের অযোগ্য হয়ে পড়েছে।
গত দুই দিনে চার দফা জোয়ারে সুন্দরবনের বিস্তীর্ণ অংশ তলিয়ে যায়। পূর্ব সুন্দরবনের দুবলারচর, আলোরকোল, কোকিলমনি ও শেলারচরের মতো বঙ্গোপসাগরসংলগ্ন এলাকাগুলো সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
এ প্রসঙ্গে পূর্ব সুন্দরবন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মো. রেজাউল করিম চৌধুরী জানান, ‘বঙ্গোপসাগরের গভীর নিম্নচাপের কারণে জোয়ারের পানির উচ্চতা স্বাভাবিকের চেয়ে দুই থেকে চার ফুট বেশি ছিল। এতে সুন্দরবনের বেশ কিছু এলাকা প্লাবিত হয়েছে। জোয়ারের পানিতে একটি হরিণ মারা যায়। আরেকটি শাবককে ভেসে আসার পর উদ্ধার করে বনে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে। বনের বন্যপ্রাণীরা যাতে নিরাপদে থাকতে পারে, সেজন্য বন বিভাগের উদ্যোগে বিভিন্ন স্থানে মাটির উঁচু ডিবি তৈরি করা আছে। প্রাণীরা সেখানে আশ্রয় নিয়েছে বলে বড় ধরনের ক্ষতি হয়নি।’
একই সঙ্গে তিনি জানান, জোয়ারের পানিতে প্লাবিত হওয়ায় বনের ভেতরের মিষ্টি পানির পুকুরগুলোতে লবণ পানি ঢুকে পড়েছে। এতে প্রাণিকুলের জন্য বিশুদ্ধ পানির সংকট দেখা দিয়েছে।
অন্যদিকে, টানা বৃষ্টিতে বাগেরহাট পৌর শহর ও জেলার বিভিন্ন নিম্নাঞ্চল জলাবদ্ধ হয়ে পড়েছে। ড্রেনেজ ব্যবস্থার দুর্বলতার কারণে এই জলাবদ্ধতা আরও প্রকট হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
বাগেরহাট শহরের শিশু হাসপাতালের মোড় এলাকার বাসিন্দা ফিরোজা বেগম বলেন, ‘প্রতিবছর বর্ষা মৌসুম এলেই এই দুর্ভোগ পোহাতে হয়। সামান্য বৃষ্টিতেই পানি ঘরে ঢুকে পড়ে, রান্না করাও বন্ধ হয়ে যায়। পানি জমে থাকে উঠানে ও রাস্তায়, কিন্তু নিষ্কাশনের কোনো ব্যবস্থা নেই।’
পৌর শহরের বাসাবাটি, খারদ্বার, সাহাপাড়া, রাহাতের মোড়, থানার মোড়, কাজী নজরুল ইসলাম সড়ক, পুরাতন বাজার, দাসপাড়ার মোড়, রেলরোড ও পোস্ট অফিস এলাকা বৃষ্টির পানিতে ডুবে গেছে। পাশাপাশি জেলার শরণখোলা, মোরেলগঞ্জ, মংলা ও রামপাল উপজেলার নিম্নাঞ্চলেও বৃষ্টির কারণে জলাবদ্ধতার খবর পাওয়া গেছে।
বাগেরহাট কৃষি অধিদপ্তরের ভারপ্রাপ্ত উপপরিচালক মোতাহার হোসেন জানান, ‘গত ৪৮ ঘণ্টায় জেলায় ৯৬ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে, যা এ বছরের সর্বোচ্চ। তবে এতে মাঠে থাকা ফসলের তেমন কোনো ক্ষতির আশঙ্কা নেই।’
জেলা প্রশাসক আহমেদ কামরুল হাসান বলেন, ‘গভীর নিম্নচাপের প্রভাবে উপকূলীয় এলাকায় বৃষ্টির কারণে কিছু নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। এতে নিম্ন আয়ের মানুষের দুর্ভোগ বেড়েছে। তবে বড় কোনো ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।’
তিনি আরও জানান, বাগেরহাট পৌর এলাকার জলাবদ্ধতা নিরসনে সাড়ে পাঁচ কিলোমিটার প্রশস্ত ড্রেন নির্মাণের কাজ চলমান রয়েছে। এটি শেষ হলে আগামী বর্ষায় জলাবদ্ধতা অনেকটাই কমে আসবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।