জোয়ারের পানি ও পাহাড়ি ঢলে উভয় সংকটে বাঁশখালীবাসী

চট্টগ্রামে বাঁশখালীর চলমান ঝড়-বৃষ্টিতে উভয়মুখী সংকটে পড়েছে। একদিকে বঙ্গোপসাগরের ঝড়ে হওয়ার ফলে উপকূলীয় বেড়িবাঁধ উপচে পানি প্রবেশ করছে লোকালয়ে অপরদিকে অতিবৃষ্টির ফলে পাহাড়ি ঢলে ক্ষতি হচ্ছে ফসলি জমিসহ বাড়ি-ঘর। উভয় সংকটের মাঝে বিদ্যুৎবিহীন দুর্বিষহ সময় পার করছে বাঁশখালীর কয়েক লাখ মানুষ।

প্রতিবছর বর্ষা মৌসুম এলে উপকূলের জনগণের মাঝে আতঙ্ক নেমে আসে, এবার ও তার ব্যতিক্রম হয়। বেশ কিছু এলাকা অরক্ষিত থাকায় এবং উপকূলীয় বেড়িবাঁধ উপচে পানি লোকালয়ে প্রবেশ করায় আবারও আতঙ্কে সময় পার করছে এ এলাকার মানুষ। বর্তমানে বয়ে যাওয়া বাতাস ও ঝড়ো হওয়ার ফলে বাঁশখালীর উপকূলের খানখানাবাদ, সাধনপুর, পুকুরিয়া, বাহারছড়া, সরল, গন্ডামারা, ছনুয়াসহ বিভিন্ন স্থানে বেড়িবাঁধ উপচে পানি লোকালয়ে প্রবেশ করছে।

ফলে একদিকে জনবসতি অপরদিকে ফসলি ক্ষতির মুখে পড়েছে বলে জানা গেছে। অপরদিকে অতিবৃষ্টির ফলে পাহাড়ি পানি লোকালয়ে প্রবেশ করে ফসলি জমি ও সবজির ক্ষেত এর ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে বলে স্থানীয়রা জানান। বাঁশখালীর পূর্বাঞ্চলের পুইছড়ি, চাম্বল, শীলকুপ, বাঁশখালী পৌরসভার জলদী, বৈলছড়ি, কালীপুর, সাধনপুর, ও পুকুরিয়া এলাকায় পাহাড় থেকে নেমে আসা বৃষ্টির পানিতে বেশ কিছু এলাকা প্লাবিত হয়েছে বলে জানা যায়।

অতিবৃষ্টির ফলে পাহাড়ধস হতে পারে এ আশঙ্কায় উন্নয়ন সংস্থা ইপসার স্বেচ্ছাসেবকরা ও দুর্যোগ ব্যবস্থা কমিটির সদস্যরা পাহাড়ি এলাকায় প্রচারণা করছে পাহাড়ি এলাকায় বসবাস রতদের নিরাপদ আশ্রয়ে যাওয়ার জন্য। এদিকে যেকোনো ধরনের দুর্যোগ মোকাবেলায় ঘূর্ণিঝড় প্রস্তুতি কর্মসূচি (সিপিপি) বাঁশখালীর ১০টি ইউনিয়নের ১৪২০ জন স্বেচ্ছাসেবক প্রস্তুত রয়েছে  বলে জানান সিপিপির উপজেলা টিম লিডার মো. ছগীর। তিনি বলেন, আমাদের স্বেচ্ছাসেবকরা মাঠে রয়েছে, দুর্যোগে জনগণকে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিতে।

খানখানাবাদ ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মো. শহিদুল ইসলাম সিকদার বলেন, বর্তমানে বেড়িবাঁধ উপচে আমার ইউনিয়নের খানখানাবাদ, কদমরসুল ও সন্দীপিপাড়াসহ নানা স্থানে প্লাবিত হয়েছে। ভাটার সময় পানি কমে আসলে ও যে সব এলাকায় বেড়িবাঁধ নেই সে সব এলাকার জনগণ আতঙ্কে রয়েছে।

পুকুরিয়া ইউনিয়নে সাঙ্গু নদীর জোয়ারের পানি এবং পাহাড়ি ঢলে কিছু এলাকায় জোয়ারের পানি প্রবেশ করছে বলে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা জানান। সাধনপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান কেএম সালাহ উদ্দিন কামাল বলেন, অতিবৃষ্টি এবং সাগরের জোয়ারের প্রভাবে ইউনিয়নের রাতা গ্রামের কৈবর্ত্য পাড়ার বেশ কিছু পরিবারে জোয়ারের পানি প্রবেশসহ বেশ কিছু এলাকা জলমগ্ন হয়েছে বলে তিনি জানান।

পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা যায়, মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণ বাজেটের (রিপেয়ার ও মেইটেনেইজ) আওতায় বাঁশখালীর উপকূলীয় গন্ডামারায় ১৫৫১ মিটার, ছনুয়াতে ৩৫০ মিটার, শেখেরখীলে ১৭৫ মিটার, চাম্বলে ২০০ মিটার, ও খানখানাবাদে ৮৩০ মিটার কাজ চলমান রয়েছে। যা আগামী জুনের মধ্যে কাজ শেষ হবার কথা রয়েছে। এদিকে পানি উন্নয়ন বোর্ডের চলমান উন্নয়ন কাজে নানা অসঙ্গতি এবং এ কাজ পেতে স্থানীয় জনগণের মাঝে দ্বন্দ্ব সংঘাতের ফলে সুফল পাচ্ছে না উপকূলের জনগণের অভিযোগ।

বাঁশখালী উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহাম্মদ জামশেদুল আলম বলেন, চলমান ঝড়বৃষ্টিতে উপকূলীয় ছনুয়া, খানখানাবাদ এলাকায় জোয়ারের পানি ঢুকার খবর পেয়েছি। তবে বড় ধরনের কোনো ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি বলে তিনি জানান।